শিরোনাম :

সাধুবাদ বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশনকে


সোমবার, ৩০ মে ২০১৬, ০২:০৮ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

বলা যায় দেশের মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বায়োমেট্রিক সিম রেজিস্ট্রেশন একরকমের শেষ পর্যায়ে। জুন মাস থেকে অনিবন্ধিত সব সংযোগ বন্ধ হয়ে যাবে বলে সরকারিভাবে আগেই জানানো হয়েছে। সিম নিবন্ধনের সময় বৃদ্ধির সুযোগ পেয়ে দেশজুড়ে নিবন্ধিত হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ সিম। নিবন্ধিত হতে এখনো বাকি আছে কয়েকলাখ সিম। তারপরও ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে সফল বলা চলে। নানা ধরনের অপপ্রচার ও বাধার মুখে ১৬ কোটি মানুষের দেশে ১০ কোটি সিম নিবন্ধিত হওয়া চারটে খানিক কথা না।

কে কটি সিম ব্যবহার করছেন পাশাপাশি কোন উদ্দেশ্যে সেই সব সিম ব্যবহার করছেন এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্যে সিম নিবন্ধনের দরকার ছিল। আর সে কারণেই সরকারের এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের ফলে ব্যবহারকারীদের পরিচয় সম্পর্কে একটি ডেটাবেজ তৈরি হচ্ছে। এরফলে মোবাইল ফোনের অপব্যবহারও অনেকাংশে হ্রাস পাবে। যদিও পরবর্তী যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে সেটি মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে।

শুরুতে কিছু ভুল বিশ্বাস তৈরি হওয়ার কারণ কারণ হল, যে পদ্ধতিতে সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে তাতে কিছু ফাঁক ছিল। কেননা, যারা এই দায়িত্বে ছিলেন তাদের বেশিরভাগই দেখা গেছে অনভিজ্ঞ। এই ধরনের কাজে আরও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন ছিল। বিশেষ করে সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধনের জন্য মোবাইল অপারেটর কোম্পানির দক্ষ কর্মীদের সাময়িকভাবে রাখা যেতে পারত। তাতে তথ্য ভুল দেওয়া কিংবা প্রতারকদের নিবন্ধনের দুঃসাহস হতো না(গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে শতাধিক সিম নিবন্ধিত হয়েছে)। এর ফলে যাচাই-বাছাইয়ের কাজটিও অনেকটাই সহজ হয়ে যেত। এখন এই যাচাই-বাছাইয়ের কাজটি কারা করবে, সে দিকটিও সরকারকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

এদিকে, ১ জুন থেকে নিবন্ধিত যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করবেন, তাদের সেবা নিরবচ্ছিন্ন রয়েছে কিনা সেটিও দেখার প্রয়োজন রয়েছে। কেননা অনিবন্ধিত সিম বন্ধের কাজ করতে গিয়ে সব সংযোগেই এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। সার্ভারে এমন সমস্যা হওয়াটাই স্বাভাবিক। সার্ভারে কাজ করার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে নিবন্ধিত সিমও সাময়িক বন্ধ হয়ে গেলে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই প্যানিক এড়াতে এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

দেশে নানা ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় শক্ত নেটওয়ার্ক তৈরিতে মোবাইল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এক্ষেত্রে দেশের জনগণের নিরাপত্তার জন্যেই একটু জবাবদিহিতামূলক নীতির আওতায় থাকা উচিত। এটিকে গণতন্ত্রের পথে বাধা ভাবার কোনো কারণ নেই। বর্তমান সরকার যেটি করছে তার সঙ্গে জনস্বার্থ জড়িত। তাই দেশের জনগণের উচিত হবে সরকারকে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন