শিরোনাম :

বরিশালে নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ও বিপণন শীর্ষক সভা


সোমবার, ২১ আগস্ট ২০১৭, ০৫:৩৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশালে নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ও বিপণন শীর্ষক সভা

বরিশাল প্রতিনিধি: নিরাপদ ব্রয়লার উৎপাদন ও বিপণন শীর্ষক জনসচেতনামূলক আলোচনা সভা আজ সোমবার সকালে বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ও প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ডাঃ শেখ আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ রফিকুল ইসলাম, কৃষিবিদ মোঃ একরামুল করিম চৌধুরী।

সভায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ নুরুল আমিন। সভায় ক্রেতা, বিক্রেতা, ভোক্তা, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা এবং এফএও ফুড সেফটি প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, ব্রয়লারের মাংস নিয়ে জনগনের মধ্যে অনেক ভীতি রয়েছে। এমন কি এটা খেলে মারাত্মক ধরনের রোগ হতে পারে, যা আমরা অনেক সময় এ ধরনের ভ্রান্ত তথ্য সোসাল মিডিয়াতে প্রকাশ হয়ে থাকে। সে কারনে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর এবং এফএও এর যৌথ উদ্যোগে সারাদেশে ১৩টি জেলার ২৫টি উপজেলায় নিরাপদ ব্রয়লার মাংস উৎপাদনের লক্ষ্যে ২০১৪ সাল থেকে একটি কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রমের সুফল পাওয়া যায় এবং বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য একটি পোল্ট্রি ফুড সেফটি গাইডলাইন তৈরী করা হয়।

তারই ধারাবাহিকতায় বর্তমানে এ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ চলছে। বরিশাল জেলার দুইটি উপজেলায় (বাবুগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ) সর্বমোট ৮০জন খামারীকে নিরাপদ মুরগীর পালন সংক্রান্ত উত্তম চর্চার ওপর প্রশিক্ষিত করা হয়েছে। উক্ত খামারীরা বর্তমানে নিরাপদ ব্রয়লার মুরগি উৎপাদন করছেন এবং তাদেরকে সমবায় সমিতির আওতায় আনা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, এ কার্যক্রমের আওতায় উৎপাদন পর্যায়ে পাঁচটি জীবানু ও পাঁচটি রাসায়নিক সর্বমোট ১০টি উত্তম চর্চার মাধ্যমে বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিত করা হয়েছে। খামারীরা ভাল উৎস হতে একদিনের বাচ্চাসহ অন্যান্য উৎপাদন উপকরনাদি (খাদ্য, ঔষধ) ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন। খামারী পর্যায়ে এ সকল উত্তম চর্চার মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে। খামারীরা উত্তম চর্চা যেমন অল ইন অল আউট, খামারের তথ্য সংরক্ষণসহ খামারের পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা দিক উন্নয়নে যত্ম বান হয়েছেন। উত্তম চর্চা মেনে চলার ফলে মাধ্যমে মুরগি উৎপাদন ব্যয় কমে এসে এফসিআর আংখিত হয়েছে। ঔষধ/ এন্টিবায়োটিক খরচ কমে এসেছে, খামারের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে এবং খামারীরা লাভবান হয়েছেন।প্রকল্পের আওতায় নমুনা পরীক্ষা করা হয়। খামার হতে মুরগির মাংস, খাদ্য, পানির নমুনা গবেষনাগারে পরীক্ষা করা হয়ে থাকে। সকল ক্ষেত্রে জাবীনু ও রাসায়নিক ঝুঁকির মাত্রা সহনীয় মাত্রার মধ্যে ছিল।

একইসাথে মুরগির মাংসে এন্টিবায়োটিকের মাত্রা সহনীয় মাত্রার মধ্যে ছিল যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়। মুরগীর কাঁচা বাজার হতে প্রাপ্ত নমুনায় সালমনেলা, ই-কলাই ও ক্যামপাইলো ব্যাক্টর এর সংক্রমন ছিল যা জনস্বাস্থ্যেও জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। মুরগির মাংস বিপণন ব্যবস্থাপনা স্বাস্থ্যকর না হওয়ার কারনে জীবানুর আন্তঃসংক্রমণ ঘটে যা জনস্বাস্থ্যের জন্য অস্বাস্থ্যকর। খামার পর্যায়ে উৎপাদিত নিরাপদ ব্রয়লার মাংস ভোক্তা পর্যায়ে পৌছিয়ে দিতে নিরাপদ ব্রয়লার বিপণন দোকান চালু করা জরুরী। সেলক্ষ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য এ আলোচনা সভার আায়োজন করা হয়েছে।

এসএ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন