শিরোনাম :

পীরগঞ্জে ‘ইয়েস কার্ডের’ মাধ্যমে ধান সংগ্রহ!


বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০১৬, ০১:৩০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পীরগঞ্জে ‘ইয়েস কার্ডের’ মাধ্যমে ধান সংগ্রহ!

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জে ইয়েস কার্ডের মাধ্যমে সরকারী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ করা হবে। এ জন্য সরকারী দলের স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সিন্ডিকেট করেছে। ওই সিন্ডিকেটে রাজনীতিবিদ, গুদাম সংশ্লিষ্ট দালাল, ব্যবসায়ী ও ফড়িয়া এবং ৩য় পক্ষের চিহ্নিত দালালেরা সদস্য থেকে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে তালিকা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে। গুদামে ধান দিতে কৃষকদের পরিবর্তে সিন্ডিকেট সদস্যদেরই মাথা ব্যথা বেশী হচ্ছে।

গত রোববার অসম্পূর্ণ তালিকা নিয়েই জেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ইউএনও ধান ক্রয়ের উদ্বোধন করেছেন।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি ইরি-বোরো মৌসুমে পীরগঞ্জ উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের ৩৬ টি কৃষি ব্লক রয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগের ওইসব ব্লকের অধীনে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ২৪ হাজার হেক্টর জমি ধরা হলেও ২৩হাজার ৮’শ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী প্রতি হেক্টরে ৫ মে.টন ধান উৎপাদন হয়েছে। সে হিসাবে ১লাখ ১৯ হাজার মে. টন ইরি ধান চাষ হয়েছে। অপরদিকে এবারে সরকার খাদ্য গুদামে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ৩ হাজার ৪৭০ মে.টন ধান সংগ্রহ করবে। ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকরা খুশী হলেও ধান মাড়াইয়ের শুরুর দিকে ধানের বাজার মুল্য নিম্নমুখী ছিল। তখন প্রতি মণ ধান সাড়ে ৩’শ থেকে ৩৮০টাকা ছিল। কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে পারেনি। বর্তমানে প্রতি মণ ধান ৫’শ থেকে ৫১০টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

সরকারী খাদ্য গুদামে এবারে ধানের মণ ৯২০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সরকারের ধান সংগ্রহের মূল্য বেশী হওয়ায় ইতিমধ্যেই প্রতিবছরের ন্যয় গুদামে সিন্ডিকেট গড়ে তোলা হয়েছে। তবে সকল শর্ত ঠিক রেখে ব্যবসায়ী-দালাল-ফঁড়িয়া ও নেতারাই গুদামে ধান দেয়ার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।

সূত্রে আরও জানা গেছে, গুদামে ধান দিতে গেলে কৃষকদের জন্য এবারে সরকারী বেশকিছু শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে। শর্তগুলো হলো কৃষি ভুর্তুকির কার্ড, মোবাইল নম্বর, জাতীয় পরিচয় পত্র, আবাদী জমির পরিমানসহ পুরো ঠিকানা দিয়ে কৃষি বিভাগ তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা খাদ্য ক্রয় কমিটিতে প্রেরণ করবে। ওই কমিটি আবারো ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে পাঠাবেন। এরপর ওই তালিকা উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তার কাছে পৌঁছালে তারপর ধান ক্রয় করা হবে। ইতিমধ্যেই উপজেলা কৃষি বিভাগ কৃষকদের তালিকা তৈরী করে খাদ্য ক্রয় কমিটিতে প্রেরণ করেছে। অনেক কৃষক জানে না তিনি তার উৎপাদিত ধান গুদামে দিতে পারবেন কিনা? কারন কৃষি বিভাগের তালিকা কাটছাট করে গুদাম কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। ফলে কৃষকদের মাথা ব্যথা না হলেও ব্যবসায়ী-ফড়িয়া, দালালদের মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে। অপরদিকে সরকারী দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারাও প্রায় ২’শ টি করে কৃষকের নামে তালিকা করেছে। ওই তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তিতে কৃষকরা দৌড়ঝাপ করলেও অনেকেই নাম তালিকায় উঠেনি। ফলে কোন তালিকায় ধান সংগ্রহ হবে এ নিয়ে কৃষকরা টেনশনে পড়েছে কৃষকরা।

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শহিদুল্লাহ মিয়া জানান, কৃষকের তালিকার ক্ষেত্রে উপজেলা খাদ্য কমিটিই সর্বেসর্বা। আমরা শুধু ধান সংগ্রহে তালিকাটির নামগুলো ব্যবহার করবো। এবারে বৃহৎ পরিমানে ধান সংগ্রহ হওয়ায় উপজেলার অধিকাংশ ব্যবসায়ী ধান সংগ্রহের মরিয়া হয়ে উঠেছে। কারন এবারে পীরগঞ্জে অতীতের তুলনায় কয়েকগুন বেশী ধান সংগ্রহ কর হবে।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সরকারী খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহের বরাদ্দের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সম্পাদকের জন্য ৩ মে. টন করে ৬ মে. টন; প্রতিজন ইউপি সদস্যের নামে ৩ মে. টন; প্রতিটি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার নামে ৩০ মে. টন এবং অবশিষ্ট বরাদ্দ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের পছন্দ মোতাবেক কৃষকদের নামে ভাগ করে দেবেন।

গতকাল ধান সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে এসে রংপুর জেলা খাদ্য কর্মকর্তা (ডি.সি ফুড) এসএম সাইফুল ইসলাম বলেন, সরকার প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান নিয়ে কৃষককে ন্যায্য মূল্য দিতে এবারে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। পাশাপাশি এবারে মওসুমের শুরুইে ধান সংগ্রহের জন্য সরকারীভাবে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল।

এইচআরএস/এমএল

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন