শিরোনাম :

রোহিঙ্গাদের অপরাধ বাড়ছে


রবিবার, ২৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোহিঙ্গাদের অপরাধ বাড়ছে

কক্সবাজার: বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ঢল শুরুর দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনী রাখাইন রাজ্যের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা নিধনে অভিযান শুরু করে। পূর্ব পরিকল্পিত ও পদ্ধতিগত অভিযানের মুখে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। এসব রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি হলেও এখনো প্রত্যাবাসন শুরু করা যায়নি।

এদিকে, রোহিঙ্গারা বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়তে পারে। রোহিঙ্গাদের জন্য গত দুই বছরে বাংলাদেশ ৭২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। সরকারের পক্ষে বেশিদিন এই সহায়তা অব্যাহত রাখা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

প্রত্যাবাসনে অনীহা:আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমার আগ্রহ দেখালেও দুই দফা প্রত্যাবাসন শুরুর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দ্বিতীয়বারের মতো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নেয় দুই দেশ। কিন্তু রোহিঙ্গাদের অনাগ্রহের কারণে ভেস্তে যায় সেই প্রচেষ্টা। নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা, বসতভিটাসহ সম্পদ ফেরত ও নিপীড়নের বিচার নিশ্চিত না হলে তারা মিয়ানমারে ফিরবে না বলে জানিয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফিরে না যাওয়ার ব্যাপারে কিছু এনজিও উস্কানি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কক্সবাজার সিভিল সোসাইটির সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, আশ্রিত জীবনে নিজ দেশের চেয়ে শতগুণ স্বাধীন ভাবে চলাফেরা ও সামগ্রিক সুযোগ সুবিধা পাওয়ায় ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে নানা বাহানা করছে রোহিঙ্গারা।

কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. আবুল কালাম বলেন, আমরা মানবিক কারণে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছিলাম। জোর করে ফেরাতে চাচ্ছিনা বলেই প্রত্যাবাসনে দেয়া দু’বারের সময় ভেস্তে গেছে।

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছে:বিপদের সময় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলেও তাদের নানা ধরনের অপরাধ কর্মের জন্য এখন চরম উত্কণ্ঠা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি অপরাধী দল গঠন করে শিবিরের অভ্যন্তরে অপরিকল্পিতভাবে দোকানপাট ও মাদক বিক্রির আখড়া তৈরি, মানবপাচার, অপহরণের পর মুক্তিপণ আদায়, ডাকাতি ও মাদকের টাকায় আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহসহ নানা অপরাধ করছে। রোহিঙ্গাদের হাতে কয়েকজন স্থানীয় নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে টেকনাফের হ্নীলা জাদিমুরা এলাকায় রোহিঙ্গা সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা স্থানীয় ওয়ার্ড যুবলীগ সভাপতি ওমর ফারুককে গুলি করে হত্যা করেছে বলে জানা গেছে।

পুলিশের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের অভ্যন্তরীণ বিরোধ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় ৪৬ জন রোহিঙ্গা। নিহতদের অধিকাংশ ইয়াবা কারবারি ও মানব পাচারকারী। মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, মানবিক আশ্রয়কে রোহিঙ্গারা অপব্যবহার করছে। তাদের প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি জটিল হবে। রোহিঙ্গাদের প্রথম আশ্রয় দেয়া স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত দুই বছরে আগে আসা অসহায় মানুষ নেই রোহিঙ্গারা। আচার-আচরণ পাল্টে তারা ক্রমে ক্রমে উগ্র হয়ে উঠেছে। কথায় কথায় স্থানীয়দের সাথে ঝগড়া-বিবাদে জড়াচ্ছে, খুন করতেও দ্বিধা করছে না।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকরাও বলছেন, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান ও প্রত্যাবাসন দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের পাশাপাশি এই অঞ্চলে নিরাপত্তা হুমকি বাড়বে। রোহিঙ্গা সংকটের সুযোগ নিতে পারে জঙ্গি ও উগ্রবাদী সংগঠনগুলোও।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন