শিরোনাম :

২৬ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার


শনিবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৮:২৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

২৬ রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার

ডেস্ক প্রতিবেদন: রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বৃদ্ধির সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে লাশের সারিও। শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত একদিনেই টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় পাওয়া যায় রোহিঙ্গাদের ২৬টি লাশ।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের নাফ নদীর বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ চেষ্টার পাশাপাশি প্রতিদিনই বাড়ছে রোহিঙ্গাদের লাশের সংখ্যা। এ ছাড়া আজ নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় চার হাজার ৫৩৮ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এ দিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে টেকনাফের নাফ নদীর হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী, লম্বাবিল, কাঞ্জরপাড়া, খারাংখালী এবং সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে ঢল নেমেছে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গাদের।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার এক রাতেই ৫০ হাজারের বেশী রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা থেমে থেমে অব্যাহত রয়েছে।

টেকনাফ থানার ওসি মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফের বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে নাফ নদীতে ভাসমান অবস্থায় ২৬ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

এর মধ্যে টেকনাফে নাফ নদীর ঝিমংখালী ও খারাংখালী এলাকা থেকে ১৮টি, শাহপরীর দ্বীপ থেকে দুটি, সাবরাংয়ের খুরেরমুখ থেকে তিনটি ও টেকনাফ সদরের খানকার পাড়া থেকে তিনটি লাশ উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

ওসি বলেন, ‘শুক্রবার উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের মৃতদেহগুলোর সবকটিই পঁচনধরা অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গত দুই দিনে নাফ নদীতে সংঘটিত নৌকা ডুবির ঘটনায় তারা মারা গেছেন।’

এর আগে গত বুধবার নাফ নদীর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পয়েন্ট থেকে চারজন ও বৃহস্পতিবার একই এলাকা থেকে ১৯ জন রোহিঙ্গার লাশ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টেকনাফে নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় চার হাজার ৫৩৮ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ফেরত পাঠানো অনুপ্রবেশ চেষ্টাকারী এসব রোহিঙ্গা টেকনাফের নাফ নদীর হোয়াইক্যং, লম্বাবিল, কাঞ্জরপাড়া, ঝিমংখালী, খারাংখালী ও সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপসহ বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টের শূন্যরেখা অতিক্রম করার সময় অভিযান চালানো হয়।’

এর আগে উখিয়া ও টেকনাফের নাফ নদীর বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশ চেষ্টার সময় ২৪ আগস্ট ১৪৬ জন, ২৫ আগস্ট ৭৩ জন, ২৬ আগস্ট ৭১ জন, ২৭ আগস্ট ৯২ জন, ২৮ আগস্ট ৬৯৯ জন, ৩০ আগস্ট ৪৩ জন ও ৩১ আগস্ট ৭৫ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছিল বিজিবি।

শুক্রবার ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অনুপ্রবেশ চেষ্টাকারী রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো এবং লাশ উদ্ধার ঘটনা মিয়ানমারে এবারের সহিংসতার পর একদিনে সবচেয়ে বেশি বলে বিজিবি ও পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন