শিরোনাম :

খেলাপি ঋণ উদ্ধারে দুটি আইনে সংশোধনী আসছে


মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৯, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

খেলাপি ঋণ উদ্ধারে দুটি আইনে সংশোধনী আসছে

অর্থনীতি,২৩ এপ্রিল(বাংলাপ্রেস): ‘অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩’ ও ‘দেউলিয়া আইন’-এর সংশোধনীর খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ খসড়া চূড়ান্ত করেছে। সংশোধনীর এই খসড়ায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সম্মতির কাছে পাঠানো হবে। তার সম্মতি পেলে পরে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, আ হ ম মুস্তফা কামাল অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরপরই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বসেন। ওই দিন তিনি খেলাপী ঋণ নিয়ে তার অবস্থান পরিস্কার করেন। সে সময় তিনি খেলাপী ঋণ আদায় বাড়াতে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইন সংশোধন করার কথার উল্লেখ করেন।

তিনি তখন বলেছেন, ‘আমাদের কিছু কিছু আইনে বিচ্যুতি আছে, আমরা সেই আইনগুলো আগে সংশোধন করব। আমাদের খেলাপি ঋণ বিপুলভাবে কমে আসত যদি বিদ্যমান আইন তা যদি বলবৎ রাখতে পারতাম এবং তা যদি বাস্তবায়ন করতে পারতাম। আইনে কিছু দুর্বলতার কারণে আইনগুলো আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি না। আইনের বিভিন্ন ধারায় বা সেকশনে যে দুর্বলতা রয়েছে তা আমাদের কাটিয়ে উঠতে হবে। তাই আমরা আইনটিকে আবার ‘রিভিজিট’ করার চেষ্টা করছি। এবং অতি দ্রুত সময়ে মধ্যে তা প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি নিয়ে এবং আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মতি আইনে কিছুটা সংশোধনী নিয়ে আসব।

এরপরই আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটি খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানোর জন্য অর্থঋণ আদালত আইন ও দেউলিয়া আইন সংশোধনের খসড়াটি চূড়ান্ত করে।

সূত্র জানায়, বিদ্যমান ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ পরিবর্তন করে খেলাপি ঋণ আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়। তাই আমরা ২০০৩ সালে প্রণীত ‘অর্থঋণ আদালত আইন-২০০৩’ পরিবর্তনের সুপারিশ করেছি। এই আইনে খেলাপি ঋণের জন্য পৃথক আদালত প্রতিষ্ঠা এবং মামলার বিভিন্ন বিষয় সন্নিবেশ করা আছে। আইনটি সময়ের সঙ্গে আরো যুগোপযোগী কিভাবে করা যায় তার কথা খসড়ায় বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দেউলিয়া আইনের কিছু সংশোধনীর বিষয়ে আমরা মতামত দিয়েছি।

জানা গেছে, অর্থঋণ আদালত আইনের ৪৭ অনুচ্ছেদের ‘আপিল ও রিভিশন’ বিষয় নিয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ কাজ করছে। আইনে কয়েকটি সংশোধনী আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এই আইনে ৪১(১) বলা আছে, ‘মামলার কোন পক্ষ, কোন অর্থ ঋণ আদালতের আদেশ বা ডিক্রি দ্বারা সংক্ষুব্ধ হইলে, যদি ডিক্রিকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অপেক্ষা অধিক হয়, তাহা হইলে উপ-ধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে, ৩৪ (পরবর্তী ৬০ দিবসের) মধ্যে হাইকোর্ট বিভাগে, এবং যদি ডিক্রিকৃত টাকার পরিমাণ ৫০ (পঞ্চাশ) লক্ষ টাকা অথবা তদঅপেক্ষা কম হয়, ৩৫ (তাহা হইলে পরবর্তী ৩০) দিবসের মধ্যে জেলা জজ আদালতে আপিল করিতে পারিবেন।’

একই অনুচ্ছেদে, ধারা (২) বলা হয়েছে, ‘আপিলকারী, ডিক্রিকৃত টাকার পরিমাণের ৫০% এর সমপরিমাণ টাকা বাদীর দাবির আংশিক স্বীকৃতিস্বরূপ নগদ ডিক্রিদার আর্থিক প্রতিষ্ঠানে, অথবা বাদীর দাবি স্বীকার না করিলে, জামানতস্বরূপ ডিক্রি প্রদানকারী আদালতে জমা করিয়া উক্তরূপ জমার প্রমাণ দরখাস্ত বা আপিলের মেমোর সহিত আদালতে দাখিল না করিলে, উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আপিল কার্যার্থে গৃহীত হইবে না।’

(৩) উপ-ধারা (২) এর বিধান সত্ত্বেও ‘বিবাদি-দায়িক ইতিমধ্যে ১৯(৩) ধারার বিধান মতে ১০% (দশ শতাংশ) পরিমাণ টাকা নগদ অথবা জামানত হিসাবে জমা করিয়া থাকিলে, অত্র ধারার অধীনে আপিল দায়েরের ক্ষেত্রে উক্ত ১০% (দশ শতাংশ) টাকা উপরিউল্লিত ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) টাকা হইতে বাদ হইবে।’

একই আইনের ধারা (৬) উল্লেখ আছে, ‘আপিল আদালত, আপিল গৃহীত হইবার পরবর্তী ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে উহা নিষ্পত্তি করিবে, এবং ৯০ (নব্বই) দিবসের মধ্যে আপিলটি নিষ্পত্তি করিতে ব্যর্থ হইলে, আদালত, লিখিতভাবে কারণ উল্লেখ পূর্বক, উক্ত সময়সীমা অনধিক আরো ৩০ (ত্রিশ) দিবস বর্ধিত করিতে পারিবে?’

জানা গেছে, এই ধারাগুলো ছাড়া আরো কয়েকটি ধারা সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে এই ধারার সাথে কিছু সংযোজন ও বিয়োজন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৪৮২ কোটি টাকা। সেখানে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা। একই সময় ঋণ অবলোপন করা হয়েছে আরো প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। এই হিসাব ধরলে দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হবে দেড় লাখ কোটি টাকা; যা আমাদের জাতীয় বাজেটের এক-চতুর্থাংশ।

 

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন