শিরোনাম :

বাদল ও সোমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ


সোমবার, ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০১:২৬ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাদল ও সোমার ৫০০ কোটি টাকার সম্পত্তি জব্দ

ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন আইএফআইসি ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও শেয়ারবাজার কারসাজির অন্যতম হোতা লুৎফর রহমান বাদল ও তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের নামে থাকা সকল স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করেছে। আদালতের আদেশ নিয়ে রোববার এই সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য গতকাল জানান, কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই দম্পতির ক্রোক করা সম্পদের দালিলিক দাম ২৫৩ কোটি টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য ৫০০ কোটি টাকারও বেশি।

জানা গেছে, দ-বিধি ৩৮৬ মোতাবেক তাদের সকল স্থাবর সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট জেলার ডিসির কাছে জব্দ থাকবে। অন্যদিকে অস্থাবর সকল সম্পত্তি ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছে জব্দ থাকবে।

জব্দ করা স্থাবর সম্পদের মধ্যে আছে- লুৎফর রহমানের বনানীর পুরাতন ডিওএইচএসের ৫ নং রোডের ৬৮ নম্বর বাড়ি, বাড়িধারা মডেল টাউনের তিন তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি, ধানমন্ডির রয়েল প্লাজা, বনানীর গলফ হাইটস, গুলশানের ভাটারার ১৩ শ বর্গফুটের বাড়ি এবং কাকরাইল ও রমনার ভিটি ভূমি।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে- সাউথ ইস্ট ব্যাংকের একক ও যৌথ হিসাব, ওয়েসিস ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন লি: এর ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, সিনক্লিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালের ১ লাখ টাকার শেয়ার, লতিফ সিকিউরিটিজ লি: এর ১২ লাখ ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, বিসি করপোরেশনের ৫০ হাজার টাকার শেয়ার, ডায়াপার লি: শেয়ার ৬০ লাখ টাকার শেয়ার, বেঙ্গল মিডিয়া করপোরেশনের ১ কোটি টাকার শেয়ার, আল মানার হাসপাতালের ৬৩ লাখ ২৫ হাজার টাকার শেয়ার, ইউনিয়ন ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের ৪১ লাখ ৮১ এবং অন্যান্য সম্পদ।

দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, ২০১৭ সালের ২৮ মে দুদকের উপপরিচালক শেখ আবদুস সালাম বাদী হয়ে লুৎফর রহমান বাদলের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন ২৯ মে তার স্ত্রী সোমা আলম রহমানের নামেও রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়।

স্পেশাল জজ আদালতে পাঠানো দুদকের চিঠিতে দুদকের উপপরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন মৃধা বলেন, আসামি লুৎফর রহমান বাদল দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে পালাতক আছেন।

এই পরিস্থিতিতে আসামিরা সম্পদ হস্তান্তরের জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন। এ সকল সম্পদ হস্তান্তর করলে বিচারের রায় শেষে সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণ ও জরিমানা আদায় একেবারে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

তদন্তের স্বার্থে আসামি বাদলের নামে বিভিন্ন লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার মূলধন ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ এবং বাড়ি-ফ্ল্যাট ও জমি ক্রোক করার প্রয়োজনীয় আদেশ প্রদান করার জন্য আবেদন করছি।

আবেদনে বলা হয়েছে, লুৎফর রহমান বাদলের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ২ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩ টাকার তথ্য অসৎ উদ্দেশ্যে গোপন ও ৫৯ কোটি ৭০ লাখ ৩৪ হাজার ২৯০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে ভোগ দখলে রেখে দুদক আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ঘোষিত স্থাবর অস্থাবর সম্পদ যাচাইকালে দেখা গেছে- তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৩০ কোটি ২৭ লাখ ২৩ হাজার ৩৯৬ টাকা।

সোমা আলম রহমানের দুর্নীতি বিষয়ে বলা হয়েছে, সোমা আলমের দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণীতে ২ কোটি ২৬ লাখ ৯০ হাজার টাকার তথ্য অসৎ উদ্দেশ্য গোপন ও ৯২ কোটি ৮২ লাখ ৮২ হাজার ৩৭২ টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করে।

দুদক তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ যাচাইকালে দেখেছে, সোমার সম্পদের পরিমাণ ১৩৭ কোটি ৫৪ লাখ ৯০ হাজার ৬৯৭ টাকা। সব মিলিয়ে এই দম্পতির সম্পদের পরিমাণ হচ্ছে প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা। এই সকল সম্পদ জব্দ করার নির্দেশ দেন আদালত।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন