শিরোনাম :

রাজারহাট চামড়ার মোকাম, সবাই তাকিয়ে শনিবারের দিকে


বৃহস্পতিবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:৪৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

রাজারহাট চামড়ার মোকাম, সবাই তাকিয়ে শনিবারের দিকে

ডেস্ক প্রতিবেদন: এখনো জমে ওঠেনি দেশের অন্যতম প্রধান চামড়ার মোকাম যশোরের রাজারহাট। আগামী শনিবার রাজারহাট জমবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।

প্রতিবছর যে হাটে কোটি কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়, এবার ঈদের পর মঙ্গলবারের হাট মোটেই জমেনি।মুখরিত হয়নি ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে।গতবছর ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাটে রাজারহাটে প্রায় দশ কোটি টাকার চামড়া বেচাকেনা হয়েছিল। এবার সেখানে বিক্রি হয়েছে দেড় থেকে দুই কোটি টাকার মতো। এখন শনিবারকে ঘিরেই ব্যবসায়ীদের সকল প্রত্যাশা।

জানা যায়, এবার এই মোকাম সংশ্লিষ্টদেরকে মাঠ পর্যায় থেকে তাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় চামড়া সংগ্রহ করতে হয়েছে। একই সঙ্গে লবণের দামও বেড়েছে। চামড়া পাইকারি বিক্রি করতে এসে আসল বাঁচানোই যাচ্ছে না। গরুর চামড়া প্রতি ২০০-৩০০টাকা ও ছাগলের চামড়া প্রতি ৫০-৬০টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এই লোকসানের কথা জানালেন বৃহত্তম চামড়ার হাটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ।

অপরদিকে পাইকাররা বলছেন, ট্যানারি শিল্প সমিতির নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকায় ঝুঁকি নিয়ে তারা চামড়া ক্রয় করছেন। ফলে ট্যানারি মালিকরা দাম না বাড়ালে বিপদে পড়তে হবে তাদের।

ব্যবসায়ীদের মতে, লোকসানের আশঙ্কায় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা হাটে চামড়া না নিয়ে আসায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ট্যানারি কর্তৃক মাঠপর্যায় থেকে উচ্চমূল্যে চামড়া সংগ্রহ, পাওনা টাকা না পাওয়া ও লবণের অতিরিক্ত দামও প্রভাব ফেলেছে হাটে। তবে, ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের আশা, শনিবারের হাটে চামড়ার দেখা মিলবে।

যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে রাজারহাটে চামড়াহাট বসে সপ্তাহে দুইদিন শনি ও মঙ্গলবার । এ হাটে যশোর ছাড়াও খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, মাগুরা, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, ঢাকা, রাজশাহী, পাবনা, ঈশ্বরদী, নাটোরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বড় বড় ব্যবসায়ীরা চামড়া বেচাকেনা করেন। এবারের ঈদ ছিল শনিবার। ফলে মঙ্গলবার ছিল ঈদ-পরবর্তী প্রথম হাট। প্রথম হাট যেমন জমজমাট থাকে অন্য বছর, এবারের চিত্র তার পুরোটাই উল্টো। প্রত্যাশার এক-তৃতীয়াংশ চামড়াও ওঠেনি হাটে।

চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আকিল আহমেদ জানান, এবার ব্যবসায়ীদের হাতে কোনো টাকা নেই। সব পুঁজি আটকা পড়েছে ঢাকার ট্যানারি মালিকদের কাছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে ব্যবসায়ীদের বকেয়া রয়েছে অন্তত ২ কোটি টাকা। গত বছরের পাওনার ২৫ ভাগ টাকা দিয়েছে ট্যানারি মালিকরা। এই টাকায় দেনা শোধ করবে, না নতুন করে চামড়া কিনবে? যে কারণে প্রথম হাটে তেমন ক্রেতা-বিক্রেতা নেই।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন