শিরোনাম :

শিল্পে উন্মুক্ত হচ্ছে গ্যাস সংযোগ, বাড়ছে দামও


শুক্রবার, ১ মার্চ ২০১৯, ০২:২০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

শিল্পে উন্মুক্ত হচ্ছে গ্যাস সংযোগ, বাড়ছে দামও

ডেস্ক: এপ্রিলে জাতীয় গ্রিডে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি (তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) যুক্ত হবে। তখন আমদানিকৃত মোট এলএনজির পরিমাণ দাঁড়াবে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।

সরকারের জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এতে ঢাকায় গ্যাসের চলমান সংকট কমবে। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস দেয়ার পাশাপাশি সংযোগের অনুমোদন পাওয়া নতুন শিল্প-কারখানাগুলোতে গ্যাস সংযোগ মিলবে।

তবে নতুন গ্যাসের পাশাপাশি গ্রাহককে গুনতে হবে বাড়তি দাম। এজন্য সরকারের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত পর্যায়ে। তিতাসসহ সব বিতরণ কোম্পানি ইতিমধ্যে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কাছে। চলতি মাসেই এ বিষয়ে গণশুনানির প্রস্তুতি নিচ্ছে বিইআরসি।
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ যুগান্তরকে বলেন, নতুন এলএনজি আসছে। আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বাড়ছে। এর সঙ্গে সবকিছুর মিল করতে চাইলে দাম কিছুটা বাড়াতেই হবে।

তবে এই দাম বৃদ্ধি পাবে বিশেষভাবে কমার্শিয়াল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্ষেত্রে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমি মনে করি শিল্পে গ্যাস সংযোগ টোটালি উন্মুক্ত হয়ে যাক। আর এটা খুব দ্রুত করতে চাই। সংযোগের জন্য একটি গাইডলাইন থাকবে। সে অনুযায়ী শিল্প মালিকরা আবেদন করবেন আর ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কানেকশন পেয়ে যাবেন।

জানা গেছে, ১৮ আগস্ট থেকে তরলিকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) যুক্ত হয় পাইপলাইনে। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৫১০ থেকে ৫২০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি যুক্ত হচ্ছে পাইপলাইনে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৩০০ আর ঢাকায় দেয়া হচ্ছে ২১০ থেকে ২২০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি। এপ্রিলে নতুন এলএনজি এলে পুরোটাই দেয়া হবে জাতীয় গ্রিডে। তখন জাতীয় গ্রিডে এলএনজির পরিমাণ হবে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল যুগান্তরকে বলেন, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় গ্রিডে আরও ৫০ কোটি ঘনফুটের (৫০০ মিলিয়ন) বেশি এলএনজি যোগ হবে। তখন তিতাসের জন্য অন্তত ২০ কোটি (২০০ মিলিয়ন) ঘনফুট গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানো হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। ওই সময় ঢাকায় গ্যাসের সংকট অনেক কমে যাবে। তিনি আরও বলেন, তিতাস সিস্টেমের জন্য বর্তমানে ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা রয়েছে ২০০ কোটি ঘনফুটের কিছু বেশি। এপ্রিল থেকে এই ঘাটতি অনেক কমে যাবে।

পেট্রোবাংলা ও তিতাস সূত্র জানায়, আগে দুই দফায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হয় ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সব মিলিয়ে মোট গ্যাস আছে ৩২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আগামী এপ্রিলে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আসবে।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, এলএনজি আসার পর বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার কারখানা, বাখরাবাদ ও জালালাবাদ সিস্টেম এবং পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস দিতে হয়েছে। এবার নতুন গ্যাস যোগ হওয়ার পর তিতাসের জন্য বরাদ্দ করা গ্যাস নিয়ে টানাহেঁচড়া কমে যাবে। এতে সারা দেশে চলমান গ্যাস সংকট কমবে। একই সঙ্গে অনুমোদন পাওয়া নতুন শিল্প-কারখানাগুলোর জন্য গ্যাস দেয়া এবং শিল্প-কারখানায় গ্যাস সংযোগ উন্মুক্ত করাও সহজ হবে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার এলএনজি আমদানি করেছে সরকার। প্রতি ইউনিট ৩২ টাকা দরে আমদানি করে ওই গ্যাস ৭ টাকা ১৭ পয়সা দরে বিক্রি করার কারণে এ পর্যন্ত প্রায় ১৫শ’ কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে সরকারকে। গত বছর শুধু অক্টোবর মাসে এলএনজিতে ভর্তুকি দিয়েছে ৫৬০ কোটি টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানি করে এতদিন ভর্তুকি দিয়ে সরকার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করেছিল। এ ভর্তুকি কমাতেই বিতরণ কোম্পানিগুলো সব ধরনের গ্যাসের দাম ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো জানিয়েছে, নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী দাম বাড়লে বাসাবাড়িতে দুই বার্নার চুলার দাম ৮৫০ থেকে বেড়ে ১২শ’ টাকায় হবে। আর এক বার্নারের দাম ৮শ’ থেকে বেড়ে ১০০০ টাকা হবে। আবাসিক ছাড়াও দাম বাড়বে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ক্যাপটিভ পাওয়ার, সিএনজি, শিল্প ও সার কারখানায় ব্যবহৃত গ্যাসের দাম।

জানা গেছে, গ্যাস অপচয়ের অজুহাত দেখিয়ে ২০১৫ সালের প্রথমদিকে ক্যাপটিভে (শিল্পে) নতুন সংযোগ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। একই সঙ্গে ক্যাপটিভ প্লান্টের গ্যাসের দাম এক লাফে দ্বিগুণের বেশি বাড়িয়ে দেয়। এতে বিপাকে পড়েন সারা দেশের ছোট-বড় ২২শ’র বেশি শিল্প-কারখানার মালিক। ৪ বছর ধরে শিল্পক্ষেত্রে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় নতুন শিল্প-কারখানা চালু হয়েছে খুবই কম। এতে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আটকে গেছে অনেক উদ্যোক্তার বিনিয়োগ। ঋণ নিয়ে গড়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান চালু করতে না পারায় তাদের এখন কাহিল দশা। সর্বোপরি জনসংখ্যা বাড়লেও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন