শিরোনাম :

মানবপাচার! এর শেষ কোথায়?


শুক্রবার, ১৭ জুন ২০১৬, ১০:৪৬ পূর্বাহ্ণ, বাংলাপ্রেস ডটকম ডটবিডি

 

বর্তমান বিশ্বজুড়ে অন্যতম আলোচিত বিষয় এখন মানবপাচার। মানবপাচারকারী এবং ঠিকানা অনুসন্ধানী মানুষের টার্গেট এখন উন্নত রাষ্ট্র। ফলে গোটা ইউরোপ এখন আক্রান্ত। এর দুটি স্বরূপ আছে। এক. যুদ্ধাক্রান্ত দেশে মানুষ গৃহহীন হয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে জীবনের রিস্ক নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিচ্ছে। দুই. তৃতীয় বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের বেকার জনগোষ্ঠী কাজের সন্ধানে অবৈধভাবে সমুদ্রপাড়ি দিচ্ছে। দ্বিতীয়টি বেশি ভয়ঙ্কর, ভাবনার। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অচেনা দেশে কাজের নামে ভ্রমণ ভিসায় মানুষ পাচার করা হচ্ছে অহরহ। বাংলাদেশও এখন এই বেল্টের ভেতর আছে। এসব দেশে কখনও কখনও দালালসহ ধরা পড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে। উদ্ধার করা হচ্ছে বিপুল পরিমাণ জাল পাসপোর্ট। কিন্তু তাতে থেমে নেই আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র।

মানব পাচারসূত্র জানায়, কাজের কথা বলে নারীদের দেশের বাইরে পাঠানো হলেও তাদের কোনও কাজ দেওয়া হয়নি। দিনের পর দিন তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। বিদেশে জিম্মি করে দেশে তাদের স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়েছে। তবে কতো সংখ্যক মানুষ পাচার হয়েছে তার সঠিক কোনও পরিসংখ্যান নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। সূত্র মতে, মানবপাচারের ক্ষেত্রে এখন কৌশল বদলাচ্ছে পাচারকারীরা। তারা একজন একজন করে টার্গেট করে দেশের বাইরে পাচার করে দিচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কক্সবাজার থেকে থাইল্যান্ড হয়ে মালয়েশিয়ায় মানবপাচার করে প্রতিবছর সংগ্রহ করা হয় প্রায় ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এমনকি অপহৃত ব্যক্তিদের জিম্মি করে পরিবার থেকে অর্থ আদায় করা হয়ে থাকে।

এ বছরের মার্চে রাজধানীর পল্টন থেকে উগান্ডায় মানবপাচারের অভিযোগে জাঙ্গাগীর আলম মিন্টু (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে র‌্যাব। তিনি অর্ধশত মানুষকে টুরিস্ট ভিসা দিয়ে উগান্ডায় পাঠিয়েছিলেন। পরে উগান্ডার পুলিশ তাদের আটক করে। আটক করার পর তাদের জেল হয়। জেল থেকে মুক্ত হয়ে দেশে ফেরার পর র‌্যাব সদর দফতরে জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তারা। অভিযোগের তদন্ত করে জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাব।

এর আগে ফেব্রুয়ারিতে রাজধানীসহ যশোর ও গাজীপুরে অভিযান চালিয়ে আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের ৮ সদস্যকে আটক করে র‌্যাব। এসময় উদ্ধার করা হয় ৪ নারীকে। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১২টি পাসপোর্ট, ১১টি ভিসা, ৫১টি বিমানের জাল টিকিট এবং ৫৩টি বিদেশে চাকরির ভুয়া নিয়োগপত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া, যশোরের বেনাপোল থেকে সোহাগী ও শিরিনকে এবং দক্ষিণ কেরানিগঞ্জ থানা এলাকা থেকে শারমীন ও রিয়াকে মানবপাচারকারী চক্রের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এগুলো আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আলোতে যা আসছে যা ঘটছে তার সামান্যই। বাংলাদেশ এখন ভিন্ন একটা বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে। অনুন্নত রাষ্ট্র থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে দেখা হচ্ছে বহুদিন থেকে। একটা উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের এই চিত্র কাম্য নয়। বাংলাদেশে বেকার জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে সত্যি, কিন্তু এটাও সত্যি যে এখানে ব্যাপক কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ আছে। মোটামুটি ভাবে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখন স্থিতিশীল, কাজেই সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলো একাজে এগিয়ে আসতে পারে। বিদেশে বিনিয়োগ কিংবা অর্থ রিজার্ভ না রেখে দেশে বিনিয়োগ করে দেশের অর্থনীতিতে যেমন অবদান রাখা সম্ভব তেমন এতে চিরস্থায়ী সামাজিক স্থিতিশীলতাও রক্ষা করা যায়।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশের আদমজী জুট মিলস এর মতো বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাইভেট সেক্টরে দিয়ে দিতে হবে। আর সরকারিভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল যোগান দিতে হবে। যেমন দেশে সরকারিভাবে পাঠ বা আখের চাষ বৃদ্ধি করা যায়। সরকার শুধু কৃষকদের ভর্তুকি না, খাস জমিতেও যদি চাষের ব্যবস্থা করে তাহলে খুব ভালো হয়। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিকেই মূলশক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। সঙ্গে যুক্ত হবে দেশটির সম্ভাবনাময় ও অপার কর্মক্ষম মানবশক্তি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

মন্তব্য করুন