ব্রেকিং নিউজ
বাংলাপ্রেস-এর ফেসবুক পেজটি হ্যাকড হওয়ায় আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। পেজটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
শিরোনাম :

বেসরকারি ব্যাংকে ৬% সুদে সরকারি আমানত


মঙ্গলবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২০, ০৮:৩৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বেসরকারি ব্যাংকে ৬% সুদে সরকারি আমানত

ঢাকা:বেসরকারি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত রাখা যাবে। এই আমানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদ পাবে সরকারি সংস্থাগুলো। আর সরকারি ব্যাংকে আমানত রাখলে সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ নিতে হবে। সোমবার এ বিষয়ে আদেশ জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদহার কার্যকর করতে আমানতের সুদহার সর্বোচ্চ ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার প্রস্তুতি হিসেবে এ আদেশ জারি করেছে সরকার।

সম্প্রতি সরকার ব্যাংকের আমানতে ৬ শতাংশ এবং ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল থেকে ওই সুদহার কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডিদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি এ ঘোষণা দেন। এরপর ঋণে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ কার্যকরের আগে আমানতে সুদহার কমানো এবং সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার দাবি করে ব্যাংকগুলো। এ অবস্থায় প্রথমে সরকারি প্রতিষ্ঠানের আমানতে সর্বোচ্চ সুদ ৬ শতাংশ বেঁধে দেওয়া হলো। একই সঙ্গে ৫০ শতাংশ আমানত বেসরকারি ব্যাংকে রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে আদেশে এ বিষয়ে কোনো বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়নি। এর আগে গত বছরের ২ এপ্রিল সরকারি আমানতের ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখার আদেশ দেওয়া হলেও তা কার্যকর হয়নি।

 

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের আদেশে বলা হয়েছে, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) এবং পরিচালন বাজেটের আওতায় পাওয়া অর্থ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির নিজস্ব তহবিলের উদ্বৃত্ত অর্থের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংক অথবা অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব অর্থ সর্বোচ্চ সাড়ে ৫ শতাংশ সুদে রাষ্ট্রীয় মালিকানার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ সুদে বেসরকারি ব্যাংকে মেয়াদি আমানত হিসেবে রাখা যাবে। নির্দেশনা জারির দিন থেকেই এ আদেশ কার্যকর হবে। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ তহবিল, পেনশন তহবিল এবং এন্ডাউমেন্ট তহবিলের অর্থ এর আওতায় থাকবে না।

জানতে চাইলে ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন এবিবির সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে ভালো। তবে এর বাস্তবায়ন কীভাবে হয়, তা দেখতে হবে। এ ছাড়া সরকারি আমানতের যে ৫০ শতাংশ বেসরকারি ব্যাংকে রাখতে বলা হয়েছে, তা যাতে নির্দিষ্ট কয়েকটি ব্যাংকে চলে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

 

বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমকালকে বলেন, সরকার আগামী এপ্রিল থেকে সব ধরনের ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার বাস্তবায়নের জন্য চাপ দিচ্ছে। এটি কার্যকরের জন্য নামমাত্র সুদে আমানত রাখা উচিত। কেননা সরকারি আমানতে ৬ শতাংশ সুদ দিতে হলে বেসরকারি আমানতে আরও বেশি সুদ দিতে হবে। এর সঙ্গে আবার ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনা ব্যয় রয়েছে। সব মিলিয়ে ৯ শতাংশ সুদহার কার্যকর করতে গেলে অনেক ব্যাংক লোকসানে পড়বে।

ব্যাংক খাতে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ কার্যকরের দাবি দীর্ঘদিনের। তবে বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে ২০১৮ সালের জুন মাসে। ব্যাংকের উদ্যোক্তারা ওই মাসে ঘোষণা দেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে সব ঋণে ৯ শতাংশ সুদহার কার্যকর করা হবে। আর আমানতে ৬ শতাংশের বেশি সুদ দেওয়া হবে না। যদিও ওই ঘোষণার পর থেকে সুদহার না কমে বরং বাড়ছে। এ নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে সমালোচনার একপর্যায়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শে গত ১ ডিসেম্বর সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কমিটি গত ১২ ডিসেম্বর তাদের প্রতিবেদনে শুধু উৎপাদনশীল খাতে এক অংক সুদহার বেঁধে দেওয়ার সুপারিশ করে। একই সঙ্গে সরকারি আমানত মেয়াদি না রেখে নামমাত্র সুদে চলতি হিসাবে রাখাসহ বিভিন্ন সুপারিশ করা হয়। এরপর গত ২৪ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এক অংক সুদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। যদিও ৩০ ডিসেম্বর রাতে অর্থমন্ত্রী এক বৈঠক থেকে জানান, জানুয়ারি নয়, এপ্রিল থেকে সিঙ্গেল ডিজিট কার্যকর হবে। শিল্প ঋণের পাশাপাশি সব ঋণে এক অংক সুদ কার্যকর হবে।

এদিকে সিঙ্গেল ডিজিট সুদ কার্যকরে এমন উদ্যোগের মধ্যেও সুদহার বাড়তির দিকে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত নভেম্বর মাসে ব্যাংকগুলো গড়ে ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ সুদে ঋণ বিতরণ করেছে। আগের মাস অক্টোবরে যা ছিল ৯ দশমিক ৫৮ শতাংশ। তবে আমানতের সুদ কমানো হয়েছে। গত নভেম্বরে ব্যাংকগুলো গড়ে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ সুদে আমানত নিয়েছে। আগের মাস অক্টোবরে যা ছিল ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এতে করে ঋণ ও আমানতের মধ্যকার সুদহারের গড় ব্যবধান (স্প্রেড) বেড়ে ৪ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশে উঠেছে। আগের মাস অক্টোবর শেষে যা ৩ দশমিক ৯২ শতাংশে ছিল।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন