শিরোনাম :

জাতিকে মহান স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা


শনিবার, ২৬ মার্চ ২০১৬, ০২:১৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পৃথিবীর ইতিহাস জঘন্যতম এক ঘটনার সাক্ষী হয়। নির্মম আর নৃশংস গণহত্যার নজির স্থাপন করে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। রাজধানী ঢাকায় সারা দিনের কাজ শেষে কর্মক্লান্ত নিরীহ মানুষ যখন ঘরে ফিরে ঘুমিয়ে ছিল, তখন তাদের হত্যার জন্য পথে নামে জলপাই রঙের ট্যাংক আর সাঁজোয়া বহর। হিংস্র শ্বাপদের মতো ধেয়ে যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, ইপিআর ব্যারাকের দিকে। শুরু হয় কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চলাইট’। এই ঘটনার পরপরই বাংলাদেশের চূড়ান্ত স্বাধীনতা যুদ্ধ এগিয়ে যায়। যুদ্ধটা অনিবার্য হয়ে উঠেছিল আরো আগে থেকেই। সমগ্র বাংলার মুক্তির দাবির কাছে মাথা নত করতে হয়েছে পাকিস্তানকে। তবে তার মাঝখানে কেটে গেছে দীর্ঘ নয় মাস। এই নয় মাসে রক্ত বন্যা বয়ে গেছে বাংলার সবুজ কোমল ভূমিতে। বিশ্ব ইতিহাসে রক্ত দিয়ে স্বাধীন দেশের কাতারে উঠে আসে বাংলাদেশ। 

আজ আমরা বিজয় ও গৌরবের সেই একাত্তর থেকে ৪৫ বছর এগিয়ে। মাঝের এই সময়টাতে আমাদের ইতিবাচক-নেতিবাচক দুই ধরনের অর্জনই আছে। আজ যখন আমরা স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছি, তখন সবকিছু ছাপিয়ে আলোচিত হচ্ছে একটি ধর্ষণ ঘটনা। বাংলাদেশের সবচেয়ে কথিত সুরক্ষিত জায়গা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার ভেতরে ধর্ষণের শিকার হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের (সম্মান) শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু (১৯)। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে তাকে। এই ঘটনার বিচার নিয়ে যখন সমগ্র দেশ উত্তাল ঠিক তখনই রাজশাহী মহানগরীর সোনাদিঘীর মোড়ের এক হোটেলে রাতভর গণধর্ষণের শিকার হয়েছে কিশোরী। তার অবস্থা এখন আশঙ্কাজনক। একাত্তর ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শিক বাংলাদেশ আমরা এখনো পাইনি। বর্বর যুগের মতো এখানে এখনো নারী নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে পার পেয়ে যাচ্ছে ধর্ষকের মতো অপরাধী। তবে বর্তমান সরকার যুদ্ধাপরাধীর বিচার সফল করা সরকার। দেশে বিদেশে নানা মহলের চাপ উপেক্ষা করে সরকার প্রধান মাননীয় শেখ হাসিনা শক্ত হাতে যুদ্ধাপরাধের বিষয়টি ডিল করেছেন। আশা করা যায় তিনি আমাদের সমাজে নিত্য যে নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে, তার বিরুদ্ধে কার্যকরী অ্যাকশন নেবেন। তিনি নিজেও একজন নারী হিসেবে এক্ষেত্রে তার সদয় দৃষ্টি থাকবে বলে আমরা বিশ্বাস করতে পারি।

সবশেষে আজ আমরা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি, সেই মহান একাত্তরে আত্মত্যাগী সকল বীর সেনাদের। তাদের আত্মত্যাগে আজকের এই বাংলাদেশ। কাজেই আসুন সেই আত্মত্যাগের দীক্ষায় আমরা জাতি হিসেবে দীক্ষিত হই, এমনটিই প্রত্যাশা আগামীর কাছে। সকলকে স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন