শিরোনাম :

খুনির চেয়ে বড় অপরাধী কে?


শুক্রবার, ৮ এপ্রিল ২০১৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আরো একজনকে প্রাণ দিতে হল। ধারণা করা হচ্ছে, তার অপরাধ নিজের মতামত প্রকাশ করা। বিভিন্নভাবে সে তার রাজনৈতিক-ধর্মীয় মতাদর্শ প্রকাশ করেছে। যেটি হয়ত অনেকের ভালো লাগবে না। কারো ভালো লাগার তোয়াক্কা না করে নিজের কাছে যা সত্য মনে হয়েছে তাই বলেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমুদ্দিন সামাদ। হয়ত, এই মত প্রকাশের জন্য নির্মমভাবে হত্যা করা হল তাকে। যদি এ কারণেই এটা হয়। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ধর্মীয় উগ্রবাদিতার মুখোশ ফের উন্মোচিত হলো।

ঘটনাটি ঘটলো আগে-পিছনে অনেকগুলো ঘটনাকে আঙুল দেখিয়ে। তনু ধর্ষণ ও হত্যা নিয়ে দেশ যখন উত্তাল ঠিক তখনই বাঁশখালীর ঘটনাটি ঘটে—পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় সাধারণ অসহায় চার মানুষ। সেটি নিয়ে আন্দোলন ঘন হতে না হতেই খুন হল সামাদ। এই কঠিন সময়ের মধ্যেই উদারভাবে হাত বাড়িয়ে আছে পয়লা বৈশাখ: জাতি-ধর্ম নির্বিশেষ বাঙালির প্রাণের উৎসব। এই উৎসব নিয়ে গতবারের স্মৃতি আমাদের ভালো নয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় প্রকাশ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনায় এখনো দোষীদের ধরা সম্ভব হয়নি। আর হয়ত হবেও না। একধরনের হতাশা আর বিষাদ নিয়েই এবারের পয়লা বৈশাখ উদযাপন করবে বাংলাদেশ।

কথা হচ্ছিল, নাজিমুদ্দিন সামাদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে। আমরা কখনোই কারো সেন্টিমেন্টকে আঘাত দিয়ে কথা বলাকে প্রশ্রয় দিতে পারি না। নাজিমুদ্দিন সামাদ যদি সেই কাজটি করে থাকেন, তাহলে তিনি সমাজের চোখে অপরাধী, রাষ্ট্র যেহেতু আইন করে ধর্মবিদ্বেষী কথা বলা বন্ধ করেছে, তিনি রাষ্ট্রের চোখেও অপরাধী। তার অপরাধ নিয়ে কথা হতে পারে। কিন্তু ‘খুন’ কখনই তার সমাধান নয়। নাজিমুদ্দিন সামাদকে অপরাধী মনে করলে তার চেয়ে শতগুণ অপরাধ করেছে খুনিরা। তাই যখন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, নাজিমুদ্দিনের লেখালেখি খতিয়ে দেখবে সরকার। আপত্তিকর কিছু লেখা হয়েছে কিনা সেটি তারা দেখবে। তখন কে বেশি বড় অপরাধ করেছে তা নিয়ে আমরা দ্বিধায় পড়ে যাই। সরকার যদি যাকে খুন করা হয়েছে তাকে দুর্বৃত্তদের খুন করাটা ঠিক হয়েছে-কি না তা জাস্টিফাই করে, তাহলে দেশে আইন-সুশাসন বলে কিছু থাকে না। তবে হ্যাঁ, তার লেখার দ্বারা কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে থাকলে সেটি বিচারের মাপকাঠিতেই দেখতে পারে সরকার। কিন্তু অপরাধীর বিচার, সাজা, জরিমানা এ বিষয়গুলো বিচার বিভাগকে করতে দেয়া উচিত। সরকারের উচিত বিচার বিভাগকে সহযোগীতা করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে অংশ নেয়া।

জনগণ চাই, প্রশাসন তার দায়িত্ব পালন করুক। প্রশাসনের তো কোনো সেন্টিমেন্ট থাকার কথা না। দেশের আইন বাস্তবায়ন করা তাদের কাজ। খুনি যেই হোক, যে কারণেই খুন করা হোক, খুন হওয়া মানুষের পেছনে পড়ে না থেকে তাদের প্রথম কাজ হল খুনির পেছনে ছুটা। তার জন্যে প্রকৃত অপরাধী কে সেটি আগে প্রশাসনকে বুঝতে হবে। যখন একটি খুন হয়, তখন খুনির চেয়ে বড় অপরাধী আর কেউ থাকে না।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন