শিরোনাম :

ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে নিরাপদ সবজি উৎপাদন শুরু


মঙ্গলবার, ৩০ জানুয়ারি ২০১৮, ০৩:০৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে নিরাপদ সবজি উৎপাদন শুরু

ডেস্ক প্রতিবেদন: শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল কাচিকাটায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন অভিযান শুরু হয়েছে।

এ উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগ ও আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস চরে বসবাসকারী ক্ষতিগ্রস্তদের টেকসই কৃষি কলাকৌশল প্রবর্তন প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষককে নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কাজ করছে। কাচিকাটার ছয়শ’ কৃষক তিন হেক্টর জমিতে জৈব সার ও বালাইনাশক উৎপাদন ও ব্যবহার করে সুফলও পাচ্ছেন। কৃষক এ সবজির বাজার দরও পাচ্ছেন বেশি।

শরীয়তপুর জেলার ৮৯ হাজার ৮০৮ হেক্টর জমির মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিই দুর্গম চরাঞ্চলে। এ অঞ্চলের মাটি বালিযুক্ত হওয়ায় কৃষক প্রচলিত পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করে আসছিলেন। তবে গত এক বছর থেকে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করতে কৃষক কেচো সার, জৈব সার বালাই নাশক (সেক্স্র ফেরোমেন ট্র্যাপ, নেট, নিম পাতার নির্যাস) উৎপাদন ও ব্যবহার করছেন। এতে কৃষকরাও আশাব্যঞ্জক ফলাফলও পেয়েছেন।

আগের প্রচলিত পদ্ধতিতে কৃষক যেখানে দেড় থেকে সর্বোচ্চ দুই মাস ফলন পেতেন, এখন সেখানে আড়াই থেকে তিন মাস পর্যন্ত ফলন পাচ্ছেন। ফলে উপৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি বেড়েছে উৎপাদন। এর মধ্যে রয়েছে টমেটো, করলা, বেগুন, শশা, খিরা সহ অন্যান্য সবজি।

কাচিকাটা ইউনিয়নের দক্ষিণ মাথাভাঙ্গা গ্রামের কৃষক রাহিমা বেগম বলেন, আমরা আগে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে সবজি উৎপাদন করতাম। গত এক বছর থেকে এসডিএস এর মাধ্যমে কেচোসার, জৈবসার ও বালাইনাশক উৎপাদন ও ব্যবহার করছি। এতে আগের চেয়ে প্রতি ২ শতাংশে আমাদের উৎপাদন খরচ অর্ধেক লাগছে।

এ বছর আমি ১০০ শতক জমিতে টমেটো, করলা ও বেগুন আবাদ করেছি। আগে যেখানে ফলন পেতাম দেড় থেকে সর্বোচ্চ দুই মাস। কিন্তু এ বার ইতিমধ্যে দুই মাস ফলন পেয়েছি। এবং ক্ষেতের সবজির যে অবস্থা আরও অন্তত এক থেকে দেড় মাস পাবো। ফলনও হয়েছে আগের চেয়ে বেশি। আমরা বেশ লাভবান।

একই ইউনিয়নের চরচাপিলা গ্রামের কৃষক মো: হুমায়ুন মোল্লা বলেন, বিশেষ করে কেচোসার ও জৈব সার ব্যবহারের ফলে গাছের বৃদ্ধি ও ফলন আগের তুলনায় বেশ ভাল। এ বছর আমি ১১০ শতক জমিতে প্রথম টমেটো ও বেগুন আবাদ করেছি। ফলনও আগের পদ্ধতির চেয়ে বেশি পাচ্ছি। বাজারে এ সবজির দামও বেশী পাচ্ছি।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো: রিফাতুল হোসাইন বলেন, বর্তমান প্রেক্ষপটে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় নিরাপদ সবজি উৎপাদন আমাদের বড় একটি চ্যালেঞ্চ। এ চ্যালেঞ্চ মোকাবেলায় আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছি।

সরকারের সহযোগী হিসেবে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা ক্রিশ্চিয়ান এইড স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা এসডিএস এর মাধ্যমে ভেদরগঞ্জ উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলে কাজ করছে। আমরা এ পদ্ধতি জেলার অন্যান্য উপজেলাগুলোতে গত দু’বছর থেকে শুরু করেছি। এ পদ্ধতির ফলে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি দুই তিন বছর পর্যন্ত সারের গুণাগুণ বিদ্যমান থাকে। তবে যদি জমি পানিতে তলিয়ে না যায়। আশা করছি কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে নিরাপদ সবজি উৎপাদন অভিযান পদ্ধতি গোটা জেলায় ব্যাপক ভাবে ছড়িয়ে দিয়ে স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুর জেলা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন