শিরোনাম :

হিলিতে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ


বুধবার, ৩ অক্টোবর ২০১৮, ০৯:২৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

হিলিতে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ

দিনাজপুর: দিনাজপুরের হিলি সীমান্ত দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দু’দিন হয়ে গেলেও এখনও জট কাটেনি। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশের বণিক মহল। ওপারের ব্যবসায়ীদের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ হয়ে আগাম সতর্ক করে নির্দিষ্ট সময়সীমা দিয়েই তারা বাণিজ্য বন্ধের মতো গুরুত্বপুর্ণ পদক্ষেপ করেছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ডলার বা ৭.৪ কোটি বাণিজ্যের ক্ষতি হচ্ছে বলে ভারতের ব্যবসায়ী সমিতি সূত্রে জানা গেছে।

প্রশাসনও এখন পর্যন্ত সমস্যার প্রতিকারে কোন পদক্ষেপ করেনি, বরং উপেক্ষার মনোভাব নিয়েই চলেছে। ভারতের দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলাশাসক দীপাপ প্রিয়া পি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছিলেন। যেটুকু বুঝেছি, তাতে মনে হচ্ছে এটা ব্যবসায়ীদের নিজেদের ঝামেলা থেকে হয়েছে। তাই প্রশাসনের কিছু করার নেই। ওটা তাদেরই মিটিয়ে নিতে বলেছি।’

ভারতের বণিক মহল সূত্রে জানা গেছে, বিরোধের কারণ বাংলাদেশে পাথর রপ্তানি। পদ্মা নদীর উপর সেতু নির্মাণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের প্রকল্প অনেকটাই নির্ভরশীল ভারত থেকে পাথর আমদানির উপর। সেই পাথরের অধিকাংশই হিলি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে যায়। দীর্ঘদিন ধরে হিলিতে শুল্ক দপ্তরের চেকপোস্ট হয়ে বাংলাদেশে রপ্তানি হত পেঁয়াজ, চাল, ফল ইত্যাদি। এই আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর হয়ে গড়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০ ট্রাক পণ্য আসে এপারে। পাথর পচনশীল নয় এবং তুলনায় কম অর্থ বিনিয়োগ করে বেশি লাভ সম্ভব। সেই কারণে পদ্মায় সেতু নির্মাণ শুরু হওয়ার পর পাথর রপ্তানিতে মেতে ওঠেন হিলিতে ওপারের ব্যবসায়ীরা। তা নিয়ে শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এ নিয়ে রেষারেষির পাশাপাশি শুরু হয়েছে সীমান্তে পাথর মজুত করা নিয়ে প্রতিযোগিতা। এর জেরে ৭ দিন ধরে বাংলাদেশে পাথর রপ্তানি বন্ধ। তাতে বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা।

তিন দিন আগে এপারের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংগঠন ‘বাংলা হিলি কাস্টমস সি অ্যান্ড এফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ চিঠি দিয়ে সতর্ক করে জানায়, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমস্যার সমাধান না-হলে তারা হিলি দিয়ে সমস্ত ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতি না-পাল্টানোয় অক্টোবরের প্রথম দিন থেকে হিলি সীমান্ত দিয়ে আমদানি, রপ্তানি, সব বাণিজ্যই বন্ধ করে দিয়েছেন এপার বাংলার ব্যবসায়ীরা। তাতেও জট কাটানোর চেষ্টা না-করে ওপারের রপ্তানি ব্যবসায়ীদের দু’টা গোষ্ঠী বালুরঘাটে সাংবাদিক বৈঠক করে একে অপরের প্রতি দোষারোপ করছে।

হিলি এক্সপোর্টাস অ্যান্ড কাস্টমস ক্লিয়ারিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ভবতোষ মজুমদার বলেন, ‘কিছু স্বার্থান্বেষীর জন্য ৭ দিন ধরে পাথর রপ্তানি বন্ধ ছিল। যার জেরে ওপারের ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে সমস্ত পণ্যের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছেন। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, ভারত থেকেই তাঁদের উস্কানো হয়েছে।’তাঁর দাবি, এতে আর্থিক লোকসানের পাশাপাশি হিলির ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

অন্যদিকে, একই সমিতির প্রাক্তন সম্পাদক সঞ্জিত মজুমদার বলেন, ‘কিছু ব্যবসায়ী গায়ের জোরে অন্য পণ্যের ট্রাকগুলি আটকে রেখে কেবল পাথর পাঠাচ্ছিলেন বাংলাদেশে। আমরা তার প্রতিবাদ করায় দেখছি, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে রপ্তানির জন্য পাথর নথিভূক্ত করা হচ্ছে না। তার জেরে বাংলাদেশ এই সীমান্ত দিয়ে ব্যবসাই বন্ধ করে দিল। যাঁরা গা-জোয়ারি করছিলেন, এর দায় তাঁদের নিতে হবে।’

এই ব্যবসায়িক বিরোধে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর প্রশ্রয় আছে বলে অভিযোগ উঠলেও তৃণমূলের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সভাপতি বিপ্লব মিত্র বলেন, ‘রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে আমাদের কোন সম্পর্ক নেই। ওদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সুবাদে জানি, রাজনৈতিক কেন, ওদের মধ্যে কোন ব্যবসায়িক বিবাদও নেই। গোলমালটা কিছু সুবিধাবাদী লোকের তৈরি।’ রপ্তানি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ওয়েস্ট বেঙ্গল এক্সপোর্টার্স কো-অর্ডিনেশন কমিটির সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল সাহার বক্তব্য, ‘যে কারণেই বাণিজ্য বন্ধ হোক, তা তাড়াতাড়ি স্বাভাবিক করা দরকার। একদিন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বন্ধ থাকার মানে শুধু ব্যবসায়ীদের নয়, সরকারেরও বিরাট অঙ্কের রাজস্ব ঘাটতি হয়। আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও রাজ্য সরকারের হস্তক্ষেপ চাইছি।’

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন