শিরোনাম :

রংপুরে ১’শ একর বোরো ক্ষেত পানির নীচে !


বৃহস্পতিবার, ৬ এপ্রিল ২০১৭, ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রংপুর প্রতিনিধি: রংপুরের পীরগঞ্জে চৈত্র মাসের বৃষ্টিতে ১’শ একর বোরো ক্ষেত গত ১ সপ্তাহ ধরে পানির নীচে তলিয়ে রয়েছে। উপজেলার বড়বিলা স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় ওই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। স্লুইস গেটটি বন্ধ থাকায় বড়বিলাতেও প্রায় দেড়’শ একর জমির বোরো ধান রক্ষা পাচ্ছে। উজানের কৃষকরা ধান বাঁচাতে দৌড়ঝাপ করায় শ্যাম রাখি, না কুল রাখি অবস্থা হয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের।

এলাকার ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, মধ্য চৈত্র মাসের গত বৃহস্পতিবার রাতে পর্যাপ্ত বৃষ্টির ফলে আখিরা নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। এতে বড়বিলা স্লুইস গেট এলাকার কৃষকরা তাদের বোরো ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাবার আশংকায় বড়বিলা স্লুইস গেটটির ৯ টি গেট বন্ধ করে দেয়। ফলে আখিরা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উজানের মদনখালী ইউনিয়নের কয়েকটি প্রায় ১’শ একর বোরো ক্ষেত পানির নীচে তলিয়ে যায়।

গ্রামগুলো হচ্ছে- বগেরবাড়ি, বারুদহ, শ্যামপুর, হাসারপাড়া, বটপাড়া, মদনখালী ও খয়েরবাড়ি। খয়েরবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান, সাজেদুল, মদনখালীর জাহিদুল, গোলাপ মিয়া, বগেরবাড়ির পলাশ, বেলাল হেসেন, বারুদহের মনোয়ার, সাজেদুল ইসলাম জানান, ধান রক্ষার ব্যাপারে আমরা ইউএনও, পৌর মেয়র এবং কৃষি বিভাগকে অবগত করার পর গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০ টায় ইউএনও কমল কুমার ঘোষ স্বয়ং উপস্থিত থেকে স্লুইস গেটের ২টি গেটের (রেগুলেটর) আংশিক খুলে দেন। তিনি চলে যাবার পর রেগুলেটর সংলগ্ন গ্রাম গাড়াবেড় নখারপাড়ার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে এসে গেট ২ টি বন্ধ করে দেন।

স্লুইস গেট এলাকার চাষীরা জানান, পানি আটকে না রাখলে ভাটি এলাকার কয়েক’শ একর জমির বোরো ধান ক্ষেত ডুবে যাবে। এদিকে গেট বন্ধ করে দেয়ায় নদীর উজানে গ্রামগুলোর বোরো ক্ষেত আবারও পানিতে সয়লাব হয়ে যায়। পরদিন বুধবার আবারও ইউএনওকে অবগত করা হলে তিনি আর কোন পদক্ষেপ নেননি বলে কৃষকরা অভিযোগ করেন। পানি না কমালে আগামী সপ্তাহে ওই বোরো জমির ধানগুলো সম্পুর্ন নষ্ট হয়ে যাবে মর্মে আশংকা করা হচ্ছে। ইউএনও কমল কুমার ঘোষ বলেন- আমি তো গেট খুলে দিয়েছিলাম। পরে তা আবার কেউ বন্ধ করে দিলে আমার কি করার আছে ?

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘোষ জানান, বড়বিলা স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় আখিরা নদীর উজানে কয়েকটি মদনখালী ইউনিয়নের ৫০/৬০ একর জমির বোরো ধান পানির নীচে তলিয়ে গেছে। এদিকে স্লুইস গেট বন্ধ থাকায় বড়বিলার ১’শ একর জমিতে বোরো ধান রক্ষা পাচ্ছে। এখন আমাদের শ্যাম রাখি, না কুল রাখি অবস্থা চলছে।

এইচআর/এমকে

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন