শিরোনাম :

পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়েছে রোহিঙ্গারা


বুধবার, ৩০ আগস্ট ২০১৭, ০২:০৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়েছে রোহিঙ্গারা

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত গ্রামগুলোতে থেমে নেই সে দেশের সেনাবাহিনীর তাণ্ডব।প্রতিদিন একের পর এক গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে সাধারণ মানুষের ওপর। যাকে যেভাবে পাচ্ছে হত্যা করা হচ্ছে নির্মমভাবে।পাখি শিকারের মতোই গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।জীবন বাঁচাতে পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়ছে রোহিঙ্গারা।

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের ঘুমধুম ও তুমব্রু সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অস্থায়ী শিবির স্থাপন করে আশ্রয় নিয়েছে ২০ হাজার রোহিঙ্গা।উখিয়া ও বান্দরবানের বিভিন্ন স্থান দিয়ে আসা অসংখ্য রোহিঙ্গার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

৬০ বছর বয়সী রোহিঙ্গা নারী মেহেরুন্নেছার। মিয়ানমারে নির্যাতনের শিকার হয়ে পাহাড় জঙ্গল পেরিয়ে বাংলাদেশ সীমানায় ঢুকে পড়েছে।মঙ্গলবার বিকালে উখিয়ার বালুখালীতে দেখা মেলে তার।
এ সময় তিনি বলেন, রাখাইনে আর যাওয়া হবে না। কারণ, সেনাবাহিনী পুরো রাখাইনজুড়ে তান্ডব চালাচ্ছে। হেলিকপ্টার চক্কর দিয়ে রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে বোমা ফেলছে।একের পর রোহিঙ্গা বসতভিটা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকাগুলোর চারিদিকে শুধুই ধ্বংসের চিহ্ন। মেহেরুন্নেছা জানান, তার সাথে আরও অন্তত এক হাজার রোহিঙ্গা মঙ্গলবার বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে।এর আগের দিন সোমার দিবাগত রাতে প্রায় ৩হাজার রোহিঙ্গা উখিয়ার বালুখালী ও কুতুপালং ঢুকেছে। এই নিয়ে গত ৬দিনে নাফনদীর জলসীমা, ঘুমধুমের তুমব্রু সীমানা পেরিয়ে ১৫ হাজারের অধিক রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে। প্রবেশের অপেক্ষায় রেয়েছে প্রায় ২০ হাজার রোহিঙ্গা। এই তথ্য জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)এর এক কর্মকর্তা।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করেছেন, গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে সেনাবাহিনী নিরস্ত্র রোহিঙ্গাদের নির্বিচারে গুলি করেছে। ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। সেনাদের গুলির শিকার হয়েছেন নারী, পুরুষ ও শিশুরা।

মিয়ানমারের সরকার জানিয়েছে, শুক্রবার আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (আরসা)-র হামলার পর এ পর্যন্ত প্রায় ১০০ মানুষ নিহত হয়েছে।চরমপন্থী সন্ত্রাসীরা সরকারি বাহিনীর সঙ্গে সময় গ্রামগুলোতে আগুন লাগিয়েছে।

রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, সরকারি বাহিনীই আগুন লাগিয়েছে এবং বিচারবহির্ভূতভাবে রোহিঙ্গাদের হত্যা করছে।স্যাটেলাইট তথ্যের বরাত দিয়ে মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে, এবারের অগ্নিকান্ড প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল। ২০১৬ সালের অক্টোবরে সেনা অভিযানের চেয়ে এবারের আগুনের বিস্তৃতি অনেক বেশি ছিল। ওই সময় প্রায় দেড় হাজার বাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।প্রসঙ্গত, গত ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পুলিশ পোস্টে হামলা চালায় সে দেশের একটি বিদ্রোহী গ্রুপ। এতে ১২ পুলিশ সদস্যসহ অনেক রোহিঙ্গা হতাহত হন। এঘটনার পর প্রতিদিনই বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে আসছে অসংখ্য রোহিঙ্গা। নাফ নদীর জলসীমানা থেকে শুরু করে স্থল সীমানা পার হয়ে জিরো পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা। এর আগে গত বছরের ৯ অক্টোবরের পর থেকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে একইভাবে হামলার ঘটনা ঘটে। তখন প্রাণ ভয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রায় ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা। এরপর আন্তর্জাতিক মহল নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে মিয়ানমার সরকারের ওপর। কিন্তু এর কোনও তোয়াক্কা না করে রাখাইনে ফের সেনা মোতায়েন করলে বিদ্রোহী গ্রুপের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে সে দেশের সেনা বাহিনী ও পুলিশ।

আইকে

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন