শিরোনাম :

অক্টোবরেই বসবে স্বপ্নের মেট্রোরেলের মূল পিলার


রবিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৯:০১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

অক্টোবরেই বসবে স্বপ্নের মেট্রোরেলের মূল পিলার

ডেস্ক প্রতিবেদন: রাজধানীর মিরপুর পল্লবী সিনেমা হলের সামনে মূল সড়কের কিছু অংশ কংক্রিট ও লোহার বেড়ার মাঝে ক্রেন দিয়ে কাটা হচ্ছে রোড ডিভাইডার।  চলমান টেস্ট পাইলিংয়ের ওয়েট টেস্টের পর এ ডিভাইডার বরাবর বসবে মেট্রোরেল বা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিটের (এমআরটি) মূল পিলার।

মেট্রোরেল সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবরের শুরুতেই মূল সড়কে পিলার বসানো শুরু হবে। এ পিলারের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকবে স্বপ্নের মেট্রোরেল লাইন ও স্টেশন। মূল সড়কের ৬০ শতাংশ বন্ধ রেখে রোড ডিভাইডার সরানো হচ্ছে। বাকি অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচলে সহায়তা করছেন প্রকল্পের কর্মচারীরা। ফলে কিছুটা যানজটও তৈরি হচ্ছে মিরপুর এলাকায়।
 
তিনদিন ধরে রাস্তা কাটা হচ্ছে। আমরা মতিঝিল পর্যন্ত কাটবো। রাস্তার ডিভাইডারের স্থানে মেট্রোরেলের পিলার বসবে বলে জানান একজন। মিরপুর-১০ নম্বরের বেনারসি পল্লীর কাছেও ঢালাইয়ের বেড়া দেওয়া হচ্ছে সড়কের মাঝখানে। এখানেও স্থাপিত হবে মেট্রোরেলের পিলার।

আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সামনের সড়কের কিছু অংশ টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা। বিশাল বিশাল রিগ মেশিনের সাহায্যে এখানে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে টেস্ট পাইলিং। দৃশ্যমান হয়েছে একটি মূল পিলার ও সেটিকে ঘিরে চারটি সাপোর্টিং পিলার। তবে মাটি থেকে পিলার পাঁচটির উচ্চতা খুব বেশি নয়। পিলারগুলোর ওপরে স্থাপিত হবে ওয়েট।  

এখানে কর্মরত পাহারাদার দেবদাস বিশ্বাস বলেন, ‘পিলার সম্পূর্ণ হয়েছে। চার থেকে পাঁচদিন পরে ওপরে ওয়েট বসানো হবে। ওয়েট ওকে হলেই শুরু হবে সড়কে পিলার স্থাপনের কাজ’।
 
আগারগাঁও মোড়ের সাইট অফিস থেকে পুরো মেট্রোরেল প্রকল্পের তদারকি করা হচ্ছে। সেখানকার বিশাল পরিসরের ছয়টি আলাদা আলাদা কম্পোনেন্টে প্রকল্পের প্রয়োজনীয় মালামাল রাখা হয়েছে। বিশ্রামাগারসহ বিশাল ক্যান্টিন ও কিচেনরুম তৈরি করা হয়েছে, যেখানে কাজ শেষে বিশ্রাম নেন মেট্রোরেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরা তৃতীয় ফেজ (দিয়াবাড়ি) থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার অংশ ২০১৯ সালের মধ্যেই সবার আগে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্যাকেজ-৩ ও প্যাকেজ-৪-এর আওতায় এ অংশে থাকবে ভায়াডাক্ট (উড়াল রেলপথ) ও ৯টি রেলস্টেশন। এতে ব্যয় হবে চার হাজার ২৩০ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।

প্রাথমিকভাবে এ অংশেরই সড়কের ডিভাইডার তুলে ফেলা হচ্ছে। এর ওপরে পিলার স্থাপনের পর আগের স্থানে যাবে ডিভাইডার।  

এ দুই প্যাকেজের ঠিকাদারি কাজ পেয়েছে ইটালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড (ইটাল-থাই) ও চীনের সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেড। প্যাকেজ-২-এর আওতায় এক হাজার ৫৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেলের ডিপোও নির্মাণ করবে ইটাল-থাই ও সিনোহাইড্রো। এ অংশটুকুর প্রধান সাইট অফিস হিসেবেও আগারগাঁওকে ব্যবহার করা হচ্ছে।

ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (ডিএমআরটিডিপি) প্রজেক্ট ম্যানেজার সারোয়ার খান বলেন, ‘টেস্ট পাইলিংয়ের ওয়েট টেস্টের পরেই মূল সড়কে মেট্রোরেলের পিলার বসানো হবে। এজন্য ডিভাইডার সরিয়ে পর্যায়ক্রমে নয়টি লোড টেস্ট বসানো হবে পাঁচবারে।  চলতি মাসেই এ  লোড টেস্ট শেষ হবে। এরপর অক্টোবরের শুরুতেই মূল সড়কে মেট্রোরেলের পিলার তৈরি শেষে ফের ডিভাইডার দেওয়া হবে’।

এদিকে শনিবারও প্রকল্পের কর্মকর্তারা আগারগাঁও এলাকায় টেস্ট পাইলিং পরিদর্শন করে গেছেন। বাংলানিউজ

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন