শিরোনাম :

বরিশালে হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড 


বুধবার, ৭ মার্চ ২০১৮, ০৪:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বরিশালে হত্যা মামলায় ১ জনের মৃত্যুদণ্ড 

বরিশাল প্রতিনিধি: বরিশালের গৌরনদীর আলোচিত ঘটনা খাদেম সরদার হত্যা মামলায় এক জনের মৃত্যুদন্ড এবং দুই জনকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড প্রদান করেছে আদালত।

মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি হল, উপজেলার নন্দনপট্টি এলাকার মৃত সফিজউদ্দিন মৃধার ছেলে নান্নু মৃধা (৪০)। এছাড়া যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হল, মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি নান্নু মৃধার ভাই সেন্টু মৃধা (৩৫) ও উত্তর বাটাজোর এলাকার ফানুজ মৃধার ছেলে আলাম মৃধা (৩৭)। রায় ঘোষনার সময় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি সেন্টু মৃধা আদালতে অনুপস্থিত ছিলো।

বরিশালের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন দুই আসামির উপস্থিতিতে এ রায় প্রদান করেন বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাডঃ গিয়াস উদ্দিন কাবুল।

একই সাথে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় মামলার বাকি ৯ আসামিকে বে-কসুর খালাশ প্রদান করা হয়েছে।

আদালত সুত্রে জানা গেছে, আসামিদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো নন্দননপট্টি এলাকার বাসিন্দা খাদেম সরদারের। এ নিয়ে আসামিরা বিভিন্ন সময় খাদেম সরদার ও তার ছেলেদের হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলো। এতে স্থানীয় জন-প্রতিনিধিরা তাদের সমাধানের জন্য শালিস বৈঠকের সিগ্ধান্ত নেয়।

সে অনুযায়ী ২০১৪ সালের ১৭ অক্টোবর দুই পক্ষকে নিয়ে শালিস বৈঠকের কথা জানানো হয়। কিন্তু শালিস বসার আগেই ১৩ অক্টোবর তাদের উপর হামলার পরিকল্পনা করে আসামিরা। ওই দিন রাতে খাদেম সরদার তার দুই ছেলে শাহ আলম সরদার ও ছোট ভাই আসলাম সরদারকে নিয়ে বাড়ি পার্শবর্তি আল আকসা মসজিদে এশার নামাজ পরে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় আসামিরা পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের দলবল নিয়ে হামলা চালায় খাদেম সরদার ও তার ছেলে ও ভাইর উপর। এতে পার্শবর্তি খালে ঝাপ দিয়ে ছেলে শাহ আলম সরদার প্রানে রক্ষা পেলেও আসামিরা উপর্যপুরি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে খাদেম সরদার ও তার ছোট ভাই আসলাম সরদারকে।

এক পর্যায় শাহ আলমের ডাক চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে আসলে আসামিরা চলে যায়। এরপর স্থানীয়রা খাদেম সরদার ও আসলাম সরদারকে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা সাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এসময় সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক খাদেম সরদারকে মৃত ঘোষনা করে।

একই সাথে আসলাম সরদারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালের শেরেই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করে। বর্তমানে আসলাম সরদার পঙ্গু জিবন যাপন করছে বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, আসামিদের সাথে জমি বিরোধের পাশাপাশি মামলা সংক্রান্ত বিরোধ ছিলো বলেও উল্লেখ করা হয়ে এজাহারে। ওই হত্যাকান্ডের পুর্বে আসামি নান্নু মৃধাকে ৯০০ বোতল ফেন্ডিলসহ আটক করে পুলিশ। ওই মাদক মামলায় খাদেম সরদারের ছেলে শাহ আলম সরদারকে রাখা হয় স্বাক্ষী হিসেবে। তাই জমি বিরোধের পাশাপাশি ওই ঘটনার জের ধরেও চালানো হয় এ হত্যাকান্ড। এ ঘটনায় ওই দিন রাতেই গৌরনদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ছেলে শাহ আলম সরদার।

মামলায় মুল ঘাতক নান্নু মৃধা সহ ১০ জনকে আসামি করা হয়। এরপর গৌরনদী থানা পুলিশ আদালতে একটি অভিযোগপত্র জমা দেয়। কিন্তু ওই চার্জশিটের উপর বাদি না রাজির আবেদন দিলে পুনরায় তদন্তের ২০১৪ সালের ১২ নভেম্বর মামলাটি পুনরায় তদন্তের সিআইডিতে প্রেরন করা হয়। এতে মামলার দীর্ঘ তদন্ত শেষে এজাহার নামিয় ১০ জনের সাথে আরো দুই জনের নাম সামিল করে মোট ১২ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৫ সালের ১৬ জুন আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন সিআইডি পুলিশ পরিদর্শক সেলিম শাহ নেওয়াজ।

আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর রাষ্ট্র পক্ষে ১১ জন ও আসামি পক্ষে ২ জন সাফাই সাক্ষির সাক্ষ্যে গ্রহন শেষে অভিযোগ প্রমানিত হলে আজ বুধবার আসামি নান্নু মৃধার উপস্থিতিতে তাকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করা হয়।

একই সাথে তার ভাই পলাতক আসামি সেন্টু মৃধা ও উপস্থিত অপর আসামি আলাম মৃধাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরো ৬ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

এদিকে আদালতে রায় ঘোষণার পর বাবা হারানো মামলার বাদি শাহ আলম সরদার আবেগ আপ্লুত হয়ে বলেন, আদালতের উপর আমরা ভরসা রেখেছিলাম। এ হত্যাকান্ডের ন্যায্য বিচারক একদিন আমরা পাবো। আজকে তাই পেয়েছি। তিনি আরো বলেন, আমরা উচ্চ আদালতেও যাবো, আসামি যাতে সেখান থেকে কোন ভাবে রক্ষা না পায়।

সরকার পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাড.গিয়াস উদ্দিন কাবুল, অপরদিকে আসামী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এ্যাড. মজিবর রহমান নান্টু,এ্যাড. মোখলেচুুর রহমান,এ্যাড.শহিদুজ্জামান ও আরিফুর রহমান।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন