শিরোনাম :

বিপুল প্রত্যাশার বাজেট, বাস্তবায়ন চাই


রবিবার, ৫ জুন ২০১৬, ০৭:৫৪ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

সরকারি আয়-ব্যয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনের বিষয়টি মাথায় রেখে গত ২ জুন মহান জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিক দুই মেয়াদের টানা অষ্টম বাজেট দিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। সামাজিক নিরাপত্তার আওতা গত বছরের চেয়ে এবার ২২ শতাংশ বেড়েছে। বয়স্ক ভাতা পাবে ৩১ লক্ষ ৫০ হাজার বৃদ্ধ। ভাতা বেড়েছে ১০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায়। বিধবা ভাতা, স্বামী নিগ্রহ, দুস্থ নারী ভাতা পাবে ১১ লাখ ৫০ হাজার জন। তারাও পাবে ১০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা করে। ভিজিএফ কার্ডের সংখ্যা দুই লক্ষ ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখে উন্নীত করা হয়েছে।

মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগকারীর সংখ্যা ৯০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। পৌর এলাকার ১ কোটি ৮০ হাজার ৩শ’ দরিদ্র মাকে ল্যাক্টেটিন মাদার সহায়তার কর্মসূচিভুক্ত করে ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা ১০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা করা হয়েছে। ভাতাভোগীর সংখ্যা ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার করা হয়েছে। প্যারালাইসিস আক্রান্ত, হিজড়া, বেদে, চা শ্রমিকসহ অন্যান্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কেউ বাদ যায়নি সামাজিক নিরাপত্তা বলয় থেকে। ৫০০ টাকা অতি সামান্য হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের নিকট এই টাকার গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এখন ৬০০ টাকা দিয়ে ২০ কেজি মোটা চাল পাওয়া যায়।

সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টির পর এবারের বাজেটের অন্য একটি উল্লেখ্য বিষয় হচ্ছে শিক্ষা ও সংস্কৃতি খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি। বিগত ৮ বছরে আমাদের বাজেটের আকার তিনগুণ বেড়েছে। ২০০৯-১০ অর্থ বছরে যেখানে বাজেটের আকার ছিল ১,১৩,৮১৫ কোটি টাকা। তা বেড়ে এই বছর দাঁড়িয়েছে ৩,৪০,৬০৫ কোটি টাকায়। দীর্ঘদিন থেকে আমরা বলে আসছিলাম শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। ‘১৮৬৮ সালে জাপানে মেইজি রেস্টোরেশন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। এই সময়ে জাপানে স্বাক্ষরতার হার ছিল ইউরোপের চেয়ে বেশি। ১৯০৬-১১ সালে জাপানের মোট বাজেটের ৪৩ শতাংশ বরাদ্দ ছিল শিক্ষায়।

জননিরাপত্তা খাতে আমাদের বরাদ্দ বরাবরই কম ছিল। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার অঞ্চলিক বিবেচনায়ও পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাত ছিল সর্বনিম্ন। আমরা সবাই নিরাপত্তা চাই। কিন্তু নিরাপত্তা প্রদানকারীদের সংখ্যা ও সক্ষমতা না বাড়িয়ে তা সম্ভব নয়। এই ক্ষেত্রে এবার বরাদ্দ কিছুটা বেড়েছে যা বাজেটের ৬.২ শতাংশ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা বলে আসছি কেবল মাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রধান হুমকি জঙ্গিবাদ দমন সম্ভব নয়। সর্বব্যাপী একটি সামাজিক সাংস্কৃতিক আন্দোলন জঙ্গি উত্থানের প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করতে পারে। আমাদের সাংস্কৃতিক ও শিশু সংগঠনগুলোকে সক্রিয় করতে হবে। ১৬ কোটি মানুষের দেশে সংস্কৃতি খাতে দৈনিক বরাদ্দ ছিল মাত্র এক কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট ৩৬৫ কোটি টাকা। এবার তা বাড়িয়ে ৪২১ কোটি টাকা করা হয়েছে।

শিক্ষা-সংস্কৃতি, সামাজিক ও জননিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি সরকারের দয়ালু মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এই সকল কাজে অর্থ সংস্থানের জন্য রাজস্ব আদায়ে যে নিষ্ঠুরতা প্রদর্শন প্রয়োজন তা দেখানো হচ্ছে না। গত বছর রাজস্ব আদায় লক্ষ্য অর্জনের দিক থেকে হতাশাব্যঞ্জক। তারপরও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে গত বছরের চেয়ে ২৫ শতাংশের বেশি। এই বছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য দুই লাখ ৪২ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা।

প্রতিবারের ন্যায় এবারের বাজেট বিশাল আকারের। এই বাজেটের কার্যকরী ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে আমাদের মানব উন্নয়ন ও দক্ষতা বাড়ানো এবং গবেষণা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। প্রযুক্তি, গবেষণা ও উন্নয়নে জোর দিতে হবে। আগামী দিনে প্রবৃদ্ধির ধারা বজায় রাখতে হলে এর বিকল্প নেই। কারণ, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি করতে না পারলে এই প্রবৃদ্ধি টেকসই হবে না। তবে সরকার আমদানিকৃত পণ্যের ওপর থেকে সম্পূরক শুল্ক তুলে নিয়ে নীতিগতভাবে ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারণ, আমরা আর কত দিন নিজেদের পণ্যকে এভাবে সুরক্ষা দেব? আমাদের তো প্রতিযোগিতায় নামতে হবে। নতুন ভ্যাট আইন সরকার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েও শেষমেশ প্যাকেজ মূসকেই ফিরে গেল। আসলে এই নতুন ভ্যাট আইন নিয়ে সরকারের প্রস্তুতির ঘাটতি ছিল। পরবর্তীকালে সরকারকে আরও প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামতে হবে। কারণ, সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে বা নিয়মিত উন্নয়নকাজে অর্থায়নের ব্যাপারটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। টাকা কোথা থেকে আসবে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন