শিরোনাম :

কোন পথে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা?


মঙ্গলবার, ৩১ মে ২০১৬, ০৭:৫১ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

একটি বেসরকারি চ্যানেলের প্রচারিত একটা সংবাদ-ক্লিপে দেখা গেছে এবার এসএসসিতে এ+ পাওয়া কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের সাধারণ কিছু প্রশ্ন করা হচ্ছে যা তারা উত্তর দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। কয়েকটি প্রশ্ন এবং উত্তর ছিল এরকম:
নেপালের রাজধানী কি? - নেপচুন।
জাতীয় সংগীতের রচয়িতা কে? - কাজী নজরুল ইসলাম।
রণ সংগীতের রচয়িতা কে? - রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
অপারেশন সার্চ লাইট কি? - অপারেশনের সময় ব্যবহৃত লাইট।
পিথাগোরাস কে? - একজন ঔপন্যাসিক।

এছাড়াও বাংলাদেশে স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ও মাতৃভাষা দিবস সম্পর্কেও তাদের স্পষ্ট ধারণা নেই বলে দেখা গেছে। একটি নির্দিষ্ট প্রজন্মে এই ছেলেমেয়েগুলো সর্বোচ্চ মেধাবী বলে স্বীকৃত। এরা আগামী দিনের জাতীয় জীবনে নানাভাবে ভূমিকা রাখবে। কেউ কেউ রাষ্ট্রপরিচালনায়ও আসতে পারে। এখন প্রশ্ন হল, এ প্লাসধারীদের এই অবস্থা হলে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের কি অবস্থা? আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মাপকাঠিতে এইসব ছেলেমেয়ে নিশ্চয় অনন্য মেধাবী বলে স্বীকৃত। এখন ভাববার বিষয়, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মাপকাঠির এমন বেহাল দশা কেন? যে ছেলে ‘আমি এ প্লাস পেয়েছি’ এই বাক্যটার ইংরেজিতে ভাষান্তর করতে পারে না, সে কিভাবে এ প্লাস পায়?
অর্থাৎ সামগ্রিক ভাবে শিক্ষা ব্যবস্থার যে অধঃপতন তার একটা চিত্র এদের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়। বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে স্বয়ং শিক্ষাবিদরাই খুশি নন। নানাভাবে গত কয়েক বছরে দেশের বুদ্ধিজীবী মহল অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন। কিন্তু সময়োপযোগী সমাধান কেউ দিতে পারেননি। বাংলাদেশের ইংরেজি মাধ্যমগুলোতে জাতীয়তাবাদের বেসিক বিষয়গুলো ছেলেমেয়েরা না শিখেই কথিত ভালো ফলাফল করে ভালো প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষার জন্যে ভর্তি হচ্ছে। বলা বাহুল্য, সেখানেও ভালো করছে। সার্বিকভাবে এই আমাদের এই শিক্ষা ব্যবস্থার দীনতা আমাদের একটি মেরুদণ্ডহীন ভবিষ্যতের দিকে অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত বহন করছে।

এর জন্যে সিলেবাস নিয়ে নতুনভাবে কাজ করতে হবে। তবে সবচেয়ে বড় কথা হল, সিলেবাসে সব থাকবে কেন? স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস, বিজয় দিবস, এগুলো তো পাঠ্য বইয়ে মুখস্থ করার বিষয় নয়। শিক্ষকরা অন্যভাবে শেখাতে পারেন। আগে স্বাধীনতা দিবসে প্রতিটা স্কুল ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করতো। দিনভর নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে স্কুলগুলোতে দিনটি উদযাপিত হত। এখন আর সেসব হতে দেখা যায় না।
শিক্ষকদের পাশাপাশি অগ্রগণ্য ভূমিকা রাখতে পারেন বাবা-মারা। এসব সাধারণ শিক্ষা পরিবার থেকেই শিশুরা শিখবে। পরিবার যদি মুখস্থ বিদ্যার দিকে শিশুদের ধাবিত করে তবে একটি সুস্থ বিকশিত প্রজন্ম কখনই প্রত্যাশা করা যাবে না।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন