শিরোনাম :

বিসিসি’র মেয়রের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন


মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮, ০৫:৪৪ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বিসিসি’র মেয়রের পাল্টা সংবাদ সম্মেলন

বরিশাল প্রতিনিধি: টানা ২৩ দিন ধরে চলছে বরিশাল সিটি কপোরেশনের নগর ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মবিতি। তারা নগর ভবনের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।

আর ৫ মাসের বেতন আর ভাতার দাবীতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংবাদ সম্মেলনের ২৪ ঘন্টা পরই আজ মঙ্গলবার পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল।

তাও আবার নগর ভবনের বাহিরে একটি কমিউনিটি সেন্টারে। সেখানেও মেয়রকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়ে ছিলো। টানা ২৩ দিন ধরে নগর ভবনের কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের আন্দোলনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পরেছেন নগরবাসী।

সূত্র মতে, গতকাল সোমবার নগর ভবনে সংবাদ সম্মেলন করেন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, গত ১১ মার্চ সমঝোতা বৈঠকে আগামী ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ৩ কিস্তিতে ৫ মাসের বেতন ও ১০ মাসের প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধের সিদ্ধান্ত হলেও তাতে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেননি মেয়র।

এই অবস্থায় মঙ্গলবার (আজ) এর মধ্যে ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা না হলে বুধবার (আগামীকাল ১৪ মার্চ) থেকে চলমান আন্দোলনের সাথে নতুন করে পূর্ন দিবস কর্মবিরতী এবং করপোরেশনের সকল অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে। অবশ্য গতকালের পর থেকেই তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই সংবাদ সম্মেলনের জবাব দিতে আজ মঙ্গলবার বরিশাল ক্লাব মিলেনায়তনে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল। তিনি বলেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাত্র দুই মাসের বেতন পাবেন। আর এর জন্য আন্দোলন করছেন। তাদের কর্মে ফিরিয়ে আনতে ইতো পূর্বে বেশ কয়েকটি সবঝোতা বৈঠক করা হয়েছে। কিন্তু তারা কর্মে ফিরেছেন না।

তিনি সংবাদ সম্মেলনে দ্রæততার সাথে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কর্মে ফেরার অনুরোধ জানান।

বরিশাল ক্লাব মিলেনায়তনে মেয়রের সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময় নগর ভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে অবস্থান নিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দেন। এক পর্যায় মেয়রকে তারা অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তিতে প্রশাসনের সহযোগীতা নিয়ে মেয়র আহসান হাবিব কামাল ঘটনাস্থান ত্যাগ করতে সক্ষম হন।

অপরদিকে টানা ২৩ দিন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সকল দাপ্তরিক কাজকর্ম বন্ধ থাকায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে নগর ভবন। সাধারন মানুষ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে নগর ভবনে গিয়ে কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছেন ক্ষুব্ধ হয়ে।

এ ব্যাপরে বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, নগরবাসীর সমস্যা লাঘবের জন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন। দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করে একটি সুষ্ঠু সমাধানের দারপ্রান্তে উপনীত হয়েছেন। মেয়রকে বকেয়া বেতন দিতে হলে অফিস খুলতে হবে। অফিস না খুললে মেয়র বেতন দেবেন কিভাবে। তাই মেয়রের প্রতিশ্রæতি মেনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে যোগ দিলেই অচলাবস্থা কেটে যাবে।

উল্লেখ, সিটি করপোরেশনে স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিমাসে বেতনের জন্য প্রয়োজন প্রায় আড়াই কোটি টাকা। গড়ে প্রতি মাসে রাজস্ব আদায় হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন