শিরোনাম :

'বেসিক ব্যাংকে লোকসানি শাখাকে বন্ধ হবে'


শুক্রবার, ২ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

'বেসিক ব্যাংকে লোকসানি শাখাকে বন্ধ হবে'

ঢাকা: বেসিক ব্যাংকের যেসব শাখা টানা তিন বছর লোকসান করেছে বা কোনো লাভ দিতে পারেনি সেসব শাখাকে বন্ধ করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর মতিঝিলে বেসিক ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং অর্থমন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত অনেক দুর্নীতি হয়েছে। সে সময়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে যেসব ব্যাংক কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং বেনামে ঋণ দেয়া হয়েছে সেসব শাখাগুলো এখন আর লাভ করতে পারছে না। ওইসব শাখাগুলোর মধ্যে যেগুলো গত দুই বছর এবং বর্তমান বছরে লাভ দেখাতে ব্যর্থ হবে, সেগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে। যারা দুই বছর ধরে লোকসানে আছেন তারা এই বছর সতর্ক হয়ে যান বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় ৩৬টি শাখা লোকসানে আছে।

মুস্তফা কামাল বলেন, যারা বেনামে ঋণ নিয়েছে টাকা ফেরত না দেয়ার জন্য, তাদের ছাড় দেয়া হবে না। তাদের পেছনে আমরা এজেন্সির লোক নিয়োগ দেব। দেশ-বিদেশে যেখানেই থাকুক তাদের বের করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমরা ঋণ আদায় সহজ করে দেব কিন্তু ঋণ মাফ করতে পারব না।
তিনি বলেন, বেসিক ব্যাংকে স্পেশাল অডিট করা হবে। অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। কম হলেও শান্তি দেয়া হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ব্যাংক ইচ্ছা করলে খেলাপি ঋণ আদায় করতে পারে। ঋণ আদায়ে শক্ত হতে হবে। বর্তমানে দুই শতাংশ ডাউন পেমেন্টে পুনঃতফসিলের সুযোগ দেয়া হয়েছে। এটি গ্রহণ করে কেউ যদি না আসে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন। এতো দুর্নাম নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সরকারি চাকরিজীবীদেরও ব্যবস্থা নেয়া যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা কাজ না করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন এ মাজিদ বলেন, বেসিক ব্যাংকে বেশ কিছু ঋণের অনিয়ম হয়েছিল। আমরা অনিয়মগুলো চিহ্নিত করে ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিল করি। কিন্তু দেখা গেছে, পুনঃতফসিল করা ঋণও আবার খেলাপি হয়ে যাচ্ছে। এখন নন পারফরমেন্স লোন ৫৯ শতাংশে এসেছে। পূর্বে যা ছিল ৬৭ শতাংশ। এ অবস্থায় আমাদের মূলধন সহায়তা প্রয়োজন। তা পেলে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।

ব্যাংকের সার্বিক আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. রফিকুল আলম। অনুষ্ঠানে অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যবস্থাপনায় নাজুক অবস্থায় পড়া শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংক নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন বক্তারা। এ সময় লোকসানে থাকা ব্যাংকটি লাভজনক অবস্থায় না এলে বিভিন্ন শাস্তির পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ের হুমকি দেয়া হয়।

সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেননি অর্থমন্ত্রী: দুর্দশায় থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত বেসিক ব্যাংকের সম্মাননা ক্রেস্ট গ্রহণ করেননি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় এ সম্মাননা ক্রেস্ট না নেয়ার কথা জানান অর্থমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রীকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে সম্মানসূচক ক্রেস্ট দিতে চাইলে; তা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আমি এখন ক্রেস্ট নেব না। এক বছরে যদি বেসিক ব্যাংক ভালো করতে পারে তাহলে ক্রেস্ট নেব। আপনারা ভালো করেন, আগামীতে আপনাদের সঙ্গে আমরা পিকনিক করব। এ সময় অর্থমন্ত্রীর পাশাপাশি অনুষ্ঠানে থাকা অন্য অতিথিরাও ক্রেস্ট গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান।

জনবল বেশি, বেতন কমানো: অর্থমন্ত্রী বলেন, বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্যান্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় অনেক বেশি, প্রায় ডাবল বেতন নেন। এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতে পারে না। বেসিক ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কমানো হবে। বেসিক ব্যাংকের প্রায় ২১০০ জনবলের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী ব্যাংক কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, গত বছর আপনারা ৩৫৪ কোটি টাকা লোকসান করেছেন। মাত্র ৭২টা ব্রাঞ্চের জন্য এখানে প্রায় ২১০০ জনবল আছে। এত লোকের এখানে কী কাজ? তিনি বলেন, আপনারা একদিকে অন্যান্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় বেতন বেশি নেন, অন্যদিকে ব্যাংক লোকসানে। এটা কোনোভাবেই সম্ভব হতে পারে না। বেতন কমানো হবে। আপনারা সবাই বসে সিদ্ধান্ত নেন, কিভাবে কত কমাবেন। সিদ্ধান্ত আমাকে জানান। এরপর আমি আমার সিদ্ধান্ত জানাবো।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন