শিরোনাম :

নীরব ঘাতক সড়ক, নিরাপত্তা দেবে কে?


বুধবার, ২০ এপ্রিল ২০১৬, ০৬:১২ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বাংলাদেশে নীরব ঘাতকের ভূমিকা পালন করছে সড়ক। সড়কে দিন দিন মৃত্যুর মিছিল বেড়েই চলেছে। বুধবার(২০ এপ্রিল) সকালে রংপুরে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে। এতে নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে ধারণ করছেন স্থানীয়রা। আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছোটবড় এমন দুর্ঘটনায় অনেক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ সেন্টারের (এআরসি) গবেষণালব্ধ পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় গড়ে ১২ হাজার মানুষ প্রাণ হারায়। আহত হয় ৩৫ হাজার। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ছাড়াও আহত ও স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণের হারও উদ্বেগজনক। এই সমস্যাকে খাটো করে দেখার সময় অনেক আগেই পেরিয়ে গেছে। দেশে যেভাবে নগরায়ন ও যানবাহনের হার বাড়ছে তাতে এই বিষয়টিকে সর্বস্তর থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাধীনতার ৪৫ বছর পার হলেও সড়ক আইন না থাকা, অদক্ষ চালক, ভাঙা রাস্তা, ফিটনেসবিহীন গাড়ি রাস্তায় চলা- সর্বোপরি জনগণের অসচেতনতার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কারণ পাবলিক পরিবহনে দেশের এলিট শ্রেণি মানুষ খুব বেশি চড়ে না। যে কারণে একটি পরিবারের একজন আহত বা নিহত হলে ঐ পরিবারের কয়েক প্রজন্ম লাগে তার অভাব কাটিয়ে উঠতে। তাছাড়া দুর্ঘটনায় মৃত্যু মেনে নেয়াও কঠিন। যে পরিবার হারায়, সেই পরিবারই কেবল জানে এই হারানোর কি বেদনা। অনেক সময় তো একই পরিবারের একাধিক মানুষ প্রাণ হারায় সড়ক দুর্ঘটনায়।

এখন প্রশ্ন হল এর সমাধান কোথায়? দেশে কয়েকবছর থেকে নিরাপদ সড়ক আন্দোলন চলছে। দুর্নীতির কারণে অদক্ষ চালক লাইসেন্স পেয়ে যায়, ক্রটিযুক্ত গাড়ি সড়কে চলাচলের অনুমতি পায়। সড়কেও যে কাজ হয় তা বড় জোর এক সিজন ঠিক থাকে, তারপর আবার যা তাই। জীবনের সঙ্গে এই জুয়া খেলা কেন? যারা এর সুবিধাভোগী তাদের কেউ যে কোনোদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবে না, সে নিশ্চয়তা কি কেউ তাদের দিয়েছে? নিশ্চয় না। তাহলে আমরা এতটুকু দায়িত্বশীল কি হতে পারি না? প্রশাসন নানাভাবে তার ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়ে আসছে। কিন্তু প্রশাসনের দিকে মুখ চেয়ে থাকাও তো কোনো সমাধান নয়। যে জনগণ প্রশাসনের কাছ থেকে ছাড়পত্র নিচ্ছে, তারাও তো পারে দায়িত্ব নিয়ে কাজটি করতে। এক্ষেত্রে জনসচেতনতার বিকল্প নেই।

নিয়মিত রাস্তা-ঘাট সংস্কার, সম্প্রসারণ, চালকদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান, গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক পুলিশসহ চালেকের জবাবদিহিতা—এগুলো রাষ্ট্রের কাজ। কিন্তু জনগণের কাজ ও দায়িত্বও কম নেই।

দেখা যায়, সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর আইন করতে গেলেই পরিবহন মালিক ও শ্রমিকরা ধর্মঘট ডাকেন। তাদের এই আচরণ কেন? দুর্ঘটনায় সাধারণ জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ-ভাঙচুর করে। এটাও তো কোনো সমাধান না। অর্থাৎ কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে পারেনি। কিন্তু শুরুটা তো কাউকে না কাউকে করতেই হবে। কিন্তু কে করবে?

যাহোক, মানুষ মৃত্যুবরণ করবে, যা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এই মৃত্যু অকালমৃত্যু নয়। স্বাভাবিক মৃত্যুর ব্যবস্থা করা দরকার। আর এর জন্য সড়ক আইন খুব দ্রুত দরকার। সম্ভব হলে পরিবহনের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো সরকার জরুরী নিজ দায়িত্বে পরচালনা করলে, ধর্মঘটের নামে জনদুর্ভোগ তৈরি করার সুযোগ পাবে না কেউ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন