শিরোনাম :
   মিয়ানমারে বিলাসবহুল হোটেলে ব্যাপক আগুন, নিহত ১    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রক্টর ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী    রাবির ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে মেস মালিকদের চরম স্বেচ্ছাচারিতা    বর্ষিয়ান সাংবাদিক বাটুলের হীরক জন্ম জয়ন্তি    ঢাবি’র ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা আগামীকাল    দেশব্যাপী ভ্রাম্যমান লাইব্রেরি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে গণগ্রন্থাগার     বস্তিবাসীদের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে সরকার    বেড়িবাঁধ পূনঃনির্মাণ কাজ উদ্বোধন:  দুঃখ ঘুচবে শাহ্পরীর দ্বীপের অর্ধলাখ মানুষের    ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্য:  রেহাই পেলেন দুই আ. লীগ নেতা    নদীগর্ভে বিলীনের পথে নবনির্মিত সাইক্লোন সেল্টার

কক্সবাজারে পুলিশী নির্যাতনে কয়েদির মৃত্যুর অভিযোগ


সোমবার, ৭ আগস্ট ২০১৭, ০৫:৫০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কক্সবাজারে পুলিশী নির্যাতনে কয়েদির মৃত্যুর অভিযোগ

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজারে পুলিশী নির্যাতনে মঞ্জুরুল ইসলাম প্রকাশ মঞ্জুর শেখ (৫৮) নামে এক কয়েদির মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার রাত ১০ টার দিকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন। এর আগে আরো একবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঞ্জুর শেখ মুন্সিগঞ্জ জেলার সিরাজীখান মালখানগর এলাকার মৃত শেখ বাদশা মিয়ার পুত্র। তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য বলে জানা গেছে।

মঞ্জুর শেখের ভগ্নিপতি মো. নিকসন অভিযোগ করেন, মঞ্জুর শেখ আলু ব্যবসায়ী। ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে তিনি টেকনাফ যান। কাজ সেরে ২৯ আগষ্ট রাতে কক্সবাজার ফেরার পথে টেকনাফ-কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ এলাকায় গাড়ী তল্লাসী করে তাকে ডিবি পরিচয়ে আটক করে গোপন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ব্যাপক মারধর করে ছেড়ে দেয়ার শর্তে ৫ লাখ টাকা দাবী করে আটককারী ডিবি পুলিশের সদস্যরা।

তিনি আরো জানান, ৩১ আগষ্ট রাতে মঞ্জুর শেখ গুরুতর অসুস্থ, তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে তার ব্যবহারের মোবাইল (০১৯১৫৫৪৮২৩৫) থেকে ফোন করে টাকা চাওয়া হয়। তাদের দেয়া বিকাশ নম্বরে (০১৭৭৯৭০৯০৮০) ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠায় মঞ্জুর শেখের স্ত্রী। কিন্তু পরের দিন ঠিকই তাকে ১ হাজার ইয়াবাসহ আটক দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায় সদর মডেল থানা।

তার অভিযোগ, টাকা আদায়ের জন্য অতিরিক্ত মারধরের কারণে মঞ্জুর শেখের হাত ও পায়ে মারাত্মক আঘাত পায়। হাসপাতালে ৩ দিন চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ না হলেও তাকে কারাগারে নিয়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় ৬ আগষ্ট তাকে আবারো হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। মঞ্জুর শেখের মৃত্যুর জন্য তাকে আটককারী জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মো. মাহবুবুল আলমকে প্রধানত দায়ী করেছে পরিবারের স্বজনেরা।

এ প্রসঙ্গে অভিযুক্ত এসআই মো. মাহবুবুল আলমের কাছে জানতে চাইলে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ৩টি মামলা রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিক্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। নির্যানতের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। ছেড়ে দেয়ার কথা বলে কোন ধরণের আর্থিক লেনদেনও করা হয়নি।

জেলা কারাগারের জেলার শাহাদাত হোসাইন জানান, ৩০ জুলাই মঞ্জুর শেখকে কক্সবাজারে জেলা কারাগারে আনা হয়। কারাগারে আনার কয়েক ঘণ্টা পরে শরীরে ব্যথাজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। তাকে ওই দিনই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে সুস্থবোধ করলে ৫ আগষ্ট হাসপাতাল থেকে রিলিজ পান মঞ্জুর শেখ। রিলিজ হলে তাকে যথারীতি ফের জেলা কারাগারে আনা হয়। কিন্তু ৬ আগষ্ট রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ মোহাম্মদ শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান, হাসপাতালে আনার আগেই মঞ্জুর শেখের মৃত্যু হয়।


আইকে

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন