শিরোনাম :

ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে বরিশালের ২৭ পৌরসভা অচল


বুধবার, ১৪ মার্চ ২০১৮, ০২:২৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচিতে বরিশালের ২৭ পৌরসভা অচল

বরিশাল প্রতিনিধি:  রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়ার দাবিতে গত পাঁচদিন থেকে ঢাকায় অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন বরিশাল বিভাগের ২৭ পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

পানি, বিদ্যুৎসহ পৌরসভার সকল সেবামূলক কাজ বন্ধ রেখে দেশের ৩২৭টি পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বরিশাল বিভাগের ২৭ পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করায় প্রতিদিন পৌর কার্যালয়ে এসে সেবা বঞ্চিত হচ্ছেন পৌরবাসী।

বাংলাদেশ পৌরসভা সার্ভিস এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক ও বরিশাল জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান মনির জানান, গত ১০ মার্চ থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে তারা (পৌরসভার কর্মচারী) অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন। বুধবার পঞ্চম দিনেও সেটি অব্যাহত রয়েছে। পৌরসভার কর্মচারীদের দাবী, দীর্ঘদিন থেকে তারা বেতন-ভাতা না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুধু তাই নয় কোন কোন পৌরসভায় দীর্ঘদিন থেকে বেতন বকেয়া রয়েছে। পৌরসভার কর্মচারীরা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ যাবতীয় সুযোগ সুবিধা পাওয়ার দাবিতে জেলা প্রশাসক থেকে শুরু করে স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের স্মারকলিপি প্রদানসহ দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসলেও কোন সুফল মেলেনি। ফলে বাধ্য হয়ে তারা ঢাকার রাজপথে আসতে বাধ্য হয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পৌর কর্মচারীদের রাত জেগে চোখে মুখে ক্লান্তির ছাপ। তারপরেও তারা এটাকে ক্লান্তি বলছেন না। অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন “মা জননী হাসিনা বেতন ছাড়া বাঁচিনা”, “দে দে দে ভাত দে, নইলে মুখে বিষ দে” থেমে থেমে নানা শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আন্দোলনরত অনেকেই বুকে ও পিঠে কালি দিয়ে লিখেছেন ‘বেতন না দিলে বিষ দেন’। আবার কেউ কেউ কাফনের কাপড় পরে অবস্থান কর্মসূচী পালন করছেন।

বরিশাল বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এসএম শাহিন জানান, প্রতিটি পৌরসভায় শুধুমাত্র নৈশ প্রহরী ব্যতিত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছেন। ফলে পৌরসভার সকল সেবামূলক কাজ গত পাঁচদিন থেকে বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মমতাময়ী মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন জানবেন দুই থেকে ৫৬ মাস বেতন ও পেনশনের টাকা না পেয়ে পৌরসভার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন তখন তিনি চুপ করে থাকতে পারবেন না। আমাদের দাবি মেনে নিবেন কারন তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা।

এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক ও গৌরনদী পৌরসভার সবিচ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয় সরকারের শক্তিশালী মাধ্যম পৌরসভা। স্থানীয় সরকারের অন্যসব প্রতিষ্ঠান যেমন-উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ যদি সরকারী কোষাগার থেকে বেতন ভাতা পায় তাহলে আমরা (পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারী) কেন পাবনা? একদেশে দুইনীতি থাকতে পারেনা। তিনি আরও বলেন, আমরা ডাল ভাত ছাড়া কিছুই চাইনা। সারাদেশে আমরা সাড়ে চারশ’ কোটি মানুষের সেবা দিয়ে যাচ্ছি কিন্তু নিজেরা বেতন বঞ্চিত হচ্ছি। তাই আমাদের যৌক্তিক দাবির চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত আমাদের অহিংস কর্মসূচী অব্যাহত থাকবে।

এদিকে, ঢাকায় পৌরসভার কর্মচারীরা অবস্থান কর্মসূচী পালন করায় সারাদেশের সাথে অচল হয়ে পড়েছে বরিশালের ২৭টি পৌরসভা। প্রতিদিন এসব পৌরসভায় সেবা নিতে আসা নাগরিকরা পরেছেন চরম ভোগান্তিতে। পানি, বিদ্যুৎসহ পৌরসভার সকল সেবামূলক কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রতিটি পৌরসভার অধীনস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকার বাসা-বাড়িতে সাপ্লাই পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। রাতে প্রতিটি পৌর এলাকার ল্যাম্প পোস্টের বাতি বন্ধ থাকায় ভুতুরে পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন