শিরোনাম :

ভেজাল গো-খাদ্যে দুগ্ধ উৎপাদন কমেছে পাবনায়


সোমবার, ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০৬:২৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পাবনা প্রতিনিধি: পাবনা জেলার চারটি উপজেলায় ভজাল গো-খাদ্য বিক্রির কারনে বিপাকে পড়েছে পশু খামারীরা। কমেছে দুগ্ধ উৎ’পাদন। এরই মধ্যে আদালতে একটি মামলা দায়ের হলেও কমছে না এ অসৎ চক্রের দৌরাত্ম। ভেজাল খাদ্য গ্রহনের ফলে পশুর বিভিন্ন পেটের পীড়া ছাড়াও দুগ্ধবতী গাভীদের দুধের পরিমান কমে যাচ্ছে বলে দাবী পশু বিশেষজ্ঞদের। গমের ভূষিতে , কাঠের গুড়া, ডলচুনসহ নিম্ন মানের পচা আটা মিশিয়ে তৈরী করা হচ্ছে ভেজাল এ পশুখাদ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাবনা জেলার সাথিয়া, বেড়া, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর উপজেলাতে ব্যাপক হারে ভেজাল গো-খাদ্য তৈরী হচ্ছে। মিল্ক ভিটা সংলগ্ন এ উপজেলাগুলোতে গো খামারীদের সংখ্যা বেশী। এ অঞ্চলের গো ঘামারীরা দুধ উৎপাদন করে মিল্কভিটাসহ দেশের বড় বড় প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু ভেজাল খাদ্যের দৌরাত্মে কমেছে তাদের দুগ্ধ উৎপাদন। ছোট ছোট খামারীদের পশু পালন খরচ তুলতেই হিমসিম খেতে হচ্ছে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার পার ভাঙ্গুড়া গ্রামের পশু খামারী কামাল হোসেন জানান, তার খামারে ১৭টি গরু রয়েছে। তার ভেতর ৪টি গাভী দুগ্ধবতী। তার দাবী, এলাকাতে কোন গোচারন ভুমি না থাকায় বাজার থেকে পশু খাদ্য কিনে পশু পালন করতে হয়। অতীতে তার প্রতিটি গাভী প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ লিটার দুধ দিত। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ লিটার দুধ পাচ্ছেন তিনি। ভেজাল খাদ্য সর্ম্পকে তার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, কোন খাদ্যে ভেজাল আছে সেটা আমরা বুঝতে পারি না। তবে জেলার স্বনাম ধন্য প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পশু খাদ্য প্রতিষ্ঠানের নাম ধরে আমরা খরিদ করে থাকি।

পাবনার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি মেসার্স গণি এন্ড ব্রাদার্সের ফ্লাওয়ার মিলের ম্যানেজার অপু বসাক জানান, তাদের কোম্পানীতে উৎপাদিত গো-খাদ্য তাদের কোম্পানীর ট্রেড মার্ক নকল করে ওই উপজেলাগুলোতে বেশ কিছু জালিয়াতি চক্র পশু খাদ্য তৈরী করা হচ্ছে। গো-খামারীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাবার পর বিষয়টির ব্যাপারে গোপনে খোজ নিয়ে এর সত্যতা পাওয়া গেলে কয়েকটি ভেজাল গো-খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে সনাক্ত করে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে হাজতে পাঠিয়েছে।

এ ব্যাপারে আদালতে ২৪/১৮ নম্র একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, গমের ভূষিতে , কাঠের গুড়া, ডলচুন, নি¤œ মানের পচা আটা মিশিয়ে জালিয়াতি চক্র এ ভেজাল গো-খাদ্য তৈরী করে জেলার স্বনাম ধন্য পশু খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেকমার্ক নকল করে বাজার জাত করছে।

এ ব্যাপরে পাবনা পশু অধিদফতরের সাবেক জেলা পশুসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আ. গফুর জানান, ভেজাল গোখাদ্য খাবার ফলে পশু পেটের পীড়ায় ভুগতে পারে। পেট ফাপা ও বদহজম রোগ হতে পারে। পশুর স্বাস্থ্য হানিসহ দুগ্ধবতী গাভীর দুধ কম হবে।

 

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন