শিরোনাম :

গৌরনদী মৎস্য হ্যাচারীতে রেনু উৎপাদন বন্ধ


বুধবার, ২২ মার্চ ২০১৭, ০২:০১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

গৌরনদী মৎস্য হ্যাচারীতে রেনু উৎপাদন বন্ধ

শামীম আহমেদ, বরিশাল: নানা সমস্যার কারণে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মাছের রেনু উৎপাদন বন্ধ রয়েছে জেলার গৌরনদী উপজেলার একমাত্র সরকারী মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্রের হ্যাচারীতে। এ কারণে বিপাকে পরেছেন এলাকার মৎস্য চাষীরা।

বিপুল অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এ মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্রটি এলাকার মৎস্য চাষীদের কোন উপকারেই আসছেনা। নিরুপায় হয়ে মাছ চাষীরা মাছের রেনুু সংগ্রহ করছেন ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত স্থানীয় কয়েকটি হ্যাচারী থেকে।

সূত্রমতে, অনেক মৎস্য চাষীরা রেনু বা মাছের পোনা সংগ্রহ করছেন যশোর, কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে। একই অবস্থা সরকারী মৎস্য কেন্দ্রের। নিজস্ব খামারে পোনা উৎপাদন না হওয়ায় এখানকার নয়টি পুকুরে অন্যস্থান থেকে রেনু ক্রয় করে এনে ছাড়া হচ্ছে। মাঝে মধ্যে বাজার থেকে পোনা ক্রয় করে খামার কর্তৃপক্ষ সরকারী জলাশয় কিংবা উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করছেন। অথচ যে লক্ষ্য নিয়ে এ খামারের পিছনে সরকার প্রতি বছর কোটি টাকা ব্যয় করছেন তার কোন উপকারই পাচ্ছেন না স্থানীয় পর্যায়ের চাষীরা।

গত কয়েক বছর পূর্বে গৌরনদী মৎস্য খামারের চারিপাশে কোটি টাকা ব্যয়ে বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করা হয়েছে। গত বছর প্রায় ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে চারটি পুকুরের চারিপাশে গাইড ওয়াল নির্মান করা হয়।

এছাড়া প্রতিবছর পোনা উৎপাদনের নামে সরকারীভাবে বিপুল অর্থ বরাদ্দ করা হলেও তার কোন হদিস নেই। মৎস্য হ্যাচারীটি চালুর ব্যাপারে দীর্ঘদিনেও কোন উদ্যোগ নেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে সরকারী উদ্যোগে উপজেলার দক্ষিণ পালরদী মৌজায় ১৪ একর জমির ওপর এ মৎস্য কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়। মাছের পোনা উৎপাদনের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয়ে এখানে খনন করা হয় বৃহত পরিসরের নয়টি পুকুর।

১৯৮৫ সালে এখানে রেনু উৎপাদনের জন্য একটি হ্যাচারী তৈরী করা হয়। মাত্র দুই বছর যেতে না যেতেই হ্যাচারীতে রেনু উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সূত্রে আরও জানা গেছে, হ্যাচারীর জন্য গভীর নলকূপ থেকে তোলা পানি লবনাক্ত।

নোনা পানিতে পোনা উৎপাদন করা যায়না এ অযুহাত দেখিয়ে পোনা উৎপাদন বন্ধ করে দেয় খামার কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে দীর্ঘদিন যাবত চালু না থাকায় হ্যাচারীর গভীর নলকূপটি বিকল হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যায় হ্যাচারীতে রেনু উৎপাদনের জন্য ব্যবহৃত পানি উত্তোলনের পাম্প মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন থেকে পোনা উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সরকারী মৎস্য খামারের একমাত্র হ্যাচারীটি এখন ষ্টোর রুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। হ্যাচারীর বাইরে তৈরী করা পাকা হাউজগুলোর মধ্যে বিভিন্ন গাছপালা জন্মে একাকার হয়ে গেছে। এসব রক্ষণা বেক্ষন কিংবা দেখার জন্য যেন কেউ নেই।

গৌরনদীর দক্ষিণ পালরদী গ্রামের মাছের পোনা ব্যবসায়ী মুজাফ্ফর হাওলাদার, বাবুল সরদার ও উত্তর পালরদী গ্রামের মিরন জানান, সরকারী খামারে পোনা না থাকায় তারা দাসেরহাট ও গুপ্তের হাটসহ স্থানীয় ব্যক্তি মালিকানাধীন হ্যাচারী থেকে চড়া দামে পোনা ক্রয় করে গ্রামে ঘুরে বিক্রি করে থাকেন।

গৌরনদী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও খামারের পাশ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দা লিটন বেপারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় ৩০ বছর থেকে সরকারী মৎস্য খামারে রেনু উপাদন হচ্ছেনা। আগে এখানে মৎস্য চাষীদের প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। দীর্ঘদিন থেকে তাও বন্ধ রয়েছে। অথচ এ খামারের জন্য সরকারের প্রতিবছর বিপুল পরিমান অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তিনি দ্রুত হ্যাচারীটি চালুর ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ ব্যাপারে গৌরনদী মৎস্য খামারের ব্যবস্থাপক দেবব্রত বিশ্বাস বলেন, মাত্র আট মাস আগে আমি এখানে যোগদান করেছি। বন্ধ হয়ে যাওয়া হ্যাচারীটি চালু করাসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা ইতোমধ্যে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। খুব শীঘ্রই হ্যাচারীটি চালু করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন