শিরোনাম :
   ১০টি ভবনের নকশা অনুমোদন দিল কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ    গণমানুষের সংগঠনে রূপান্তর করতে মাঠে ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়ুন    উসমানের বোলিং তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে শ্রীলঙ্কা    গৌরনদী ‍উপজেলায় শিক্ষার্থীদের হাত ধোঁয়া প্রদর্শন    বরিশালে মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের বিরুদ্ধে সাজানো মামলা দিয়ে হয়রানী    শেষ হলো ইলিশ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা    উজিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত শুরু    বরিশালে জেলা আ. লীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত    স্তন কর্তন, ধর্ষণ লজ্জাস্থানে কাঠ গুঁজে রোহিঙ্গা নারীদের রোমহর্ষক নির্যাতন     কিশোর বাতায়ন, এইচ ডি মিডিয়া ক্লাব ও বরিশাল ব্র্যান্ডিং বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর: কর্মবিরতিতে অচল কক্সবাজার


বুধবার, ৯ আগস্ট ২০১৭, ০৩:৩১ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে মারধর: কর্মবিরতিতে অচল কক্সবাজার

কক্সবাজার প্রতিনিধি: কক্সবাজার পৌরসভার ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাবেদ মো. কায়সার নোবেলের হাতে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম শারীরিক নির্যাতন ও মারধরের ঘটনায় পৌরসভায় অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। গত দুই দিন ধরে কোন ধরণের নাগরিক সেবা পাচ্ছেনা পৌরবাসী।

মারধরের ঘটনার পর থেকে পৌরসভার সকল দপ্তর বন্ধ। ভোটার হালনাগাদের এই মৌসুমে জন্মনিবন্ধনসহ প্রয়োজনীয় কাজ সারতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে পৌরবাসী। সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি বসেও কাউকে না পেয়ে ফেরত যাচ্ছে সেবাপ্রার্থীরা।

মূলতঃ কাউন্সিলর নোবেলের হাতে কর্মকর্তা মারধরের কারণে এ অচলাবস্থা দেখা দেয়। এর আগে পৌরসভার দুই সচিবসহ একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পিটিয়ে আহত করার রেকর্ড তৈরী করেন বিতর্কিত এই পৌর কাউন্সিলর।

এদিকে পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলমকে মারধরের অভিযোগে ১০ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাবেদ মোঃ কায়সার নোবেলের বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-৩১/২০১৭।

বুধবার দুপুরে খোরশেদ আলম নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি করেন বলে নিশ্চিত করেছেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া।

অন্যদিকে পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোঃ খোরশেদ আলমকে মারধরের প্রতিবাদে প্রতিবাদে বুধবার (৯ আগষ্ট) সকাল থেকে অনির্দিষ্ট কালের কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে পৌরসভায়। নিজ কর্মস্থলে পৌঁছেও দাপ্তরিক কাজে হাত দেয়নি পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সহকর্মীকে লাঞ্ছনার বিচার চেয়ে সকাল সাড়ে দশটা থেকে পৌরভবনের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশে মিলিত হয় তারা।

পৌর কর্মকর্তা কর্মচারী সমিতির সহ-সভাপতি মোরশেদুল আলম আজাদের সভাপতিত্বে সভায় বক্তৃতা করেন সচিব রাসেল চৌধুরী, উপ-সহকারী প্রকৌশলী টিটন দাশ, রনজিত কুমার দে, মো. আবদুল্লাহ, আবু নাঈম মুহাম্মদ খান পাপ্পু, আবদুল মাবুদ রাজন, শেলি সোলতানা, শিপক কান্তি দে, নিরূপম শর্মা প্রমুখ।

এতে বক্তারা বলেন, কাউন্সিলর জাবেদ কায়সার নোবেল একজন উগ্রপন্থিী ও অপাদমস্তক অভদ্র লোক। তিনি বারবার হুমকি-ধমকি, মারধরসহ নানা অপরাধ ঘটিয়ে আসছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা খোরশেদ আলমকে মারধর করে সেটির প্রমাণ দিলেন। এর আগেও দুইজন সচিব ও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী তার হাতে মারধরের শিকার হয়েছেন। নোবেলের এসব আচরণের সঠিক ও সন্তুষজনক সমাধান না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারী দেন বিক্ষুব্ধ পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (৮ আগষ্ট) দুপুরে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলমের দপ্তরে ঢুকেই অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও মারধর করেন বিতর্কিত কাউন্সিলর জাবেদ কায়সার নোবেল।

খোরশেদ আলম বলেন, কয়েকদিন আগে কাউন্সিলর নোবেল তার রুমে দায়িত্ব প্রাপ্ত অফিস সহকারিকে সরিয়ে অন্যজনকে দিতে বলেন। তার কথা মতো আরেকজন দেয়া হয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার সবাই ব্যস্ততার কারণে পুরনো অফিস সহকারি কাউন্সিলরের রুমে চা-নাস্তা নিয়ে যায়। এসময় কাউন্সিলর নোবেল অতর্কিতভাবে আমাকে ডেকে গালিগালাজ করতে থাকে। এমন গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে এক পর্যায়ে আমাকে কিলঘুষি ও থাপ্পড় মারেন।

এবিষয়ে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র মাহাবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি আমি শুনেছি। আগেও এমন কান্ড ঘটিয়েছে কাউন্সিলর নোবেল। বর্তমানে তার কারণে সকলেই আতংক রয়েছে। জরুরী ভিক্ততে পৌর পরিষদের মিটিং ডেকে দ্রুত বিষয়টি সমাধান করা হবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন