শিরোনাম :

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫


বুধবার, ২৫ জুলাই ২০১৮, ০৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

কক্সবাজারে পাহাড়ধসে একই পরিবারের ৪ জনসহ নিহত ৫

কক্সবাজার: কক্সবাজার পৌরসভার বাঁচা মিয়ার ঘোনা ও রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় আলাদা পাহাড় ধসে এক পরিবারের চার ভাইবোনসহ পাঁচজন মারা গেছে।

বুধবার ভোরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পাহাড়ধসে আরও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গত তিন দিন ধরে কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছে বাঁচা মিয়ার ঘোনা এলাকার সৌদিপ্রবাসী মো. জামাল হোসেনের তিন মেয়ে মর্জিয়া আক্তার (১৪), কাফিয়া আক্তার (১০) ও খায়রুন্নেছা (৬) ও ছেলে আব্দুল হাই (১০)। এ ঘটনায় জামাল হোসেনের স্ত্রী ছেনুয়ারা বেগম আহত হয়েছেন। স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে পাঁচজনকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক চার ভাইবোনকে মৃত ঘোষণা করেন।

অন্যদিকে রামুর দক্ষিণ মিঠাছড়ি এলাকায় বুধবার ভোরে পাহাড় ধসে মোর্শেদ আলম (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে ওই এলাকার জাফর আলমের ছেলে। মোর্শেদ আলমের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা আছে।

বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল্লাহ মামুন ও গিয়াস উদ্দিন জানান, বুধবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে শহরের বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকায় ৭০-৮০ ফুট উঁচু একটি পাহাড় ধসে সৌদিপ্রবাসী জামাল হোসেনের বাড়ির ওপর পড়ে। এ সময় ভারী বৃষ্টি হচ্ছিল। ঘরের সবাই তখন ঘুমিয়ে। পরে স্থানীয় লোকজন মাটি সরিয়ে ওই পরিবারের চার ভাইবোন ও তাদের মা ছেনুয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজন জানান, জাফর আলমের টিনের বেড়ার ঘরটি তৈরি হয়েছিল বাঁচামিয়ার ঘোনার দুর্গম পাহাড়ের পাদদেশে (ঢালুতে)। পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বাড়িটি গত জুন মাসে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। এরপর তাদের সরে যেতে মাইকিং করে। কিন্তু তারা সরেনি। আজ ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে বাড়িটি ধসে পড়ে। এতে মাটিচাপা পড়ে চার ভাইবোনের মৃত্যু হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি ফরিদ উদ্দীন খন্দকার বলেন, এক পরিবারের চার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থলে মাটি চাপা পড়ে তারা। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, শহরের অভ্যন্তরে থাকা ছোট বড় ১২টি সরকারি পাহাড় দখল করে বসতি করছেন লাখো ভাসমান মানুষ। গত জুন মাসে পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকি নিয়ে বসতি করা প্রায় ৯০০ পরিবারের তালিকা তৈরি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। এরই মধ্যে চারজনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। গত ১০ বছরে একাধিক পাহাড় ধসের ঘটনায় ৬ সেনাসদস্যসহ অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যবেক্ষক মুজিবুল হক বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২২৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে। এতে আরও পাহাড়ধসের ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন