শিরোনাম :

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ: ৮২২ কোটি টাকা ব্যয় কাটছাঁট


শনিবার, ১০ মার্চ ২০১৮, ০৩:২৯ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

পদ্মা সেতু রেল সংযোগ: ৮২২ কোটি টাকা ব্যয় কাটছাঁট

ডেস্ক প্রতিবেদন: পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৪ হাজার ৯৮৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এরপর প্রকল্প কার্যালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) সংশোধন করে ৫ হাজার ৯১ কোটি টাকা বাড়িয়ে ব্যয় ৪০ হাজার ৮০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। সেই সংশোধিত ডিপিপিতে বেশকিছু কাটছাঁট করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরীক্ষণ কমিটি। প্রস্তাবের তুলনায় ব্যয় কমানো হয়েছে ৮২২ কোটি টাকা। এর ফলে বর্তমানে প্রকল্প ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ১২ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি চূড়ান্ত করে সম্প্রতি রেলওয়েতে জমা দেয় প্রকল্প অফিস। সংশোধিত ডিপিপিতে ভূমি অধিগ্রহণে ৩ হাজার ৩১৫ কোটি ৮১ লাখ, পুনর্বাসনে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ, পরামর্শক খাতে ৯০ কোটি ৭০ লাখ, নির্মাণ খাতে ৯৫৯ কোটি, দর সমন্বয়ে ২৫৯ কোটি ৫৪ লাখ, অনিশ্চিত খাতে ১৬৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকাসহ মোট ৫ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪০ হাজার ৮০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে সম্প্রতি রেলওয়ের নিরীক্ষণ কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ব্যয়ে বেশকিছু কাটছাঁট করে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রকল্প কার্যালয় ভূমি অধিগ্রহণ বাবদ ৩ হাজার ৩১৫ কোটি ৮১ লাখ ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। নিরীক্ষণ কমিটি এর সঙ্গে আরো ৫৬ কোটি টাকা যোগ করেছে। অর্থাৎ ভূমি অধিগ্রহণে ব্যয় বাড়ছে ৩ হাজার ৩৭১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে এ খাতে ব্যয় হচ্ছে ৬ হাজার ২২৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা, যা মূল ডিপিপির তুলনায় ১১৮ শতাংশ বেশি। মূল ডিপিপিতে ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৮৫৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা।

নির্মাণ খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে প্রস্তাব অনুযায়ীই। মূল ডিপিপিতে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৭ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। সেখান থেকে ৯৫৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে বর্তমানে নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ৬১১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। নির্মাণ খাতে ব্যয়ের পুরোটাই বেড়েছে করপোরেট আইটি-ভ্যাট বাবদ।

অন্যদিকে প্রকল্পের পুনর্বাসন, পরামর্শক খাতে যথাক্রমে ১৬২ কোটি ৮০ লাখ ও ৯০ কোটি ৭০ লাখ টাকা ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। নিরীক্ষণ কমিটি খাত দুটির ব্যয় বাড়ায়নি। অর্থাৎ এ দুই খাতে মূল ডিপিপি অনুযায়ীই ব্যয় হবে। মূল ডিপিপিতে পুনর্বাসন খাতে ৫৬৬ কোটি ২২ লাখ টাকা ও পরামর্শক খাতে ৯৪০ কোটি ৮৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছিল।

দর সমন্বয় খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২৯২ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। সেখান থেকে ২৫১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা বাড়িয়ে তা ৫৪৪ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয়া হয়। তবে রেলওয়ের নিরীক্ষণ কমিটি এ খাতে ব্যয় বাড়িয়েছে ২২৮ কোটি ৪ লাখ টাকা। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের দর সমন্বয় খাতে বর্তমানে ব্যয় হচ্ছে ৫২০ কোটি ৬১ লাখ টাকা, যা মূল ডিপিপির তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি।

মূল ডিপিপিতে অনিশ্চিত খাতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৯৫ কোটি টাকা। সেখান থেকে ১৬৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা বাড়িয়ে তা ৩৬৩ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেয় প্রকল্প অফিস। তবে রেলওয়ের নিরীক্ষা কমিটি এ খাতে ব্যয় ১৫২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩৪৭ কোটি ৭ লাখ টাকা করেছে, যা মূল ডিপিপির তুলনায় ৭৮ শতাংশ বেশি।

প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তাকারী বিভিন্ন সরঞ্জাম সংগ্রহে ১৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। এ খাতে ব্যয় তো বাড়েইনি, উল্টো ৩৬ শতাংশ বা ৯ কোটি ৯১ লাখ টাকা কমানো হয়েছে। বতর্মানে খাতটিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। একইভাবে সিডি ও ভ্যাট বাবদ ব্যয় কমানো হয়েছে ২৫ শতাংশ। মূল ডিপিপিতে সিডি ও ভ্যাট বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৫১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। সংশোধিত ডিপিপিতে তা ১ হাজার ৭৭৫ কোটি ১৩ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে মানবসম্পদ খাতে ২৩ শতাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ খাতে ২০ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ২৬৩ শতাংশ। এ তিন খাতে মোট ব্যয় হচ্ছে ২৮১ কোটি টাকা।

সব মিলিয়ে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ব্যয় বাড়ছে ৪ হাজার ২৬৯ কোটি টাকা, যা মূল ডিপিপির তুলনায় ১২ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। সংশোধিত ডিপিপিটি রেলপথ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই করে তা পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোফাজ্জেল হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি এখনো মন্ত্রণালয়ে আসেনি। আমাদের এখানে পৌঁছলে পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করা হবে।

প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন ভূমি অধিগ্রহণ আইনে অধিগ্রহণ ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। এজন্য ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয়ে এ প্রকল্পে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে।

এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়নকারী চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে এখনো ঋণ চুক্তি সম্পন্ন করতে পারেনি রেলওয়ে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা আগামী মাসে এ চুক্তি সই হওয়ার আশা করছেন।

সংশোধিত ডিপিপি অনুযায়ী পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৩৯ হাজার ২৫৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা ঋণ দেবে চীন। বাকি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার। সূত্র: বণিক বার্তা

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন