শিরোনাম :

দেশটা আপনার আমারও


শনিবার, ৭ মে ২০১৬, ০৯:৩৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

আমরা জাতীয়ভাবে দোষারোপের সংস্কৃতিতে বসবাস করছি। মুরগি চুরি থেকে শুরু করে হত্যা- দেশে যা কিছু ঘটুক না কেনো, সরকারি দল বিরোধী দলকে, বিরোধী দল সরকারি দলকে দোষ দেবে। আর জনগণ? তারা দোষ চাপাবে ক্ষমতাসীন দল বা রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ওপরে। এই হল মোটামুটি চিত্র। আমরা কেউ দেশের অশুভ অনাকাঙ্ক্ষিত, অপরাধমূলক কাজের দায় নিতে চাই না- না সরকার, না অন্য কোনো রাজনৈতিক দল, না জনগণ। এই যে দেশে ধারাবাহিক-খুন হত্যা হচ্ছে, এগুলো তো ফাকা কোনো মাঠে হচ্ছে না। জনগণের ভেতরেই হচ্ছে। অভিজিৎ রায় থেকে শুরু করে হালের জুলহাজ মান্নান কেউ জনবিচ্ছিন্ন স্থানে খুন হননি। খুনিরা জানে জনগণ ভয়ে হোক আর শঙ্কায় হোক, এগিয়ে আসবে না। তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভিড় ঠেলে যাকে ইচ্ছে হত্যা করে যাচ্ছে। এর বাইরেও নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা দেশে ঘটছে, জনগণের সামনেই ঘটছে। শিশু রাজিউলকে যে পিটিয়ে মারা হয়েছিল তারও সাক্ষী ছিল জনগণ। দেশের জনগণ সচেতন হলে আমাদের আর দেশের আইন ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে হায় হায় করতে হতো না। 

একটি সচেতন দেশের নাগরিকদের মতো আচরণ না করে আমরা একটি সচেতন রাষ্ট্র প্রত্যাশা করি কোন জ্ঞানে? দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বের হতে না পারলে সার্বিকভাবে মানবমুক্তি সম্ভব নয়। রাষ্ট্র চাইলেও পারবে না। এই যে খুনিদের ধরতে পারছে না, পুলিশ। আমরা তাদের দোষ দিচ্ছি। একবারও প্রশ্ন করেছি, তারা জনগণের কাছ থেকে কোনো সুবিধা পাচ্ছে কিনা? সময় এসেছে জনগণকে এসব ক্ষেত্রে আরো বেশি ইনভল্ব হওয়ার। রাষ্ট্র বাসের অযোগ্য হয়ে উঠলে তার দায় কেউ এড়াতে পারবে না, না জনগণ, না সরকার, না অন্যকোনো রাজনৈতিক দল।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন