শিরোনাম :

বাড়ছে রড সিমেন্টের দাম


মঙ্গলবার, ২৭ মার্চ ২০১৮, ১০:২৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাড়ছে রড সিমেন্টের দাম

ডেস্ক প্রতিবেদন: রড সিমেন্টের দাম বাড়ছেই। কেবল চলতি মাসেই প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে ১০ হাজার টাকা। আর সিমেন্টে বেড়েছে বস্তা প্রতি ৯০ থেকে একশ’ টাকা। নির্মাণ শিল্পের প্রধান এ দুটি উপকরণের দাম বেড়ে চলেছে বেশকিছুদিন ধরেই। কারণ হিসেবে উৎপাদনকারীরা আন্তর্জাতিক বাজারের কাঁচামালের দাম বাড়ার কথা বললেও, নির্মাণ কাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতি মুনাফার লোভে সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানো হচ্ছে।

একদিকে বড় বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতেও চলছে নানা অবকাঠামো নির্মাণের কাজ। আর এসব কাজের বড় উপকরণ রড ও সিমেন্টের বাজার বড়ই অস্থির। চলতি মাসেই প্রতি টন রডের দাম বেড়েছে প্রায় দশ হাজার টাকা। গেলো ছয় মাসে বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

নির্মাণ সমাগ্রীর বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত বছর অক্টোবর মাসে প্রতি টন রডের দাম ছিলো ৪৫হাজার টাকা। নভেম্বর মাসে টন প্রতি তিন হাজার টাকা দাম বাড়ায় উৎপাদনকারীরা। এর পর থেকে দফায় দফায় বেড়ে বর্তমানে প্রতি টন রড বিক্রি হচ্ছে ৭০ হাজার টাকায়। রডের সাথে দাম বাড়ছে লৌহজাত অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দামও। এক মাসের ব্যবধানে ৫০ কেজির বস্তায় ১২শ’ টাকা বেড়েছে নাট বোল্টের দাম। এছাড়া, নির্মাণ শিল্পের আরেক অপরিহার্য উপাদান সিমেন্টের দাম বস্তা প্রতি বেড়েছে ৯০ থেকে একশ’ টাকা। এক মাস আগেও এক বস্তা সিমেন্ট ৩৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৪৫০ থেকে ৪৭০ টাকা।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, বর্তমানে আর্ন্তজাতিক বাজরেও কাঁচা মালের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্বেও অতিরিক্ত মুনাফা লোভে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নির্মাণ সামগ্রির দাম বাড়াচ্ছে উৎপাদকরা। জানালেন, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্সস্ট্রাকশন ইন্ড্রাস্টিজের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুনীর উদ্দিন আহ্মেদ। নির্মাণ সামগ্রীর দাম এভবে ক্রমাগত বাড়তে থাকলে উন্নয়ন কাজের গতি কমে যাওয়ার আশংকার কথাও বলেন নির্মাণ শিল্পের এই ব্যবসায়ী নেতা।

সিমেন্ট খাতের উদ্যোক্তারা বলেন, এ খাতের সবগুলো কাঁচামালই আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিক বাজারে সিমেন্টের দাম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এর কাঁচামালের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। সিমেন্ট উৎপাদনে প্রধান পাঁচটি কাঁচামাল হলো ক্লিংকার, লাইমস্টোন, স্ল্যাগ, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসাম।

মূলত, সিমেন্ট তৈরিতে ব্যবহৃত ক্লিংকারের দাম আগের তুলনায় অনেকটা বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে সিমেন্টের দামের উপর। সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানির তথ্যানুসারে, ২টি কারখানা ক্লিংকার উৎপাদন করলেও বাকি ৩২টি কারখানা ক্লিংকারসহ অন্যান্য কাঁচামাল আমদানি করেই সিমেন্ট প্রস্তুত করে।

শুধু ক্লিংকারের দাম-ই নয়, দাম বেড়েছে জ্বালানি তেলেরও। এ ছাড়া সিমেন্টের ব্যাগের দামও বেড়েছে আগের তুলনায়। এ তালিকা থেকে বাদ যায়নি গ্যাসের দামও। এদিকে শুধু কাঁচামালের দাম-ই নয় খরচ বেড়েছে পরিবহন ব্যবস্থারও। এ ছাড়া বাংলাদেশের বন্দরের চিরায়ত সমস্যাতো রয়েছেই। বন্দরের অনিয়ম ও পণ্য খালাসে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে তাঁদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা।

সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি ও মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল সাংবাদিকদের বলেন, সিমেন্টের কাঁচামাল আমদানি থেকে শুরু করে প্রস্তুত পণ্য পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপেই খরচ বেড়েছে। এখন প্রতি বস্তা সিমেন্টে বাড়তি খরচ হচ্ছে কোম্পানিভেদে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বাড়তি খরচের একাংশ সমন্বয় করা হয়েছে। তাই প্রতিবস্তা সিমেন্ট প্রতি ২০ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দাম বাড়ার আগে মানভেদে বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি বস্তা সিমেন্ট বিক্রি হতো ৩৪৫ থেকে ৩৯০ টাকা। এখন প্রতি বস্তা সিমেন্টের দাম বেড়ে হয়েছে ৩৬৫ থেকে ৪১০ টাকা।

সিমেন্ট প্রস্তুতকারক সমিতি ও উদ্যোক্তাদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সিমেন্ট খাতে উৎপাদনে রয়েছে ৩৪ কারখানা। এগুলো ২০১৭ সালে সম্মিলিতভাবে উৎপাদন করেছে প্রায় আড়াই কোটি টন সিমেন্ট। এ হিসেবে দাম বাড়ায় সিমেন্ট ব্যবহারকারীদের বছরে বাড়তি ব্যয় করতে হবে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। টাকার অঙ্কে বছরে সিমেন্টের বেচাকেনা দাঁড়াবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

উল্লেখ্য, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই পাঁচটি কাঁচামাল আমদানি হয়েছে ২ কোটি ২৯ লাখ টন। চট্টগ্রাম ও মংলা বন্দর দিয়ে সিমেন্ট ক্লিংকার আমদানি হয় ১ কোটি ৪৫ লাখ টন। উদ্যোক্তারা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সিমেন্টের প্রধান কাঁচামাল ক্লিংকারের দাম বেড়েছে টনপ্রতি চার থেকে পাঁচ ডলার। ক্লিংকার রপ্তানিকারক দেশ চীন, নিজেদের প্রয়োজনীয়তা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্লিংকার আমদানি শুরু করেছে। এতে চাপ পড়ছে বৈশ্বিক বাজারে। মূলত চীনের আমদানিই বিশ্ববাজারের ক্লিংকারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

এদিকে রডের পর সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে আবাসন খাতে। আবাসন ব্যবসায়ীদের দাবি, এরই মধ্যে তারা ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে ঝামেলায় ভোগছেন। ক্রেতারা প্রস্তুতকৃত দামেও ফ্ল্যাট কিনতে চাচ্ছেন না। এরইমধ্যে রডের বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা ক্ষতির মধ্যে আছি। এবার সিমেন্টের দাম বৃদ্ধি করায় ফ্ল্যাট নির্মাণে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। এতে আবাসন খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন