শিরোনাম :

ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি রাবি কৃষি প্রকল্পের শ্রমিকদের!


বুধবার, ৩ মে ২০১৭, ০৪:২২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাবি প্রতিনিধি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের শ্রমিকদের আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে ছুটি নেই।

১৯৭৬ সালে মাস্টার রোলে দিনে মাত্র ৭ টাকা মজুরিতে কাজ শুরু করেন মসের উদ্দিন। প্রথমে যে মাস্টার রোলে তাদেরকে মজুরী দেওয়া হতো তা উঠিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুরুতে চাকুরী স্থায়ীরও আশ্বাস পেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ ৪১ বছরেও সেই আশ্বাস পুরণ হয়নি এমনটাই জানিয়েছেন কৃষি প্রকল্পের শ্রমিক মসের উদ্দিন।

তিনি আরও বলেন, সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করে দিনশেষে আমাদেরকে মাত্র ২৩০ টাকা দেয়া হয়। আগে এই টাকাতেই চলতো, তবে খাদ্য-পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমাদের মাঝে মাঝেই অনাহারে দিন যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কৃষি প্রকল্পে এরকম আরও ২৪ জন দিন মজুর আছেন। কেউ ৪০, কেউ ৩৫ বছর ধরে কাজ করছেন। তবে এখনো ভাগ্যের উন্নতি হয়নি তাদের।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রকল্প সহ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় দুই শতাধিক কর্মচারী মাস্টার রোলে আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীদের দিনে ৮ ঘণ্টার ৫০০ টাকা এবং চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের দিনে ৪৫০ টাকা ধার্য আছে। অন্য শ্রমিকদের ৮ ঘণ্টায় নির্ধারিত টাকা দেওয়া হলেও কৃষি প্রকল্পের শ্রমিকদের সেটা দেওয়া হয় না। সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত প্রথম শিফটে ১৬০ টাকা এবং বিকেল ৩ টা থেকে ৬টা (কোন কোন সময় রাত ১০টা) মাত্র ৭০ টাকা দেওয়া হয়।

আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষে সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি এবং স্বায়ত্তশাসিত সব প্রতিষ্ঠানে ছুটি থাকলেও প্রকল্পের শ্রমিকদের জন্য ছুটি বরাদ্দ নেই।

আরেক কর্মচারি হজরত আলি তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শ্রমিকদের মতো সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হন তারা। একদিন কাজে না আসলে কয়েকদিনের জন্য কাজ থেকে বাইরে থাকতে বলা হয়।

শ্রমিকদের বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি প্রকল্প উপ রেজিস্ট্রার মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, তারা নিয়োগ প্রাপ্ত নন। কৃষি প্রকল্পের আওতায় কর্মচারীরা দিনমজুর হিসেবে টাকা পান। মজুরী বৃদ্ধির ব্যাপারে তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন প্রশাসনিক দায়িত্বে কেউ না থাকায় তাদের ব্যাপারে কোন কিছু উত্থাপন করা যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, অন্য শ্রমিকদের মতো মজুরী পাওয়ার দাবি নিয়ে গত ১৪ই মার্চ কর্মবিরতিতে যাই তারা। প্রশাসন তাদের চাকরি স্থায়ী ও সকল সুযোগ সুবিধা দিবে বলে প্রত্যাশা তাদের।

এবিএ/এমকে

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন