শিরোনাম :
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডব

শরীয়তপুরে পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ক্ষতির মুখে কৃষক


রবিবার, ৫ জুন ২০১৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শরীয়তপুরে পানিতে তলিয়ে গেছে ধান, ক্ষতির মুখে কৃষক

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডব এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে ‘সোনালী ইরি প্রজেক্টে’র আওতায় ১৩টি মৌজার প্রায় ২৫০০ একর জমির ইরি ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

বিস্তৃর্ণ এলাকা জুড়ে পাকা ধান পানির নীচে ডুবে থাকায় নষ্ট হয়ে গেছে। কোন ধানই কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছে না। এতে করে সর্বশান্ত হয়ে পড়েছে চার হাজার কৃষি পরিবার।

রোববার বিকেল সাড়ে ৫টায় সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ‘সোনালী ইরি প্রজেক্টের’ ম্যানেজার মজিবুর রহমান খান।

তিনি বলেন, এ বছর ‘সোনালী ইরি প্রজেক্টের’ আওতায় ১৩টি মৌজার প্রায় ২৫০০ একর জমিতে ইরি ধানের চাষ করা হয়েছে। এতে খরচ হয়েছে কোটি টাকার উপরে। এর মধ্যে ৫২ লক্ষ টাকা বিভিন্ন ব্যাংক এবং বেসরকারি সংস্থা থেকে নিয়ে প্রজেক্টের কাজ চালিয়েছি।

তিনি আরো বলেন, আশা করেছিলাম এবারের ধান তুলে সকলের সমস্ত টাকা পরিশোধ করে দেব। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডব এবং প্রবল বৃষ্টির কারণে আমাদের সমস্ত ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমি সর্বশান্ত হয়ে গেছি। ব্যাংকের ঋণ আমি কি ভাবে পরিশোধ করবো তা বুঝতে পারছি না।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এ বছর শরীয়তপুর সদর উপজেলায় ৫ হাজার ৯শ ৯০ হেক্টর জমিতে ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু তাদের লক্ষ্য মাত্রা অনুযায়ী ধান চাষ কম হয়েছে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার হুগলী গ্রামের ধান চাষী মজিবর মোল্যা বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমাদের ধানের ফলন ভাল হয়েছিল কিন্তু অতি মাত্রায় ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডব এবং প্রবল বৃষ্টির কারনে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি।

একই গ্রামের ধান চাষী হাবিবুর রহমান মোল্যা বলেন, এ বছর ধানের আবাদ ভাল হলেও প্রবল বৃষ্টির কারনে ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষি অফিস থেকে আমরা কোন সাহায্য সহযোগিতা পাইনি।

এ ব্যাপারে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর শরীয়তপুর জেলায় ধানের আবাদ ভাল হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ও প্রবল বৃষ্টির কারণে কৃষকদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। কৃষকরা তাদের ধান কেটে ঘরে তোলার আগেই ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডবে সব নষ্ট হয়ে গেছে।

জেএস/এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন