শিরোনাম :
সন্দেহের তীর জেএমবির দিকে

যেখানে হত্যা করা হয় বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে


রবিবার, ৫ জুন ২০১৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

যেখানে হত্যা করা হয় বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে

চট্টগ্রাম অফিস: পরিকল্পিত এবং টার্গেট করেই দুর্বৃত্তরা বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে হত্যা করেছে। এর আগে থেকে তার গতিবিধি লক্ষ্য এবং নজরদারী করছিল সন্ত্রাসীরা। হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক আলামত দেখে এ ধারণা করছে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা।

প্রতক্ষ্যদর্শীদের বিবরণ দিয়ে সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, বাবুল আক্তার পরিবার নিয়ে গত ৩ বছর ধরে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন ও আর নিজাম রোডের ইক্যুইটি সেঞ্চুরিয়ান ভবনেই বসবাস করে আসছিলেন।

তার অনুপস্থিতিতে ছেলে মাহির এক ও মেয়ে তাবাসসুম এবং স্ত্রী ছিলেন বাসায়। রোববার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ছেলে মাহির (৭) কে নিয়ে স্কুলের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হন স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। তারা বাসা থেকে হেঁটে গাড়িতে উঠার জন্য জিইসির মোড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। মাহির বায়োজিদ সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত ক্যান্টেন্টম্যান্ট স্কুলের (কেএন পাবলিক) দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।

বাসা থেকে বেরিয়ে মা-ছেলে কয়েকশ’ গজ হেঁটে যেতেই ওয়েলফুডের সামনে মোটর সাইকেল আরোহী ৩ জন তাদের গতিরোধ করে। প্রথমে তারা মোটর সাইকেল দিয়ে ধাক্কা দিয়ে মিতুকে রাস্তায় ফেলে দেয়। এরপর মিতুর হাতে ধরে থাকা তার ছেলে মাহিরকে ছাড়িয়ে নিয়ে দূরে ঠেলে দিয়ে প্রথমে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে কানের কাছে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি চালায়।

এতে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন মিতু। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে দুর্বৃত্তরা মোটর সাইকেল নিয়ে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

জিইসি’র মত জনবহুল এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়ে দুর্বৃত্তরা নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার সময় কোন ধরণের প্রতিরোধ করেননি কোন পথচারী বা আসেপাশের দোকান কর্মচারীরা।

ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, রাস্তার পাশে মিতুর রক্তাক্ত দেহ পড়ে আছে। লাশ কাপড় দিয়ে ঢাকা। বিপুল পরিমাণ নারী পুলিশ এবং ডিবি সদস্য পুলিশের এলাকা ঘিরে রেখেছে। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থলে এসেছেন। পুরো এলাকায় শত শত মানুষের ভীড়।

বাবুল আক্তারের ভাড়া বাসার দারোয়ান মো. সাত্তার জানান, ম্যাডাম বাচ্চাকে নিয়ে সকালে বেরিয়ে যেতে দেখেছি। তখন ভবনের আশে পাশে তেমন সন্দেহজনক কাউকে দেখিনি। বাসা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর দেখি উনার ছেলে হাঁপাতে হাঁপাতে গেইটে চলে আসে। তাকে জিজ্ঞাসা করলে ছেলে বলে তার মাকে মেরে ফেলেছে। এ কথা শুনেই আমরা কয়েকজন দৌঁড়ে ছুটে গিয়ে দেখি ম্যাডামের লাশ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

ঘটনার পরপরই সিএমপি পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, খুবই মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটিয়েছে সন্ত্রাসীরা। আমরা দ্রুত খুনিদের চিহ্নিত করে তাদের গ্রেফতারে ব্যবস্থা নিচ্ছি। ইতোমধ্যে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। খুনিরা যাতে নগরী ছেড়ে যেতে না পারে। তার জন্য বিভিন্ন পয়েন্টে তল্লাশী চালানো হচ্ছে। এ হত্যাকাণ্ডে জেএমবি জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান কমিশনার।

এদিকে ঘটনার পরপর সিআইডি, ডিবি, সিবিআই ও পুলিশ বিষয়টি তদন্তে নেমেছে।

এসএ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন