শিরোনাম :

রোজাকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের বাজারে কারসাজি


বুধবার, ৩ মে ২০১৭, ০৮:৫৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রোজাকে কেন্দ্র করে ভোগ্যপণ্যের বাজারে কারসাজি

ডেস্ক প্রতিবেদন: রোজার মাসের হাওয়া বইতে শুরু করেছে ভোগ্যপণ্যের বাজারে।সেই সাথে জিনিসপত্রের দাম নিয়ে কারসাজি চলছে সমানতালে।কিছু কিচু ব্যাবসায়ীর কারসাজির কারণে হুটহাট ওঠানামা করছে বিভিন্ন পণ্যের দাম। এতে অস্থির হয়ে উঠেছে বাজার, দিশেহারা হয়ে পড়েছেন মধ্যম সারির ব্যবসায়ীরা।

কয়েক মাস আগেও প্রতি মণ চিনি ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ১৫০ টাকায় লেনদেন হয়েছিল। ২ মে সোমবার বিকালের আগ পর্যন্ত পণ্যটি প্রতি মণ সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩১০ টাকায় লেনদেন হয়। তবে বিকালের পর চিনির বাজার এক লাফে কমে ২ হাজার ১৫৫ টাকায় নেমে এলে বড় ধরনের লোকসানের ঝুঁকিতে পড়েন শতাধিক ব্যবসায়ী।

খাতুনগঞ্জের চিনি ব্যবসায়ীরা বলেন, আগের বিক্রি হওয়া এসও মিলগেটে উত্তোলনের জন্য এক সপ্তাহের সিরিয়াল পেয়েছেন অনেকে। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করেই কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রতি মণ প্রায় ১৫০ টাকা কমে বিক্রি শুরু হয় চিনি। এতে একদিনেই খাতুনগঞ্জের ব্যবসায়ীরা কোটি কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়েছেন। রোজার নিত্যপণ্যের দামে হঠাৎ উত্থান-পতনের কারণে শৃঙ্খলের মতো আবদ্ধ ব্যবসায়ীদের অনেকেরই দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

খাতুনগঞ্জের ট্রেডিং প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম হোসেন ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ইব্রাহিম বলেন, সরবরাহ সংকটে চিনির বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল। পরে সরবরাহ শুরু হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিনির বাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়।

ছোলার বাজার প্রায় এক মাসের ব্যবধানে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেড়ে বর্তমানে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১২০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা জানিয়েছেন, এক মাস আগেও প্রতি মণ ছোলা বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ৫০০-২ হাজার ৬০০ টাকায়। ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় পণ্যটির দাম একপর্যায়ে প্রতি মণ ৩ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যায়। তবে এক সপ্তাহ ধরে বাজারে ছোলার দাম কিছুটা পড়তির দিকে ছিল। কিন্তু গতকাল হঠাৎ করেই প্রায় সব ধরনের ছোলার দাম মণে ১০০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যায়। ফলে গতকাল পাইকারি পর্যায়ে ছোলা (মিয়ানমার) লেনদেন হয়েছে প্রতি মণ সর্বোচ্চ ৩ হাজার ১২০ থেকে সর্বনিম্ন ২ হাজার ৬৬০ টাকায়। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে অস্ট্রেলিয়ান ছোলা। এর দাম পড়ছে প্রতি মণ ২ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

একই অবস্থা ভোজ্যতেলের বাজারেও।গ্রীষ্মকালীন মৌসুমের আগে পাম অয়েল লেনদেন হয়েছিল মণপ্রতি ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। দুই মাসের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়ে ২ হাজার ৬২০ টাকা পর্যন্ত দাঁড়ায়। এক সপ্তাহ ধরে পাম অয়েলের দাম কিছুটা কমে ২ হাজার ৫৪০ টাকায় লেনদেন হচ্ছে। ডিও পর্যায়ে কম থাকলেও মিলগেট থেকে সরাসরি উত্তোলনযোগ্য পাম অয়েল বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫৭০ টাকায়। বিশ্ববাজারে পাম অয়েলের দাম নিম্নমুখী থাকলেও দেশের বাজারে গ্রীষ্ম ও রোজার কারণে পণ্যটির দাম বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তবে পাম অয়েলের দাম বাড়লেও সয়াবিন ও সুপার পাম অয়েলের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। গতকাল পাইকারি পর্যায়ে মণপ্রতি সুপার পাম অয়েল লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৭৫০ ও সয়াবিন লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ৯০০ থেকে ২ হাজার ৯৫০ টাকায়।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন