শিরোনাম :

উন্নয়ন বনাম জননিধন!


মঙ্গলবার, ৫ এপ্রিল ২০১৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

গতকাল বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউনিয়নে এস আলম গ্রুপের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ মিছিলে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এতে চার জন নিহত হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পক্ষে বিপক্ষে সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। কিন্তু সোমবার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এসময় গুলি চালায় পুলিশ।

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপজেলার গণ্ডামারার উপকূলীয় এলাকায় এস. আলম গ্রুপ ও চাইনা সেফকো কোম্পানির যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিপক্ষে গত কয়েক মাস ধরে এলাকাবাসী অবস্থান নিয়েছে। একপর্যায়ে সেখানে নির্মাণকাজে বাধা প্রদান করেছে স্থানীয় জনতা। এখানে পরিষ্কারভাবে পক্ষে-বিপক্ষে দুইটি গ্রুপ মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। আমরা জানি, প্রকল্পের পক্ষে অবশ্যই আছে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। যে কারণে দু-পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষে পুলিশ কেবল গুলি চালিয়েছে প্রকল্প বিরোধীদের জনস্রোতে। এর আগেও (গত ১৮ মার্চ) বিদ্যুৎকেন্দ্র বিরোধী মিছিলে গুলি চালিয়েছিল পুলিশ।

প্রশ্ন হল, এটি তো সরকার পতনের আন্দোলন না। জনগণ আন্দোলন করছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের বিরুদ্ধে। কারণ এটি পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সরকার মোটা দাগে দেশের উন্নয়নের কথা ভাবছে। জনগণ ভাবছে দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঠেকানোর কথা। এখন উন্নয়ন আগে নাকি দেশের প্রকৃতি আগে, এই নিয়ে তর্ক হতে পারে। তাই বলে রাষ্ট্র সরাসরি গুলি চালাবে নিরীহ খেটে খাওয়া মানুষের ওপর, যারা আসলে দেশের মঙ্গলের জন্যই আন্দোলনটা করছে।

আমরা দেখে আসছি, রামপালের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরোধিতা করেও আন্দোলন হয়ে আসছে দেশজুড়ে। এই প্রকল্প নির্মিত হবে সুন্দরবনের ১৪ কিলোমিটারের মধ্যে। একই ভারতীয় কোম্পানি পশ্চিমবঙ্গের সুন্দরবনের কাছে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে চেয়েছিল, ভারত সরকারের অনুমতি পায়নি। একইভাবে দেশটির সরকার তামিলনাড়ু, কর্ণাটক ও মধ্যপ্রদেশে এ ধরনের তিনটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণের অনুমতি দেয়নি। ভারতের এনটিপিটি সুন্দরবনের গা ঘেঁষে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে যাচ্ছে জেনে পরিবেশ সচেতন নরওয়ে সরকার ২০১৪ সালেই ওই কোম্পানির জন্য দেয় ৪৩০ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।

অথচ আমাদের সরকার কি করছে? সুন্দরবন সংলগ্ন রামপালে এবং চট্টগ্রামের সমুদ্র উপকূলবর্তী বাঁশখালীর ঘনবসতি এলাকায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পে মত দিয়েছে। শুধু মত দিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, যেকোনো ভাবে, মানুষ হত্যা করে হলেও, সেটি বাস্তবায়নের জন্য উঠে পড়ে লেগেছে।

উন্নয়ন আমাদের প্রয়োজন। এটাও ঠিক যে, বিদ্যুৎ ছাড়া সে উন্নয়ন এখন সম্ভব না। কিন্তু প্রশ্ন হল, মানুষই যদি না থাকে তাহলে এই উন্নয়ন কার জন্যে? প্রকৃতি ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারবে, এমন নিশ্চয়তা তো এখনই বিজ্ঞান দিতে পারেনি! তাহলে আমাদের বর্তমান সরকার কোন উন্নয়নের কথা ভাবছে?

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন