শিরোনাম :

৫০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক


শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৮:১৫ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

৫০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক

ডেস্ক প্রতিবেদন: ব্যাসেল-থ্রির শর্তমতে টায়ার-টু মূলধন বাড়াতে দ্বিতীয় দফায় ৫০০ কোটি টাকার সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, সাত বছর মেয়াদি বন্ডটি হবে আনসিকিউরড, নন-কনভারটেবল, সাব-অর্ডিনেটেড বন্ড। যোগ্য বিনিয়োগকারীরা প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এ বন্ড ক্রয় করতে পারবেন।

তবে এ বন্ড ইস্যু করার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন প্রয়োজন হবে তাদের।

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলেই ৬০১তম কমিশন সভায় ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডের অনুমোদন দেয় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি। সভা শেষে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. সাইফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ব্যাংকটির সাত বছর মেয়াদি বন্ডটির বৈশিষ্ট্য হচ্ছে নন কনভার্টিবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড। ‘ব্যাসেল থ্রি’ অনুসারে ‘টায়ার টু’ মূলধনভিত্তি বাড়াতে এ বন্ড ইস্যু করবে ব্যাংকটি। শুধু বাণিজ্যিক ব্যাংক, নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, করপোরেট হাউজ এবং অন্যান্য যোগ্য বিনিয়োগকারী প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ১ কোটি টাকা অভিহিত মূল্যের এ বন্ড কিনেন।

প্রথম দফায় ইস্যু করা সে বন্ডের লিড অ্যারেঞ্জার ছিল স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও ট্রাস্টি গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স।

ক্রেডিট রেটিং ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের প্রত্যয়ন অনুসারে, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘ডাবল এ প্লাস’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি ওয়ান’। ২০১৬ সালের নিরীক্ষিত ও ২০১৭ সালের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং হালনাগাদ অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে গত জুনে এ ঋণমান প্রকাশ করে রেটিং এজেন্সিটি।

৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০১৬ হিসাব বছরের জন্য ৩০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে ডাচ্-বাংলা। গেল হিসাব বছরে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৮ টাকা ৮১ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১৫ টাকা ১০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর এর শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ৮৮ টাকা ৩০ পয়সায়। এর আগে ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাব বছরের জন্য ৪০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছেন ডাচ্-বাংলার শেয়ারহোল্ডাররা।

চলতি হিসাব বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ইপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৬ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ২ টাকা ২ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ৯৫ টাকা ৩১ পয়সায়।

এদিকে প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা ২৬ পয়সা, আগের বছর একই সময়ে যা ছিল ৭ টাকা ৬৪ পয়সা। ডিএসইতে সর্বশেষ ১৫২ টাকায় ডাচ্-বাংলার শেয়ার হাতবদল হয়। গত এক বছরে এ শেয়ারের সর্বনিম্ন দর ছিল ৯৯ টাকা ও সর্বোচ্চ ১৭৮ টাকা ২০ পয়সা।

ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ২০০১ সালে তালিকাভুক্ত হয়। ৪০০ কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধনের বিপরীতে বর্তমানে এর পরিশোধিত মূলধন ২০০ কোটি টাকা। রিজার্ভ ১ হাজার ৫০৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা। কোম্পানির ৮৭ শতাংশ শেয়ারই এর উদ্যোক্তা-পরিচালকদের কাছে, প্রতিষ্ঠান ৪ দশমিক ২৭, বিদেশী দশমিক ১৩ ও বাকি ৮ দশমিক ৬ শতাংশ শেয়ার রয়েছে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে। সর্বশেষ নিরীক্ষিত

মুনাফা ও বাজারদরের ভিত্তিতে ডাচ্-বাংলা শেয়ারের মূল্য আয় (পিই) অনুপাত ১৭ দশমিক ৩৮, হালনাগাদ অনিরীক্ষিত মুনাফার ভিত্তিতে যা ১১ দশমিক ১৯।

সূত্র: বণিক বার্তা

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন