শিরোনাম :

মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৮ হাজার কুরবারী পশু আমদানি


রবিবার, ২০ আগস্ট ২০১৭, ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৮ হাজার কুরবারী পশু আমদানি

ইমাম খাইর, কক্সবাজার: কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে গত ১৯ দিনে মিয়ানমার থেকে সাড়ে ৮ হাজার পশু আমদানি হয়েছে। আর সেসব নিয়ে যাওয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। কোরবানির আগে আরও অনন্ত ১০ হাজারের মতো আসতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। যার কারণে এবারের কুরবানীর জন্তু সংকট হবেনা বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

শাহপরীর দ্বীপ করিডরে গিয়ে দেখা যায়, ৬টি বড় কাঠের ট্রলারে করে ৭১১টি গরু-মহিষ নিয়ে এসেছেন ব্যবসায়ীরা। পরে নাফ নদীর জেটি দিয়ে গরুগুলো করিডোরে নামানো হয়। করিডরের খোলা মাঠে দেখা যায় আরও কয়েক’শ গরু-মহিষ। ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকজন ব্যবসায়ী পশু কেনার জন্য দরদাম করছেন।

টেকনাফ কাস্টমস সুত্র জানায়, ১ থেকে ১৯ আগস্ট বিকেল চারটার পর্যন্ত ৭ হাজার ৪৬১ গরু ১ হাজার ১৩১ মহিষ ও ১টি ছাগল আমদানি হয়েছে। বিপরীতে রাজস্ব আদায় করা হয়েছে ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ২০০ টাকা। এছাড়া গত জুলাই মাসে ৬ হাজার ৭৭০ গবাদিপশুর মধ্যে ৪ হাজার ৭৪০ গরু, ২ হাজার ২৯ মহিষ এবং মাত্র ১টি ছাগল আমদানি হয়েছে। যার বিপরীতে ৩৩ লাখ ৮৪ হাজার ৭০০ টাকা রাজস্ব আমদানি হয়েছে।

সদ্যসমাপ্ত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৫৪ হাজার ৪৯৬ গরু, ১২ হাজার ৩৯৫টি মহিষ ও ৪৫টি ছাগল (৬৬ হাজার ৯৩৬টি) আমদানি করে তিন কোটি ৩৪ লাখ ৫৭ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। যা গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ বেশি।

২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৯ হাজার ৯৯০ গরু, ৭ হাজার ৩২০ মহিষ ও ৪৬৩ ছাগল (২৭ হাজার৭৭৩) আমদানিতে ১ কোটি ৩৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬০০টাকা।

ব্যবসায়ী ফরিদুল আলম বিক্রির জন্য ১১০টি গরু কিনেছেন। প্রতিটি গরুর ওজন তিন থেকে চার মণ। গড়ে প্রতি গরুর দাম পড়েছে ৫৫ হাজার টাকা। ট্রাক ভাড়াসহ আনুষঙ্গিক খরচ মিলে ঢাকায় পৌঁছাতে প্রতিটি গরুর দাম দাঁড়াবে গড়ে ৬০ হাজার টাকা। প্রতিটি গরু বিক্রি হবে ৬৫-৮০ হাজার টাকারও বেশি দামে।

আরেক ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান বলেন, প্রতিবছর কোরবানির পশুর হাটে তিনি ভারতের গরু বিক্রি করতেন। এবার তিনি টেকনাফে এসেছেন। গত এক সপ্তাহে তাঁরা কয়েকজন ব্যবসায়ী টেকনাফ করিডর থেকে তিন শতাধিক গরু কিনে ঢাকায় পাঠিয়েছেন।

টেকনাফে ব্যবসায়ী মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গত সাত দিনে তাঁরা কয়েকজন ব্যবসায়ী মিয়ানমার থেকে ২ হাজার ১৪৮টি গরু ও ২৮৪টি মহিষ আনেন। এসব পশু কিনে ব্যবসায়ীরা ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটে নিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, প্রতিটি গরু ও মহিষের বিপরীতে ৫০০ টাকা করে রাজস্ব পরিশোধ করতে হয়।

শাহপরীর দ্বীপের পশু ব্যবসায়ী মৌলভী নুরুল হক বলেন, করিডরে তিন মণ ওজনের একটি গরুর দাম পড়ছে ৪৮ হাজার টাকা। চার মণ ওজনের গরু ৬৫ হাজার ও পাঁচ মণের বেশি ওজনের গরু ৮৫- ১লাখ ২০ হাজার টাকা। এসব গরু কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ঢাকার হাটে বিক্রি হচ্ছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রয় করা হবে।তিনি বলেন, মিয়ানমারের পশু মোটাতাজা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা চড়া দামে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন।

টেকনাফ কাস্টমস সুপার একেএম মোশারফ হোসেন বলেন, মিয়ানমার থেকে পশু আনতে আমরা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উৎসাহিত করছি। সমুদ্র উত্তাল থাকলে কিংবা অন্য কোনো সমস্যা দেখা দিলে পশু আমদানি কমে যাবে।

আইকে

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন