শিরোনাম :

চামড়া বিক্রিতে সম্মত আড়তদাররা


সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ০৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

চামড়া বিক্রিতে সম্মত আড়তদাররা

ঢাকা: কোরবানির ঈদে সংগৃহীত কাঁচা চামড়া ট্যানারি মালিকদের কাছে আজ থেকে বিক্রিতে সম্মত হয়েছেন আড়তদাররা। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা সম্মিলিতভাবে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হন। শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মফিজুল ইসলাম, শিল্পসচিব মো. আবদুল হালিম, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংগঠন, জেলা পর্যায়ের চামড়া ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে শনিবার ট্যানারি মালিকদের কাছে কাঁচা চামড়া বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন আড়তদাররা। এক দিন পর সে অবস্থান থেকে সরে আসেন তারা। জানান, আজ থেকে চামড়া বিক্রি শুরু হবে। আর ট্যানারি মালিকরা চামড়া কিনবেন আগের মতোই।

বৈঠক শেষে বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত সোমবার থেকেই চামড়া বিক্রি শুরু হচ্ছে। ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মহোদয় এফবিসিসিআইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আগামী ২২শে আগস্ট এফবিসিসিআইয়ের উদ্যেগে এ নিয়ে আলোচনা হবে দুই পক্ষের মধ্যে। সেখান থেকেই ফয়সালা করে দেবে।

এর আগে ঈদের দিন বিক্রি করতে না পেরে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা লাখ খানেকের বেশি কাঁচা চামড়া ফেলে দেন। ওই দিনই কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত মূল্য নিশ্চিত করতে রপ্তানির সুযোগ দেয়ার কথা জানায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপর সরকারের অনুরোধে ট্যানারি মালিকরাও শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কেনার কথা বলেন। কিন্তু শনিবার আড়তদাররা ট্যানারি মালিকদের কাছে বকেয়া ‘শত শত কোটি টাকা’র সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত কাঁচা চামড়া বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়ায় নতুন সংকট তৈরি হয়। এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল চামড়া সংকটে সমাধানে বৈঠকে ট্যানারি মালিক ও আড়তদারসহ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে নিয়ে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় সরকার।

বৈঠকের শুরুতে বাণিজ্য সচিব মো. মফিজুল ইসলাম বলেন, গত ২০ তারিখ থেকে চামড়া কেনার কথা বলেছিলেন ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশেন। ফরিয়া ও আড়তদারদের মধ্যে একটি গ্যাপ রয়েছে বলে ধারণা ছিল। মাঠ পর্যায়ে বলা হল চামড়া সংরক্ষণের জন্য। এ পরিস্থিতিতে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্রয়ের কথা বলে, তারা কিছু কিছু ক্রয় করেছে তবে তারা সেরকম ভাবে কিনেননি। ইতিমধ্যে চামড়া রপ্তানির ঘোষণা দিয়েছি। এ পরিস্থিতিতে কি করা যায় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে দায়দায়িত্ব এড়াতে পারি না। চামড়া শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, চামড়া শিল্প নীতি হচ্ছে। বর্তমানে যে বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে তা নিয়ে বৈঠক করা হবে। একটি স্থায়ী সমাধানে নিতে চাই। সুদুর প্রসারী পরিকল্পনাও চলছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
সালমান এফ রহমান বলেন, আমরা আশাবাদী, খোলামেলা আলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান পাব। আমি মনে করি যে কথাটা শিল্পমন্ত্রী বলেছেন, চামড়া শিল্প গার্মেন্টের পর গুরুদ্বপূর্ণ খাত। ভবিষ্যতে চামড়া শিল্পটা মেইন সেক্টর হিসেবে ডেভলপ করার চেষ্টা করা হবে। বর্তমানে যে সমস্যা তা কীভাবে সমাধান করা যায় এবং ভবিষ্যতে কী করা যায় বা আবার সম্মুখীন না হই তার সাজেশন নেয়া হবে। সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে বৈঠকের পর শিল্পমন্ত্রী বলেন, আমরা হিসাব করে দেখলাম, প্রতি বছর ৫ হাজার চামড়া নষ্ট হয়, সব সময় এটা হয়ে থাকে। দেশের এ আবহাওয়ায় জেলা ওয়ারি হিসাবে ব্যবসায়ীরা দায়িত্ব নিয়ে বলেছেন, ১০ হাজার চামড়া নষ্ট হতে পারে।

৩০ ট্রাক চামড়া ফেলে দেয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর আসার কথা জানানো হলে শিল্পমন্ত্রী হুমায়ুন বলেন, বিএনপি কিনে ফেলাইয়া দিছে, এ মুহুর্তে আমার আর বলার কিছু নেই। তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের অগ্রযাত্রা সীমিত করার জন্য আমার মনে হয় একটি চক্র কাজ করছে। শিল্পমন্ত্রী বলেন, চামড়া শিল্পে সমস্যা আপাতত নাই। আগামীতে যে সমস্যাগুলো আছে, তা ২২ তারিখে সমাধান করে দেবে। আড়তদাররা তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রোববার থেকেই ট্যানারিগুলোতে কাঁচা চামড়া বিক্রি করতে রাজি হয়েছেন বলে জানান তিনি। কাঁচা চামড়া রপ্তানির বিষয়ে জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী বলেন, সরকার ?যদি প্রয়োজন মনে করে, অবস্থা বুঝে রপ্তানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

চামড়া নষ্টের বিষয়ে উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কোরবানিতে এক কোটি চামড়া হয়; এখানে যারা আছে, তারা বলেছে ১০ হাজার নষ্ট হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায়ে থেকে যে তথ্য পেয়েছি, তা দিয়েছি। উনারা বলছেন, নরমালি ৫ হাজার নষ্ট হয়ই। এ বছর একটু বেশি হয়েছে। মেইন কারণ ওয়েদার, বেশি গরমের জন্য। চট্টগ্রাম ও সিলেটে একটু বেশি হয়েছে, ঢাকায় হয়নি। ন্যাশনাল অ্যাভারেজে ১০ হাজারের বেশি হয়নি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন