শিরোনাম :

৭ খুন মামলার আইনজীবীর মেয়েকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ


বৃহস্পতিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৭, ০৮:৫১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

৭ খুন মামলার আইনজীবীর মেয়েকে বিষ খাওয়ানোর অভিযোগ

ডেস্ক প্রতিবেদন: নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলার সরকারি আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকনের মেয়েকে জোর করে মিষ্টির সঙ্গে বিষজাতীয় কিছু একটা খাওয়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এর পরেই সে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়েছে। তার নাম মাইশা ওয়াজেদ প্রাপ্তি। সে এ-লেভেলের ছাত্রী।

নারায়ণগঞ্জ শহরের নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিপরীতে একটি কোচিং সেন্টারের সামনে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে জোর করে মিষ্টি খাইয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. মতিয়ার রহমান জানান, নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের বিপরীত দিকে একটা জায়গায় প্রাপ্তি পড়তে যায়। ফেরার পথে অজ্ঞাত দুই/তিনজন লোক তাকে বলে- তোমার আব্বা তো খুব ভালো কাজ করেছে। তুমি একটু মিষ্টি খাও। এই বলে জোর করে তার মুখে মিষ্টি দেয়। মিষ্টি গালে দেওয়ার পর তার পেট জ্বলে যাচ্ছিল। তখন তাড়াতাড়ি করে তার বাবাকে ফোন করে। দ্রুত তার বাবা ঘটনাস্থলে চলে আসেন। এরপর তাকে খানপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পর পাকস্থলি দুইবার ওয়াশ করা হয়েছে। এখন তার অবস্থা আশঙ্কামুক্ত বলা যায়।

অপর একটি সূত্রে জানা গেছে, কোচিং থেকে বের হওয়ার পর কয়েকজন যুবক মেয়েটির গতিরোধ করে তাকে বলে, ‘তোমার বাবা তো সাতখুনের মামলায় ভালো কাজ করেছে। সেই সুবাদে মিষ্টি খাও।’ মেয়েটি বলে, ‘আমি বাইরে খাই না।’ তখন তারা মিষ্টি খেতে আরো জোরাজুরি করে। এক পর্যায়ে জোর করে তার মুখের ভেতর মিষ্টি ঢুকিয়ে দেয়। প্রাপ্তি মিষ্টি না গিলে সেটি মুখ থেকে ফেলে দিলে তার মুখে জোর করে পানি ঢেলে দেয় এবং খেতে বাধ্য করে। এরপর তার পেটে জ্বালাপোড়া শুরু হলে বাবাকে খবর দেয়।

প্রাপ্তিকে রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ঘটনার পরপরই নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মইনুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘হামলাকারীদের কেউ চেনেনি। আশপাশের ভবনের সিসি ক্যামেরা থেকে কোনো সূত্র পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছি আমরা।’

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জের লিংক রোডের লামাপাড়া এলাকায় র‍্যাবের সদস্যরা চেকপোস্ট বসিয়ে কাউন্সিলর নজরুলের গাড়ি থামান। র‍্যাব গাড়ি থেকে নজরুল, তার তিন সহযোগী ও গাড়িচালককে তুলে নিয়ে যায়। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন আইনজীবী চন্দন সরকার। তিনি অপহরণের বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকে ও তার গাড়িচালককেও র‍্যাব তুলে নিয়ে যায়। ৩০ এপ্রিল ছয়জন ও পরদিন একজনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে।

এ ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটির বাদী নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম এবং অপরটির বাদী আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল। এ সব মামলায় সরকারি আইনজীবী ছিলেন ওয়াজেদ আলী খোকন।

সাত খুনের মামলায় নারায়ণগঞ্জের আদালত প্রাক্তন কাউন্সিলর নূর হোসেন, র‌্যাবের প্রাক্তন তিন কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, আরিফ হোসেন ও এম এম রানাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার আপিলের রায়ে হাইকোর্ট নূর হোসেন ও র‌্যাবের ওই তিন কর্মকর্তাসহ ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন