শিরোনাম :

পরিবেশ নিয়ে কেন এই ছিনিমিনি!


মঙ্গলবার, ২২ মার্চ ২০১৬, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আন্দোলনের মুখেই রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মিত হচ্ছে সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে। একই ভারতীয় কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চেয়েছিল, ভারত সরকারের অনুমতি পায়নি। একইভাবে দেশটির সরকার তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশে এ ধরনের তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। ভারতের এনটিপিটি সুন্দরবনের গা ঘেঁষে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে জেনে পরিবেশসচেতন নরওয়ে সরকার ২০১৪ সালেই ওই কোম্পানির জন্য দেয়া ৪৩০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

অথচ আমরা ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তি করে সেই প্রকল্প বাংলাদেশে আনছি। ভারত সরকারের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে কাজটি করা হবে। কাজ করবে ভারতের একটি কোম্পানি। শুধু রামপাল নয়। ওরিয়ন নামে একটি দেশীয় কোম্পানি সুন্দরবনের আরও কাছে অনুরূপ আরেকটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্র নির্মাণ করতে চলেছে, যেখান থেকে ৬৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে বলে জানানো হয়েছে। একইভাবে চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলবর্তী বাঁশখালী উপজেলায় একটি ঘনবসতি এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ চলছে। বেছে বেছে মোটামুটি অরণ্যের কাছে এসব প্রকল্প দাড় করানো হচ্ছে। যে কারণে বাংলাদেশের পরিবেশবিদরা এই ধরনের প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন। এর ক্ষতিকর প্রভাবের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সাধারণ জনগণও আর চাচ্ছে না প্রকৃতির বিপর্যয় ঘটিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প সুন্দরবন বা বনাঞ্চলের সাথে হোক। যে কোনো বুদ্ধিমান নাগরিক এটা চাইতে পারেন না।

উন্নয়ন অবশ্যই আমাদের প্রয়োজন। এটাও ঠিক যে, বিদ্যুৎ ছাড়া সে উন্নয়ন এখন আর সম্ভব না। কিন্তু প্রশ্ন হল, মানুষই যদি না থাকে তাহলে এই উন্নয়ন কার জন্যে? প্রকৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা তো এখনই বিজ্ঞান দিতে পারেনি! এমনিতেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, আগামী ৫০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের নিম্নাঞ্চলের অনেকটা সমুদ্রতলে তলিয়ে যাবে। এবং একশো বছর পর বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধিতে উত্তর মেরুর বরফ যেভাবে গলছে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা যেভাবে বাড়ছে তাতে করে বাংলাদেশই পানির তলে হারিয়ে যাবে।

বিজ্ঞানীদের ভবিষ্যৎবাণী কতখানি সত্য হবে জানি না। কিন্তু প্রতিবছর বন্যা-খরার শক্তিশালী আঘাত, নদীক্ষয় এসব থেকে একটা অশুভ আলামত আমরা নিশ্চয় পাচ্ছি। তাই নিজের ভালো আমাদের নিজেদেরই ভাবতে হবে। উন্নয়নের কথা ভেবে আমরা আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ সুন্দরবনকে হুমকির মুখে ফেলতে পারি না। এমনিতেই সুন্দরবনে গাছ কেটে, পশু শিকার করে ইতোমধ্যেই তার প্রাণীবৈচিত্র্য নষ্ট করেছি অনেকটাই।

তবে এক্ষেত্রে উন্নত দেশগুলোকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশ না পৃথিবীর সম্পদ বটে। আকাশ তো আলাদা না। একদেশে দূষণ হলে কি অন্যদেশ আক্রান্ত হবে না? অথচ আমরা দেখছি, উন্নত দেশগুলো পরিবেশ দূষণ করার জন্যে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশগুলোতে বেছে নিচ্ছে। যেমন ভারত, নিজের দেশে সুন্দরবনের পাশে কয়লা বিদ্যুৎ-প্রকল্প না অনুমোদন দিলেও বাংলাদেশে হোক সেটা চাচ্ছে। পৃথিবীর একপ্রান্তে ক্ষতিকর কার্বন ড্রাই অক্সাইড নির্গত হলে আরেক প্রান্তে সেটা যাবে না? তাহলে, এই সরল সত্য মেনে পরিবেশ বিষয়ে অন্তত পৃথিবী ঐক্য হতে পারে, পৃথিবীর স্বার্থেই তা হওয়া উচিত।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন