শিরোনাম :

বরিশালে ইভটিজিং এ বাঁধা দেয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা


বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০১৭, ০৫:০১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশালে ইভটিজিং এ বাঁধা দেয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালে স্কুল ছাত্রীকে ইভটিজিংএ বাঁধা দেয়ায় তার বৃদ্ধ ফুফাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বখাটেরা। বুধবার রাতে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নের চর হোগলা গ্রামের চাঁদের হাট বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত বৃদ্ধর নাম আবদুল খালেক হাওলাদার (৬০)। সে ওই গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদ হাওলাদার এর ছেলে। তিনি পেশায় একজন রিক্সা চালক ছিলেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরন করা হয়েছে।

এদিকে ঘটনার পর থেকেই প্রধান ঘাতক বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে এ বছর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পরিক্ষা দেয়া তুষার সহ তার সহযোগিরা আত্মগোপনে রয়েছে। তবে তাদের গ্রেপ্তারের জন্য রাতভর এলাকায় অভিন চালিয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নিহত আবদুল খালেক হাওলাদার এর প্রতিবেশী সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শরীফ হোসেন স্বজনদের বরাত দিয়ে জানান, নিহতের শ্যালক নূর হোসেন এর কণ্যা সুবর্ণা চর হোগলা হাইস্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে।

স্কুলে আসা যাওয়ার পথে একই এলাকার বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন এর ছেলে তুষার তাকে প্রেমের প্রস্তাব সহ নানা ভাবে ইভটিজিং করে আসছে। গতকাল বুধবার বিষয়টি তার ফুফা আব্দুল খালেক হাওলাদারের নজরে আসলে তিনি তুষারকে গালমন্দ এবং তার পরিবারের কাছে বিচার দেয়।

এতে ক্ষিপ্ত হয় তুষার। এক পর্যায় রাতে আব্দুল খালেক ঘরের বাইরে বের হয়ে পার্শ্ববর্তী চাঁদের হাট বাজারে হাটা চলা করছিলো। তখন তুষার এর নেতৃত্বে একই এলাকার বখাটে রিপন, বাশার, সরোয়ার, আল আমিন এবং রাসেল সহ ১০/১২ জন মিলে তার উপরে অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে সে গুরুতর আহত হয়ে রাত ৯টার দিকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে তাকে ওয়ার্ড পর্যন্ত নেয়ার আগেন মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার আবুল কালাম আজাদ।

বরিশাল কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইচ-চার্জ (ওসি) শাহ মুহাম্মদ আওলাদ হোসেন বলেন, খবর পাওয়ার পর পরই তিনি সহ পুলিশের কয়েকটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে যাওয়া তথ্য অনুযায়ী ইভটিজিংকে কেন্দ্র করেই এই হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়েছে।

তিনি বলেন, রাতভর চরমোনাই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশী করা হয়েছে। কিন্তু তাদের কাউকেই পাওয়া যায়নি। হত্যাকান্ডের পর পরই সবাই গা ঢাকা দিয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, খুব দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তাছাড়া এই ঘটনায় হত্যা মামলা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


এসএ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন