শিরোনাম :

ইউপি নির্বাচন: গণমুখী নির্বাচনের একি দশা!


শনিবার, ২৩ এপ্রিল ২০১৬, ০৮:১৫ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আজ থেকে তৃতীয় ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু হচ্ছে। প্রথম দফায় ৭১২টি ইউনিয়নের ফলাফলে দেখা যায় আওয়ামী লীগ জিতেছে ৫৪০টি চেয়ারম্যান পদে, আর বিএনপি মাত্র ৪৭টিতে। দ্বিতীয় ধাপে ৬২৮টি ইউপির চূড়ান্ত ফলাফলে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান হয়েছে ৪৪৪ জন আর বিএনপির প্রথম ধাপের তুলনায় একটু বেড়ে ৬১ জন। এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের নির্বাচনে মাঠে সক্রিয় সবগুলো দলই অংশগ্রহণ করলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে মূলত নৌকা ও ধানের শীষের মধ্যেই। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী কিংবা বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীরাও ভালো করছে, এমন কি বিজয়ীও হচ্ছে। জাসদ, ওয়ার্কার্স পার্টি, এরশাদের জাতীয় পার্টি, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর জেপি প্রার্থীরাও কয়েকটি চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছেন। এসব দলের তুলনায় অবশ্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ফলাফলই ভালো। ফলাফলের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

সবকিছু ছাপিয়ে এবার নির্বাচনে আলোচিত বিষয় হল সহিংসতা। সবধরণের নির্বাচনে বাংলাদেশে সহিংসতার ঘটনা ঘটে। তবে এবার ইউপি নির্বাচনকে রাজনৈতিক ব্যানারে আনাতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। এখন আর বিরোধীদলের সঙ্গে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের ভেতর সহিংস ঘটনা ঘটছে না। কার‌্যত এই নির্বাচনে থেকেও নেই বিএনপি। ফলে যেখানে যেখানে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আছে সেখানে সেখানে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।

তৃতীয় ধাপে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুরে একজন সদস্য প্রার্থীকে রাস্তায় ফেলে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাকে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য একাধিকবার চাপ দেওয়া হয়েছিল। সরে যান নি বলে তাকে দুনিয়া থেকেই সরিয়ে দেওয়া হল। তিনি ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতা বলে জানা যায়। যারা তার হত্যায় জড়িত, তারা আওয়ামী লীগের লোকজন। অন্যদিকে নড়াইলে আওয়ামী লীগের 'বিদ্রোহী' চেয়ারম্যান প্রার্থীর এক সমর্থকের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ থেকে ধরে এনে এমনভাবে কোপানো হয়েছে যে, এখন তাকে বাঁচিয়ে রাখা কঠিন। তৃতীয় ধাপে ইউপি নির্বাচন ঘিরে এমন ছোট-বড় আরও সহিংসতার খবর আমরা পাবো।

বিগত দুটো দুই দফার নির্বাচনে ১৩৫১টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রেই ভোটারদের উচ্ছ্বাস লক্ষ করা যায়নি। হানাহানিতে ত্রিশের ওপর প্রাণহানি। আহতের সংখ্যা শতাধিক। এই কারণে জনগণ ভয়ে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। ফলে অতীতে তৃণমূলের এই নির্বাচনে যে প্রাণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ থাকে এবার সেটি নেই। দলীয় ব্যানারে নির্বাচন হতে থাকলে আগামীতেও থাকবে না।

ইউপি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে বলে সরকার ও ইসি দাবি করছে। সম্প্রতি ইসির জনসংযোগ বিভাগের পরিচালক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করে বলেছেন, কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ইসি নিয়ে বিভ্রান্তিকর আলোচনা হচ্ছে। তার মূল বক্তব্য হল, খুব নগণ্যসংখ্যক কেন্দ্রেই অনিয়ম বা গোলযোগের কারণে ভোটগ্রহণ স্থগিত রাখতে হচ্ছে। কিন্তু যেসব কেন্দ্রে ভোট হচ্ছে, সেগুলোতেও নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে বলে মিডিয়ার খবরে মনে হয় না। এ কথা বলে কিন্তু ইসি মৃতদের তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারবে না। যতই বলুক সহিংসতা হচ্ছে না, যে লোকটা এর শিকার তার কিন্তু তাতে আরোগ্য হবে না। তাই বিষয়টি ঢাকার জন্যে যাতা না বলে ইসির কাজ হবে সমস্যা স্বীকার করে তার সমাধানের পথে হাটা। দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠার জন্যে কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ইসি-সহ আওয়ামী লীগের প্রতিটা নেতাকর্মীর উচিত হবে তাকে সহযোগিতা করা। দায় এড়ালে বাস্তবতা কিন্তু মোটেও সুখকর হবে না। ইতিহাস সেই কথায় বলে।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন