শিরোনাম :

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হক আদর্শিক প্রেরণা


বুধবার, ১১ মে ২০১৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

জামায়াতের আমির ও আল বদর কমান্ডার মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির রায় বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে শেষ হলো একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বিচারের অধ্যায়। এর আগে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান ও কাদের মোল্লার দ- কার্যকর হয়। সাড়ে চার দশক পর হলেও ইতিহাসের এই শুদ্ধিকরণ সম্ভব হল। এর মধ্যদিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের আত্মা শান্তি পাবে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা শুধু মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের রক্ত-ঋণ শোধের দায় থেকে নয় দেশের ইতিহাস শুদ্ধিকরণের বিষয়ও। আগামী প্রজন্ম দেশের প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারবে।

১৯৭১ সালে যারা জাতীয় পতাকার বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করেছিল, ২০০১ সালে সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যখন রাষ্ট্রের মন্ত্রী হয়ে পতাকাশোভিত গাড়িতে করে ঘুরে বেড়িয়েছেন, তখন দেশের ইতিহাস নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এজন্য বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রয়াস অভিনন্দন পাবে।

যুদ্ধাপরাধের বিচারের প্রক্রিয়াটি মোটেও সহজ কোন বিষয় ছিল না। দেশে বিদেশে নানা চাপ ছিল। সেই চাপ ভালো ভাবে সামলে বর্তমান সরকার প্রধান মাননীয় শেখ হাসিনা যেভাবে বিচার প্রক্রিয়া সম্পাদনের শেষপ্রান্তে এসেছেন তাতে আমরা জাতি হিসেবে গর্ব বোধ করছি।

এখন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দ- কার্যকর হওয়ার পর প্রশ্ন উঠেছে, এরপর আওয়ামী লীগের এজেন্ডা কি হবে? এই গণদাবী বাস্তবায়নই তো শেষ কথা নয়। যুদ্ধাপরাধীদের দল হিসেবে চিহ্নিত জামায়াত খুব শিগগিরই নতুনভাবে ফিরে আসার পরিকল্পনা করছে। দলটিকে নিষিদ্ধ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। তিনি বলেছিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধীদের সকল সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে। যদি বর্তমান সংবিধানের মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত সম্ভব না হয়, তাহলে সেটি পরিবর্তন করে সকল যুদ্ধাপরাধীর সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে।’ এ কাজটি করা উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হল যদি অন্য নামে দলটি আবার সংঘটিত হয়? রাজনৈতিক শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে কেবল জামায়াতকে নিষিদ্ধ বা যুদ্ধাপরাধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করলেই হবে না, মৌলবাদী রাজনীতির পৃষ্ঠপোষকদের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। যে কোনো ধরনের মৌলবাদী তৎপরতা রুখে দিতে হবে। তার জন্যে কি সরকার প্রস্তুত? দেশে ব্লগার নামে যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হচ্ছে, সেখানে এই সরকার কতটা অ্যাকটিভ? এখন এই প্রশ্নগুলো সামনে আসছে।
বর্তমান সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেড়ে গেছে। একমাত্র ক্ষমতাসীন সরকারই পারে দেশ থেকে সবধরনের মৌলবাদ উৎখাত করতে। সেই সঙ্গে দেশে যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা এখনো প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছে তার প্রতিকার করতে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থেকে নৈতিক ও আদর্শিক শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার এগিয়ে যাবে এই প্রত্যাশা এখন আমাদের।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন