শিরোনাম :

সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে জাম চাষের সম্ভাবনা


বুধবার, ১৪ জুন ২০১৭, ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সারাদেশে বাণিজ্যিকভাবে জাম চাষের সম্ভাবনা

ডেস্ক প্রতিবেদন: নাটোরের মর্ডান হর্টিকালচার সেন্টারে দেশীয় জামগাছকে খর্বাকৃতি প্রদানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একেবারে হাতের নাগালে নিয়ে আসায় বাণিজ্যিকভাবে জামচাষের অপার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানাযায়, রসালো ফল জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, জিংক, কপার, গ্লুকোজ, ডেক্সট্রোজ, ফ্রুকটোজ, ফাইবার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, স্যালিসাইলেটসহ অসংখ্য উপাদান। তাই কাজ করার শক্তি যোগানো এবং ভিটামিন সি’র অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধ ছাড়াও জাম শরীরের কোলেন্টেরল কমায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে, রক্তচাপের ওঠা-নামা রোধ করে, হার্ট সতেজ রাখে এবং মূত্রনালীর সংক্রমণ ঠেকানো ছাড়াও জাম হাজারো গুণে ভরপুর।

নাটোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ৬৬ হেক্টরে ছড়িয়ে থাকা এলাকার গাছ থেকে সম্ভাব্য ২৬৩ টন জাম পাওয়া যাবে। এসব জামের অনেকটাই গাছ থেকে না পাড়তে পাড়া এবং পচনশীলতার প্রেক্ষাপটে অব্যবহৃত থেকে যাবে।

বনে-জঙ্গলে, পথে-প্রান্তরে, বাড়ির আনাচে-কানাচে অযত্ম আর অবহেলায় জন্ম নেয়া জামগাছের থাকে আকাশ ছুঁতে চাওয়ার প্রবণতা। তাই জাম গাছের মগডালে ফল পাড়তে উঠে হাত-পা ভাঙ্গার খবর প্রায়ই শোনা যায়।

এমন অবস্থায় জাম পাড়ার ঝুঁকি না নেয়ায় প্রেক্ষিতে অনেক গাছের জাম হয়ে ওঠে শুধুই পাখির খাবার। আবার পাকা জাম একটার সাথে অন্যটা গায়ে লাগলে অথবা এমনিতেই পাঁচ-ছয় ঘন্টায় পচনশীল। তাই সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় পরিবহন অনুপোযোগী এই ফলের দ্রুত বিপনন প্রয়োজন হয়। এসব অসুবিধার কারণেই সম্ভবত এখনো জাম চাষের প্রচলন হয়নি।

নাটোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক স ম মেফতাহুল বারি জানান,“হর্টিকালচার সেন্টারগুলোতে আটি থেকে জামের চারা তৈরি হলেও বিপণন হয় না বললেই চলে”। কৃষি বিভাগের প্রচলিত ফল আবাদের তালিকায় জামের নাম নেই, জায়গা হয়েছে অপ্রচলিত ফলের তালিকায়।

এমন অবস্থায় নাটোর মর্ডান হর্টিকালচার সেন্টারে পরীক্ষা-নিরিক্ষার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে দেশীয় প্রজাতির খর্বাকৃতির জামগাছ। এমন তিনটি জাম গাছে এখন রাশিরাশি সুস্বাদু জাম।

গাছেরডাল ছেটে গাছকে উপরে বাড়তে দেয়া হয়নি বলে জানান সেন্টারের পরামর্শক এস এম কামরুজ্জামান। শুধু তাই নয়, নিদিষ্ট সময়ে গাছেরএকটা অংশ কেটে দিয়ে প্রতিবছরই গাছে ফুল ধরার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

দেশ-বিদেশের সংগ্রহ করা দুই শতাধিক ফলগাছের সমৃদ্ধ সংগ্রহশালা-মর্ডান হর্টিকালচার সেন্টারে সম্প্রতি সংযুক্ত হয়েছে ইটালী থেকে আনা বিভিন্ন রঙের আলু বোখারা, কিউই, গ্রীস্মকালীন আঙ্গুর ও অস্টেলিয়ার ব্লাড অরেঞ্জ।

দেশে প্রথমবারের মত সম্ভাবনাময় লংগানের হাইব্রিড জাতও উদ্ভাবন করা হয়েছে এই সেন্টারে। সেন্টারে বিপণনের উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে এক হাজার জামেরচারা। খর্বাকৃতির কৌশলে বাড়ির ছাদে এবং টবে খুব সহজেই এই জাম চাষ করা সম্ভব জানিয়ে সেন্টারের পরামর্শক বলেন, একটা গাছ থেকে অন্তত ২০০ কেজি ফল পাওয়া সম্ভব।

তাই অনায়াসে মাটিতে বসে অথবা দাঁড়িয়ে অল্পঅল্প করে জাম সংগ্রহ করে বাড়িতে খাওয়া সম্ভব, আবার বাজারে বিপণনও সম্ভব।

বাংলাদেশ সরকারের কৃষি বিভাগের ফল উৎপাদন প্রকল্পের পরামর্শক হিসেবে নিয়োজিত এস এম কামরুজ্জামান আরো বলেন, শুধু ছাদে কিংবা টবেই নয় বরং আবাদি জমিতে বাণ্যিজ্যিকভাবে জাম চাষ সম্ভব। হাতের নাগালে থাকা জাম খুব সহজেই পর্যায়ক্রমে সংগ্রহ করে বিপণন করা যাবে। এক বিঘাজমিতে ২০টি গাছ থেকে অন্তত ১০০ মণ জাম পাওয়া সম্ভব- যার বাজার মূল্য হবে প্রায় তিন লাখ টাকা। আর সংরক্ষণ সুবিধা থাকলে মুনাফার পরিমান হবে আরো বেশী।

গত শুক্রবার মর্ডান হর্টিকালচার সেন্টার পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। তিনি বলেন, বেজার ২০০ অর্থনৈতিক অঞ্চলের সবুজ বনায়ন কর্মসূচিতে খর্বাকার জামের চারা রোপণ করাাহবে। বেজা চেযারম্যানের মতআিগ্রহী ব্যক্তিদের উদ্যোগে এক সময় হয়তো সারাদেশে জাম চাষের প্রসার ঘটবে। বাসস

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন