শিরোনাম :

বরিশালে তিন মেধাবীর দারিদ্র জয়ের গল্প


বৃহস্পতিবার, ২৭ জুলাই ২০১৭, ০৫:০৮ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশালে তিন মেধাবীর দারিদ্র জয়ের গল্প

বরিশাল প্রতিনিধি: রাকিবুল আলম রাফি, সোমা দাস ও নাজমুল হাসান। এরা জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লীর দরিদ্র পরিবারের তিন মেধাবী শিক্ষার্থী। শত বাঁধা পেরিয়ে এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় তারা তিনজনেই অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। প্রত্যেকেই দারিদ্র্যতাকে হার মানিয়ে ভালো ফলাফল করলেও উচ্চ শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া নিয়ে তারা এখন রয়েছে মহাদুশ্চিন্তায়।

রাকিবুল আলম রাফি: এইচএসসি পরীক্ষা জিপিএ-৫ পেয়েও অর্থাভাবে উচ্চ শিক্ষা গ্রহন নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা রাফি বাবুগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত রাকুদিয়া গ্রামের দিনমজুর শহিদুল আলম মামুনের পুত্র। বাবুগঞ্জ সরকারী আবুল কালাম ডিগ্রি কলেজ থেকে চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া রাফি এসএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল। বাবার একার আয়ে ছয় সদস্যর সংসারে রাফি ভাল ফলাফল করলেও অর্থভাবে এখন তার উচ্চ শিক্ষা নেয়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছে। রাফি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে ডাক্তার হতে চায়।

সোমা দাস: বাবুগঞ্জের বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ সাকোকাঠী গ্রামের মৃত জীবন দাসের কন্যা সোমা দাস। জন্মের পর বাবাকে হারিয়ে ছোটবেলা থেকেই অভাবের সংসারে বড় হওয়া সোমা এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছিলো। মা অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে কোনমতে সংসার পরিচালনা করে আসছে। যেকারনে অর্থাভাবে জীবনে কোনদিন প্রাইভেট পরতে পারেনি সোমা। তার পরেও থেমে থাকেনি সোমার পড়াশুনা। চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় আগরপুর ডিগ্রি কলেজ থেকে বাণিজ্য বিভাগ থেকে সোমা দাস জিপিএ-৪.১৭ পেয়েছে। সোমা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে অধ্যাপনায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইলেও অর্থাভাবে তার উচ্চ শিক্ষা অর্জন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

নাজমুল হাসান: চলতি বছর এইচএসসি পরীক্ষায় রাশেদ খান মেনন মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে উপজেলা সদরের খানপুরা এলাকার দিনমজুর দেলোয়ার হোসেনের পুত্র নাজমুল হাসান। উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নাজমুল ব্যারিষ্টার হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও অর্থাভাবে তার কলেজে ভর্তি হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পরেছে।

এসএ

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন