শিরোনাম :

বরিশালের এক থানায় আড়াই বছরে ৪ ওসি প্রত্যাহার


শুক্রবার, ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশালের এক থানায় আড়াই বছরে ৪ ওসি প্রত্যাহার

বরিশাল প্রতিনিধি: অনিয়ম-দুর্নীতি, দায়িত্বে অবহেলা ও বড়কর্তার সাথে মাদক বিক্রেতার কতোপকথনের মোবাইল রেকর্ডিংয়ের তথ্য ফাঁস হওয়ার প্রেক্ষিতে গত আড়াই বছরে বরিশালের গৌরনদী মডেল থানার চারজন ওসিকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ সুপার, ডিআইজি কার্যালয় ও পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।গৌরনদী থানা ও জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।বর্তমানে ওসি (তদন্ত) দিয়েই চলছে মাদকের স্বর্গরাজ্য বলেখ্যাত জনগুরুতপূর্ণ ওই থানার কার্যক্রম।

ওসি সাজ্জাদ হোসেন: আগৈলঝাড়া থানা থেকে ২০১৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর গৌরনদী থানায় ওসি হিসেবে যোগদান করেন। দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে গৌরনদী মডেল থানার ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে বরিশাল পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়।দীর্ঘদিন পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত থাকার পর ২০১৭ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বানারীপাড়া থানার ওসি হিসেবে তিনি যোগদান করেন।

সূত্রমতে, ওইবছর ঈদ-উল ফিতর উপলক্ষে মানুষ নিরাপদে ঘরে ফিরবে বলে মহাসড়ক যানজট মুক্ত রাখতে জেলা পুলিশকে আগেভাগেই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিলো। অথচ ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে সড়কপথে যোগাযোগের একমাত্র ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার নীলখোলা নামকস্থানে একটি বাস দুর্ঘটনায় মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘসময়ে যানজট নিরসনে গৌরনদী থানা পুলিশ কোন উদ্যোগই গ্রহণ করেনি। খবর পেয়ে বরিশাল রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি মোঃ হুমায়ুন কবির বরিশাল থেকে ঘটনাস্থলে আসলেও সেখানে কোন থানা পুলিশ উপস্থিত ছিলেন না। এজন্য দায়িত্ব অবহেলার কারণে তার (ডিআইজির) নির্দেশে জেলা পুলিশ সুপার তাৎক্ষনিক ওসি সাজ্জাদ হোসেনকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করেন।

ওসি আলাউদ্দিন মিলন: ২০১৫ সালের ১০ আগস্ট গৌরনদী থানায় যোগদান করেন।২০১৭ সালের ৩০ মার্চ ওসি আলাউদ্দিন মিলনকে ক্লোজড করে ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। ক্লোজড হওয়ার আগেরদিন (২৯ মার্চ) রাতে বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ গৌরনদীর কটকস্থল গ্রামের মাদক বিক্রেতা হিরা মাঝিসহ তিন মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় মাদক বিক্রেতাদের সাথে সখ্যতার অভিযোগে জেলার তৎকালিন পুলিশ সুপার এসএম আক্তারুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। দীর্ঘদিন ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত থাকার পর ওসি আলাউদ্দিন মিলন ২০১৭ সালের ১৬ অক্টোবর কলাপাড়া থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন।

ওসি ফিরোজ কবির: ২০১৭ সালের ১ এপ্রিল গৌরনদী মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর সে মাদক বিরোধী সভা-সমাবেশ করে মাদকের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে মাত্র একমাসের ব্যবধানে ব্যাপক সফলতা অর্জন করেছিলেন। তিনি (ফিরোজ কবির) সর্বপ্রথম দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহত মাদক আমদানিকারক মানিক মাঝিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হন। তার সময়ে মাত্র চার মাসে মাদকের স্বর্গরাজ্য বলেখ্যাত গৌরনদীতে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ১২৮জন মাদক বিক্রেতা ও সেবীকে গ্রেফতারের পাশাপাশি বিপুল পরিমান ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। মাদকের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ঘোষণা করে শতকরা আশিভাগ সফলতা অর্জন করেছিলেন ওসি ফিরোজ কবির। এরইমধ্যে গৌরনদী সার্কেলের তৎকালীন সহকারী পুলিশ সুপারের সাথে প্রভাবশালী এক মাদক সম্রাটের মোবাইল ফোনে কতোপকথনের মোবাইল রেকর্ডিংয়ের তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় রোষানলে পরেন ওসি ফিরোজ কবির। ওইসময় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলী করার পর পরই পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে যোগদানের মাত্র চার মাসের মধ্যে ৩১ জুলাই ওসি ফিরোজ কবিরকে গৌরনদী থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার এসএম আক্তারুজ্জামান বলেছিলেন, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ওসি ফিরোজ কবিরকে গৌরনদী থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ওসি মনিরুল ইসলাম: ২০১৭ সালের ১ আগস্ট আগৈলঝাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলামকে গৌরনদী মডেল থানার ওসি হিসেবে যোগদান করেন। হত্যা মামলার আসামিকে গ্রেফতারের পর থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে যোগদানের ৫ মাস ২৫ দিন পর চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি তাকে (মনিরুল) ক্লোজড করা হয়। উপজেলার পালরদী মডেল স্কুল এন্ড কলেজের ছাত্র সাকির গোমস্তা হত্যা মামলার এজাহারভূক্ত আসামী ফাহিমকে গ্রেফতারের পর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ ওঠে ওসি মনিরুলের বিরুদ্ধে।

জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম বলেন, আসামি ছেড়ে দেয়ার অভিযোগে গঠিত তদন্ত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে ওসি মনিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।তিনি (পুলিশ সুপার) আরও বলেন, পূর্বে গৌরনদী থানার তিন ওসি কি কারণে ক্লোজড হয়েছে তা আমার জানা নেই।

এসএ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন