শিরোনাম :
বাংলাদেশীদের মূল্য নেই

এমএসএফ হলেন্ডে ৩২০ রোহিঙ্গার চাকুরী


সোমবার, ২৭ নভেম্বর ২০১৭, ০১:৩৩ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

এমএসএফ হলেন্ডে ৩২০ রোহিঙ্গার চাকুরী

কক্সবাজার প্রতিনিধি: বাংলাদেশীদের চাকুরী হয়না বিদেশী এনজিও এমএসএফ হলেন্ডে।চাকুরীর জন্য আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত বাংলাদেশী যুবকেরা।বারবার দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সাড়া মেলেনি।অথচ বিভিন্ন পদে চাকুরী করছে ৩২০ জন রোহিঙ্গা।বাংলাদেশের মাটিতে ভিনদেশী এনজিওদের এমন কাজে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা।এমএসএফ হলেন্ডের আইন পরিপন্থি এই কাজ বন্ধের দাবী ওঠেছে। একই সঙ্গে চাকুরীতে স্থানীয়দের নিয়োগ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

অনেকের প্রশ্ন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে শান্তিতে আছে। খাবার পাচ্ছে। বাড়ী পাচ্ছে। তার উপর মোটা অংকের বেতনে স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে রোহিঙ্গারা চাকরি পাচ্ছে। তাহলে তারা আর মিয়ানমারে ফিরে যাবে কেন?

আকরাম নামের এক যুবক তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত সোনার বাংলার সোনার ছেলেরা বি,সি,এস পাশ করে রিক্সা চালায়।আর রোহিঙ্গীরা পায় লক্ষ টাকার চাকরি। এই ধরনের নিকৃষ্ট এনজিও গুলো বন্ধ করে দেওয়া হোক।

গত ১০ সেপ্টেম্বর এমএসএফ হলেন্ডের উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আউটরিচ ওয়ার্কার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। সেই পদে উখিয়া ও টেকনাফের অনেকে আবেদন করে। কিন্তু স্থানীয়দের বাদ দিয়ে ওই পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে রোহিঙ্গাদের। এমএসএফ হলেন্ডের বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মেইক শিপ্ট সেটেলমেন্ট এক্সপার্ট হিসেবে কাজ করেন হেলে নামক এক কর্মকর্তা। কুতুপালং-এ কাজ করেন ক্রিরিসটিন মুলেন্স নামক আরেক কর্মকর্তা।

স্থানীয় একটি সুত্র জানায়, আউটরিচ ওয়ার্কার পদে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনে ৩২০ জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা সবাই রোহিঙ্গা। তারা বর্তমানে চাকুরী করছে। ওই পদে স্থানীয় আবেদনকারীদের ডাকাও হয়নি। রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে চাকুরী করার আইনগত ভিত্তি না থাকা সত্তেও দেশের প্রচলিত আইন তোয়াক্কা না করে তাদের নিয়োগ দিয়েছে বহু বিতর্কিত এনজিও এমএসএফ হলেন্ড।

আবুল কাশেম নামে ভুক্তভোগী জানান, সকল শর্ত মেনে আউটরিচ ওয়ার্কার পদে তিনি আবেদন করেছিলেন। ১ মাস পরে নিয়োগের বিষয়ে জানতে গিয়ে দেখেন- উক্ত পদে বাংলাদেশী লোকের পরিবর্তে রোহিঙ্গারা চাকুরী করছে। আবুল কাশেম উখিয়ার রাজাপালং খয়রাতিপাড়ার সুলতান আহমদের ছেলে। একই অভিযোগ স্থানীয় অসংখ্য আবেদনকারীর।

রোহিঙ্গাদের কারণে বাংলাদেশীরা সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ও উপেক্ষিত। এমএসএফ হলেন্ডের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা সবখানে অবাধে বিচরণ করছে। চোখের অন্তরালে অপরাধ করে যাচ্ছে। ইয়াবা, মাদক ব্যবসাসহ দেশ ও আইন শৃঙ্খলা পরিপন্থি কাজ করছে। বিভিন্ন অবৈধ সংগঠন-সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে রোহিঙ্গারা। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিরোধী এমন কর্মকান্ডের সুযোগ পাওয়ার পেছনে বিতর্কিত এনজিওগুলোকে দায়ী করছে স্থানীয়রা।

গত ১৭ নভেম্বর বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারপত্র বিলিকালে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে এমএসএফ হলেন্ডের ৪ জন রোহিঙ্গাকর্মী। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নিকারুজ্জামান ওই সময় জানিয়েছিলেন, রোহিঙ্গাদের উস্কানিমূলক লিফলেট বিতরণের সময় হাতে নাতে ৪ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে পূলিশের নিকট সোর্পদ করা হয়। এরা হলো- পালংখালী শফিউল্লাহকাটা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত মোঃ জলিলের ছেলে আব্দূল গাফ্ফার (৪৯) ও তার ছেলে মোঃ আনোয়ার(২১), জামতলি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মোঃ হোসন এবং জিয়াউর রহমান। তৎমধ্যে আব্দুল গাফ্ফার এনজিও সংস্থা এমএসএফের বেতনধারী কর্মী।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু এই চার রোহিঙ্গা নয়, এ রকম অসংখ্য অপরাধী এসব বিতর্কিত বিদেশী এনজিওগুলোর আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে বেড়ে উঠছে। সময় থাকলে ওদের খোঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা দরকার। না হলেও চাকুরীর আড়ালে তারা দেশ বিরোধী কর্মকান্ডে জড়াতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোঃ আলী হোসাইন জানান, এনজিওগুলোর চাকুরীতে স্থানীয়দের প্রাধান্য দেয়ার কথা। সেখানে উল্টো রোহিঙ্গাদের চুকুরী দেয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে কি করা যায়-দেখবেন বলে জানান জেলা প্রশাসক।

আইকে

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন